০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

মহাবিশ্ব ও আমাদের পরিণতি

বিভিন্ন গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপমতে মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। ১ বিলিয়ন= ১০০ কোটি বছর। সে হিসেবে ১৪ বিলিয়ন= ১৪০০ কোটি বছর। জ‍্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূতাত্ত্বিকদের মতে সূর্য মহোদয় ও পৃথিবীর বয়স ৪৫০ কোটি বছরের মতো। আমি খুব সহজভাবে মহাবিশ্ব, সূর্য, পৃথিবী ও আমাদের পরিণতি সম্বন্ধে কিছু ধারণা দিচ্ছি।

পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি হয় আনুমানিক ৩৫০ কোটি বছর আগে। বিজ্ঞান ও ধর্ম দুটি মতেই প্রাণের সৃষ্টি হয় সাগরে। বিবর্তনশেষে পৃথিবীতে আধুনিক মানুষের উদ্ভব হয় প্রায় ২লক্ষ বছর আগে। উৎপত্তিস্থল আফ্রিকার বতসোয়ানা। বিবর্তন বলতে এখানে আমি গরিলা, শিম্পাঞ্জি ও বানর থেকে মানুষের উদ্ভব হয়েছে সেটা বুঝাচ্ছি না। বানর থেকে যে মানুষের উৎপত্তি হয়েছে- এ তত্ত্ব আমার বিশ্বাস হয় না। এখনো বিজ্ঞান স্বত:সিদ্ধভাবে এই তত্ত্ব প্রমাণ করতে পারেনি। তাছাড়া লক্ষ লক্ষ বছরের মধ‍্যেও বানর থেকে একজন মানুষেরও উৎপত্তির কোনো নজির আমরা দেখিনি। তবে ডারউইনের এই উক্তিটি আমার কাছে যুক্তিযুক্ত লাগে-
‘Nothing in Biology makes any sense except in the light of evolution’
অর্থাৎ- ‘জীববিজ্ঞানের কোনো কিছুই বিবর্তনতত্ত্ব ছাড়া ব‍্যাখ‍্যা করা যায় না।’

তবে আদি পৃথিবীর অবস্থা প্রাণসৃষ্টির অনুকূলে ছিলো। আমরা এই পৃথিবী, মহাবিশ্ব এমনকি নিজেদের সম্বন্ধেও অতি সামান‍্য জানি। তবে আমাদের চেষ্টা, চিন্তা অদম‍্য, অসীম। আমরা এই মহাবিশ্বের মাত্র ২-৫% দেখতে পাই। ৯৫-৯৮% ই আমরা দেখতে পাই না। আর আমরা যে আলোকরশ্মি দেখি তাতে অন্ধকারই বেশি। এই মহাবিশ্বের কোনো কূল-কিনারা নেই। এমনও নক্ষত্র রয়েছে যার আলো এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়নি। অথচ সেই নক্ষত্র থেকে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল বেগে বিরামহীনভাবে পৃথিবীর দিকে আলোর যাত্রা অব‍্যাহত আছে। কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে তারকা থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়ে বলেই ঐ তারকা আমাদের কাছে দৃশ‍্যমান হয়।

বড় রহস্যময়, বড় বিচিত্র, বড় হেয়ালি এই মহাবিশ্ব। গবেষণামতে ১৪ বিলিয়ন বছর আগে এই মহাবিশ্ব শূন‍্য ছিলো। শূন‍্য বলতে ফাঁকা জায়গা তা নয়। শূন‍্য মানে তখন স্থান, কাল কোনো কিছুই ছিলো না। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিন্দুতে মহাবিস্ফোরণের ফলে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়। এই সামান‍্য বিন্দুতে মহাবিপুল শক্তি কোথা থেকে কীভাবে ঘনায়মান হলো তা এখনো অজানা। বিজ্ঞান শুধু মহাবিস্ফোরণপরবর্তী ঘটনা কিছুটা ব‍্যাখ‍্যা করতে পারে। কিন্তু এর আগের দশা সম্বন্ধে বিজ্ঞান শিশুর মতো। কিছুই জানা যায় না সেই স্থানকালবিহীন মহাশূন‍্যতা সম্বন্ধে। সেই স্থানকালশূন‍্য অনাদিতে কে ছিলেন তা আমরা জানি না। জানতে পারিও না। তবে বিজ্ঞান না বুঝুক, আমাদের চৈতন‍্য বলে সেই মহাশূন‍্য অবস্থায় একজন ঠিকই ছিলেন; সবকিছু যার মধ‍্যে ধারণ করা ছিলো। তিনি নিজেকে প্রকাশ করতে চাইলেন। অত:পর সবকিছু প্রতিভাত হলো।

সূর্যের শক্তির উৎস হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম। বিজ্ঞানীদের গবেষণা বলছে- যে পরিমাণ হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম রয়েছে সূর্যে তা দিয়ে সে আর কয়েক মিলিয়ন বছর চলতে পারবে। সূর্য মরণগহ্বরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে পৃথিবীও চিরবিলীন হয়ে যাবে। আর মানুষ, মানবসভ্যতা, মানবতাকে পদদলিত করে দাঁড়িয়ে থাকা অহংকারী নগর, শিল্প, অট্টালিকা সমস্ত কিছুই ধ্বংসের অতলতলে নিমজ্জিত হবে।
মহাবিস্ফোরণের পূর্বে জ্ঞানাতীত সেই মহাশূন‍্য অবস্থায় যিনি মহাশক্তিধররূপে অধিষ্ঠিত ছিলেন; সবকিছু ধ্বংসশেষে তিনিই কেবল মহিমান্বিত, মহাপরাক্রান্ত সত্ত্বা হিসেবে দন্ডায়মান থাকবেন। সৃষ্টির পূর্বে তিনি যেমন নি:সীম একলা ছিলেন; সৃষ্টির ধ্বংসশেষেও তিনি অনাদি একলা থাকবেন। তিনি সৃষ্টিজগত তথা মানুষকে যেমন শূন‍্য থেকে সৃষ্টি করেছেন, তেমনি ধ্বংস বা মৃত‍্যুশেষেও তিনি মহাবিশ্ব তথা মানুষকে পুন:সৃজন করার ক্ষমতা রাখেন। মানুষকে তার কৃতকর্মের হিসাব দিতেই হবে। অতএব যার বোঝার বুঝুক; যার না বোঝার না বুঝুক।

(১) যখন পৃথিবী মহাকম্পনে প্রকম্পিত হবে
(২) যখন ভূগর্ভ তার বোঝাসমূহ বের করে দেবে
(৩) এবং মানুষ বলবে, এর কি হলো?
(৪) সেদিন পৃথিবী তার সকল বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে।
(৫) কেননা আপনার পালনকর্তা তাকে প্রত্যাদেশ করবেন।
(৬) সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্মসমূহ দেখানো যায়।
(৭) অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা সে দেখতে পাবে।
(৮) আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও সে দেখতে পাবে।
(সূরা যিলযাল)

– আবু সালেহ জুননুন

ট্যাগ :

পাটকেলঘাটা কুমিরায় একতা যুব সংঘের আয়োজনে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

মহাবিশ্ব ও আমাদের পরিণতি

প্রকাশিত : ০৬:২৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২২

বিভিন্ন গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপমতে মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। ১ বিলিয়ন= ১০০ কোটি বছর। সে হিসেবে ১৪ বিলিয়ন= ১৪০০ কোটি বছর। জ‍্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূতাত্ত্বিকদের মতে সূর্য মহোদয় ও পৃথিবীর বয়স ৪৫০ কোটি বছরের মতো। আমি খুব সহজভাবে মহাবিশ্ব, সূর্য, পৃথিবী ও আমাদের পরিণতি সম্বন্ধে কিছু ধারণা দিচ্ছি।

পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি হয় আনুমানিক ৩৫০ কোটি বছর আগে। বিজ্ঞান ও ধর্ম দুটি মতেই প্রাণের সৃষ্টি হয় সাগরে। বিবর্তনশেষে পৃথিবীতে আধুনিক মানুষের উদ্ভব হয় প্রায় ২লক্ষ বছর আগে। উৎপত্তিস্থল আফ্রিকার বতসোয়ানা। বিবর্তন বলতে এখানে আমি গরিলা, শিম্পাঞ্জি ও বানর থেকে মানুষের উদ্ভব হয়েছে সেটা বুঝাচ্ছি না। বানর থেকে যে মানুষের উৎপত্তি হয়েছে- এ তত্ত্ব আমার বিশ্বাস হয় না। এখনো বিজ্ঞান স্বত:সিদ্ধভাবে এই তত্ত্ব প্রমাণ করতে পারেনি। তাছাড়া লক্ষ লক্ষ বছরের মধ‍্যেও বানর থেকে একজন মানুষেরও উৎপত্তির কোনো নজির আমরা দেখিনি। তবে ডারউইনের এই উক্তিটি আমার কাছে যুক্তিযুক্ত লাগে-
‘Nothing in Biology makes any sense except in the light of evolution’
অর্থাৎ- ‘জীববিজ্ঞানের কোনো কিছুই বিবর্তনতত্ত্ব ছাড়া ব‍্যাখ‍্যা করা যায় না।’

তবে আদি পৃথিবীর অবস্থা প্রাণসৃষ্টির অনুকূলে ছিলো। আমরা এই পৃথিবী, মহাবিশ্ব এমনকি নিজেদের সম্বন্ধেও অতি সামান‍্য জানি। তবে আমাদের চেষ্টা, চিন্তা অদম‍্য, অসীম। আমরা এই মহাবিশ্বের মাত্র ২-৫% দেখতে পাই। ৯৫-৯৮% ই আমরা দেখতে পাই না। আর আমরা যে আলোকরশ্মি দেখি তাতে অন্ধকারই বেশি। এই মহাবিশ্বের কোনো কূল-কিনারা নেই। এমনও নক্ষত্র রয়েছে যার আলো এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়নি। অথচ সেই নক্ষত্র থেকে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল বেগে বিরামহীনভাবে পৃথিবীর দিকে আলোর যাত্রা অব‍্যাহত আছে। কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে তারকা থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়ে বলেই ঐ তারকা আমাদের কাছে দৃশ‍্যমান হয়।

বড় রহস্যময়, বড় বিচিত্র, বড় হেয়ালি এই মহাবিশ্ব। গবেষণামতে ১৪ বিলিয়ন বছর আগে এই মহাবিশ্ব শূন‍্য ছিলো। শূন‍্য বলতে ফাঁকা জায়গা তা নয়। শূন‍্য মানে তখন স্থান, কাল কোনো কিছুই ছিলো না। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিন্দুতে মহাবিস্ফোরণের ফলে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়। এই সামান‍্য বিন্দুতে মহাবিপুল শক্তি কোথা থেকে কীভাবে ঘনায়মান হলো তা এখনো অজানা। বিজ্ঞান শুধু মহাবিস্ফোরণপরবর্তী ঘটনা কিছুটা ব‍্যাখ‍্যা করতে পারে। কিন্তু এর আগের দশা সম্বন্ধে বিজ্ঞান শিশুর মতো। কিছুই জানা যায় না সেই স্থানকালবিহীন মহাশূন‍্যতা সম্বন্ধে। সেই স্থানকালশূন‍্য অনাদিতে কে ছিলেন তা আমরা জানি না। জানতে পারিও না। তবে বিজ্ঞান না বুঝুক, আমাদের চৈতন‍্য বলে সেই মহাশূন‍্য অবস্থায় একজন ঠিকই ছিলেন; সবকিছু যার মধ‍্যে ধারণ করা ছিলো। তিনি নিজেকে প্রকাশ করতে চাইলেন। অত:পর সবকিছু প্রতিভাত হলো।

সূর্যের শক্তির উৎস হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম। বিজ্ঞানীদের গবেষণা বলছে- যে পরিমাণ হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম রয়েছে সূর্যে তা দিয়ে সে আর কয়েক মিলিয়ন বছর চলতে পারবে। সূর্য মরণগহ্বরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে পৃথিবীও চিরবিলীন হয়ে যাবে। আর মানুষ, মানবসভ্যতা, মানবতাকে পদদলিত করে দাঁড়িয়ে থাকা অহংকারী নগর, শিল্প, অট্টালিকা সমস্ত কিছুই ধ্বংসের অতলতলে নিমজ্জিত হবে।
মহাবিস্ফোরণের পূর্বে জ্ঞানাতীত সেই মহাশূন‍্য অবস্থায় যিনি মহাশক্তিধররূপে অধিষ্ঠিত ছিলেন; সবকিছু ধ্বংসশেষে তিনিই কেবল মহিমান্বিত, মহাপরাক্রান্ত সত্ত্বা হিসেবে দন্ডায়মান থাকবেন। সৃষ্টির পূর্বে তিনি যেমন নি:সীম একলা ছিলেন; সৃষ্টির ধ্বংসশেষেও তিনি অনাদি একলা থাকবেন। তিনি সৃষ্টিজগত তথা মানুষকে যেমন শূন‍্য থেকে সৃষ্টি করেছেন, তেমনি ধ্বংস বা মৃত‍্যুশেষেও তিনি মহাবিশ্ব তথা মানুষকে পুন:সৃজন করার ক্ষমতা রাখেন। মানুষকে তার কৃতকর্মের হিসাব দিতেই হবে। অতএব যার বোঝার বুঝুক; যার না বোঝার না বুঝুক।

(১) যখন পৃথিবী মহাকম্পনে প্রকম্পিত হবে
(২) যখন ভূগর্ভ তার বোঝাসমূহ বের করে দেবে
(৩) এবং মানুষ বলবে, এর কি হলো?
(৪) সেদিন পৃথিবী তার সকল বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে।
(৫) কেননা আপনার পালনকর্তা তাকে প্রত্যাদেশ করবেন।
(৬) সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্মসমূহ দেখানো যায়।
(৭) অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা সে দেখতে পাবে।
(৮) আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও সে দেখতে পাবে।
(সূরা যিলযাল)

– আবু সালেহ জুননুন