নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জ উপজেলায় খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মসূচির আওতায় খোলাবাজারে (ওএমএস) নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ৩০ টাকা কেজি দরের চাল ও ১৮ টাকা করে আটা বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা বিক্রির কথা থাকলেও ডিলাররা বাড়তি টাকা নিয়ে ১০ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত চাল বিক্রি করছেন।
ওএমএসের নির্ধারিত বিক্রয় কেন্দ্র থেকে চাল-আটা সংগ্রহ করতে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের কাছে চাল বিক্রি না করে বেশি টাকা নিয়ে লাইনের বাইরে থাকা লোকজনের কাছে ১০-৩০ কেজি পর্যন্ত চাল বিক্রি করছেন ওএমএসের বিক্রয় কর্মী। বেশি টাকা লাভের আশায় ডিলাররা খুচরা দামে বিক্রি করে দিচ্ছে বাহিরে ব্যবসায়ীদের কাছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে রূপগঞ্জে মুড়াপাড়া,পাড়াগাঁও,তারাবো,চনপাড়া এলাকায় ওএমএসের নির্ধারিত বিক্রয় কেন্দ্রে খবর নিতে গেলে এমন চিত্র পাওয়া যায়।
মুড়াপাড়ার এলাকার দুই সন্তান নিয়ে থাকেন কুলসুম বেগ। স্বামীর রোজকার দিয়ে তাদের সংসার আর চলে না। তাই সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কিনতে সকাল ৮ টায় লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর ২টা পার হলেও কিনতে পারেননি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অসুস্থ শরীর নিয়ে সকাল ৮ টার দিকে ১৫ জনের পেছনে লাইনে এসে দাঁড়িয়েছি। দুপুর ২টার বেশি বাজলেও এখনো চাল নিতে পারিনি। এ সময়ের মধ্যে কতজন যে চাল নিয়ে গেছে তার কোনো হিসাব নেই। চাল বিক্রেতারা ঘুষের বিনিময়ে চাল দিচ্ছে লাইনের বাইরের লোকদের। এর প্রতিবাদ করলে উল্টো অপমান অপদস্থ হতে হয়েছে এবং মারধরের ঘটনা ঘটছে।
সালমার কাছে জানতে চাইলে হতাশা আর বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন,নিয়ম মেনে ভোরে লাইনে এসে দাঁড়িয়ে ১৫ দিনের মধ্যে একদিনও পাইনি আটা। কিন্তু আমার সামনে এক ব্যক্তি তিনবার চাল ও আটা নিয়েছে। প্রতিবার ১০ কেজি করে মোট ৩০ কেজি চাল ও আটাকিনেছেন। কিন্তু আমরা অনেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে এখনো চাল কিনতে পারিনি। সব জায়গাতে দুর্নীতির রশি ঝুলছে। আপনি অতিরিক্ত টাকা দিতে পারবেন, আপনার ভাগ্যে চাল ও আটা জুটবে আর টাকা না দিতে পারলে খালি হাতে বাসায় ফিরতে হবে।
খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মসূচির আওতায় ৩০ টাকা দরে জনপ্রতি ৫ কেজি চাল ও ১৮ টাকা করে আটা করে ওএমএসের চাল ও আটা সংগ্রহের নিয়ম থাকলেও অন্য এক ব্যক্তিকে ব্যতিক্রম আটা কিনতে দেখা গিয়েছে। তার কাছে জানতে চাইলে বেশি টাকা দিয়ে আটা সংগ্রহের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ১৮ টাকা কেজি দরে আটা সংগ্রহ করেছি। কেন্দ্রের লোকজনকে টাকা দিলে তারা চাল ও আটা দেয়। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। ওদের দরকার টাকা, আর আমার চাল ও আটা।
ও এম এস এর ডিলার আশিক এন্টার প্রাইজকে ফোনে পাওয়া যায়নি ।
তানিয়া এন্টার প্রাইজ শাহানা আক্তারের সাথে কথা বলে উনি জানান, দুই টন চাল হাফ টন আটা আমরা পাই পাঁচ কেজি তিন কেজি করে আমরা জনপ্রতি দিয়ে থাকি আমার বিরুদ্ধে সমস্ত আনিত অভিযোগ মিথ্যা বলে উনি দাবি করেন।
শিকদার এন্টার প্রাইজের সোহেল রানের সাথে কথা বললে উনি জানান, আজ আমি ১০০ জনকে চাউল ও ১০০ জনকে আটা দিয়েছি তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা বললে উনি জানান আমার অভিযোগ সমস্ত মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন ।
ইকবাল এন্টারপ্রাইজের ইকবাল হোসেন জানান আমার কর্মচারীরা হয়তো দুর্নীতি করতে পারে তারা হয়তো বেশি দামে বাহিরে চাল আটা বিক্রি করে , আমি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব তবে আমার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তা আনোয়ার পারবেজ বলেন, আমাদের নিয়ম অনুযায়ী ৫ কেজি চাল ও খোলা আটায় ৫ কেজি করে এক ব্যক্তি কিনতে পারবেন। তবে কোনো তত্ত্বাবধায়ক বা বিক্রয়কর্মী যদি অর্থের বিনিময়ে অনিয়ম করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তা ছাড়া অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত কেন্দ্রগুলোতে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে খোঁজখবর নেব।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল হক বলেন, এ বিষয়ে তেমন কোন অভিযোগ করনি কেউ । আমাদের লোক পাঠিয়ে তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে। যদি কোন ডিলার দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরোধে আইনানুগ ব্যবস্থা গহন করা হবে এবং ডিলার শিপ বাতিলের ব্যবস্থা করা হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ / bh























