ঢাকা দুপুর ১:১৩, বুধবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

তাঁতী লীগ সভাপতির যত অপকর্ম, নারী কেলেঙ্কারি-জামায়াতপ্রিতিসহ নানা অভিযোগ

দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০১৭ সালে সম্মেলণ হয় আ’লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ তাঁতী লীগের। সম্মেলণে সভাপতি পদে আসেন ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী আর সাধারণ সম্পাদক পদে আসেন খগেন্দ্র চন্দ্র।

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর সম্মেলণের মাধ্যমে তাঁতী লীগ নতুন কমিটি পেলেও তাঁতী লীগে আসেনি নতুনত্ব। গতিশীল হয়নি সংগঠনের কার্যক্রম। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি-সম্পাদকসহ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদদারী নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠেছে সহস্র অভিযোগ।

কমিটি বাণিজ্য, বিএনপি-জামায়াত নেতাদের দলে পদায়ণ, একাধিক বিয়ে ও নারী কেলেঙ্কারিরমত ঘটণায়ও অভিযুক্ত হয়েছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শওকত। বর্তমান তাঁতী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শওকত আলীর হাত ধরে পদায়ণ হয়েছেন জামায়াত নেতা হেলাল উদ্দিন মোল্লা, কে এম ফরিদ হাসান, চট্টগ্রামের ৮ ছাত্রলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামী জাফর ও নুর ই খোদা মঞ্জু এবং বিএনপি নেতা তানভীর ইমাম যুবরাজ, সজল, আব্দুল লতিফ ও আকাশসহ জাতীয় পার্টি ও পিডিপির একাধিক নেতা। ১/১১ এর সময়কালে পিডিপির ব্যনারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন করার অভিযোগে জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, নেছার আহমেদ ও আবু সুফিয়ানসহ কয়েকজনকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে বহিস্কার করা হয়। পরবর্তীতে এদের তাঁতী লীগে পদায়িত করেন শওকত আলী। এতে তাঁতী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হলে কেন্দ্রীয় আ’লীগের নির্দেশনা মোতাবেক তাদের বহিস্কার করা হয়। বর্তমানেও তাদের তাঁতী লীগে পূণরায় পদায়িত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন শওকত।

তাঁতী লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শওকত আলীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়েসহ নারী কেলেঙ্কারীরও অভিযোগ রয়েছে। এতে তাঁতী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করতেছে। কেন্দ্রীয় সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠে আসা এসকল অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কেন্দ্রীয় আ’লীগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁতী লীগের একাধিক নেতা। জানা যায়, তাঁতী লীগ সভাপতির পদ ব্যবহার করে শওকত আলী প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার ছোট বোন, অভিনয় শিল্পী, কলেজ ছাত্রী, নরসিংদীর একজন মহিলা ইউপি সদস্য, নারায়ণগঞ্জের এক স্বামী পরিত্যাক্ত মহিলাসহ আরো একাধিক নারীকে বিয়ে এবং পরবর্তীতে তালাক প্রদান করেন।

এছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে এনে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনেক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বয়সের ভারে নুহ্য হলেও এখনো নারীসঙ্গ তার নেশায় পরিণত হয়েছে।

তাঁতী লীগের সভাপতি শওকত আলীর বিরুদ্ধে খোদ তার এলাকার আ’লীগ নেতৃবৃন্দ তুলে ধরেছেন নানা অভিযোগ। মাধবদী উপজেলা ও পৌর আ’লীগের নেতাকর্মীরা জানান, শওকত আলীর প্রধান লক্ষই হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের সাথে যুক্ত থাকা। যখন যে দল ক্ষমতায় আসবে সে ওই দলে যোগ দিবেন। এবং লবিং করে কোন একটা পদে আসীন হবেন। কখনো বিএনপি, আবার কখনো জাতীয় পার্টি, কখনো আওয়ামী লীগ। তিনটি রাজনৈতিক দলেই গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেছেন দলগুলোর সুসময়ে। এরুপ স্ট্যান্ডবাজি করে এখন ক্ষমতাসীন দলের পদে আসীন হয়েছেন তিনি। একসময় নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক থাকলেও অর্থবিত্ত আর লবিং-তদবিরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের সভাপতি বনে গেছেন ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী। জানা যায়, ১৯৭৭ সালে নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী রাজনীতির যাত্রা শুরু। ১৯৮১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি বিএনপি ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। এরপর টানা ৯ বছর জাতীয় পার্টিতে ছিলেন।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচার আন্দোলনে এরশাদ সকারের পতন হলে ১৯৯১ সালে তৎকালীন বিএনপির এমপি সামসুদ্দিন এছাকের হাত ধরে পুনরায় বিএনপিতে যোগ দেন।

১৯৯৬ সালে ক্ষমতার পালাবদল হলে ৯৭ সালে শওকত আলী পুনরায় আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। কিন্তু বিধিবাম, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। তখন তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজনীতি থেকে অবসরে চলে যান।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরে ২০০৯ সালে তিনি পুনরায় আওয়ামী লীগের রাজনিতিতে যোগদান করেন।

এরই মধ্যে এক সময়ের জাপা ও বিএনপির নেতা ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী ২০১৭ সালে হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় তাঁতীলীগের সভাপতি বনে যায়।

শওকত আলী নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবী করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নরসিংদী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোতালিব পাঠান বলেন, শওকত আলী মুক্তিযোদ্ধা নই। আমাদের তালিকায় তার নাম নেই। উনি কিভাবে নামের সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধা লিখেন, তা আমার বোধগম্য নই।

নরসিংদী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেজবা উদ্দিন ইরান বলেন, শওকত আলী ইঞ্জিনিয়ার একসময় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল।

মাধবদী ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনির পাঠান বলেন, উনির (শওকত আলী) সবসময় ক্ষমতায় থাকতে হবে। তাই যে দল ক্ষমতায় আসে, সেই দলে যোগ দেয়। তাছাড়া উনার কোন ব্যবসাও নেই। ক্ষমতাকে পুঁজি করে অর্পিত সম্পত্তি, ভেজাল ও ওয়ারিসভুক্ত সম্পত্তি ক্রয় করে বেশি দামে বিক্রি করেন তিনি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলীর সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিভাগের আরও সংবাদ