কয়েক দিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল, বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। শেষ পর্যন্ত সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো। পর্তুগালের সৈকত শহর কাসকাইসে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট)এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনাকে বিয়ে করেছেন রোনালদো। বাগ্দানের ঘোষণা দেওয়ার ঠিক এক বছর পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন তাঁরা।
রোনালদোর বিয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর প্রতিনিধিরা। রোনালদোর জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা ব্রান্সউইক গ্রুপ বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ‘ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া’ এই অনুষ্ঠানে দম্পতির পাঁচ সন্তান উপস্থিত ছিল।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি পোস্ট করেন রোনালদো। ছবিতে দেখা যায়, জর্জিনার হাতের ওপর রাখা রোনালদোর হাত। দুজনের অনামিকায় শোভা পাচ্ছে আংটি। ক্যাপশনে ছিল ‘সি’ ও ‘জি’ দুটি অক্ষরের মাঝে ভালোবাসার একটি ইমোজি। সমর্থকেরা তাতেই বুঝে নেন, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক এবার পেয়েছে বৈবাহিক স্বীকৃতি।
গত বছরের ১১ আগস্ট ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে রোনালদোর বাগ্দত্তা হওয়ার খবর জানিয়েছিলেন জর্জিনা। ছবিতে তাঁর অনামিকায় ছিল বড় একটি আংটি এবং রোনালদোর হাতের ওপর রাখা ছিল তাঁর হাত। ঠিক এক বছর পর বদলে গেল সেই দৃশ্য এবার জর্জিনার হাতের ওপর ভালোবাসা ও ভরসার প্রতীক হয়ে রাখা রোনালদোর হাত। আইনগতভাবেও এখন তাঁরা স্বামী-স্ত্রী।
গুঞ্জন ছিল মাদেইরাকে ঘিরে
রোনালদোর বিয়ের ভেন্যু নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা গুঞ্জন চলছিল পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমে। লিসবনের বাইরে সিনত্রা কিংবা আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ মাদেইরায়, রোনালদোর জন্মশহর ফুনশালে বিয়ে হতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
ফুনশালের একটি গির্জায় রোনালদোর বিয়ে হচ্ছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে শত শত মানুষ ভিড়ও করেন। তবে শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, বর-কনে হিসেবে গির্জায় আসা ব্যক্তিরা রোনালদো ও জর্জিনা নন।
গির্জা কর্তৃপক্ষ অবশ্য আগেই এএফপিকে জানিয়েছিল, সেখানে রোনালদোর বিয়ের কোনো অনুষ্ঠান নির্ধারিত নেই। তবে এমন একটি আয়োজন করতে পারলে সেটি তাদের জন্য ‘সম্মানের’ হতো বলেও জানিয়েছিল তারা।
শেষ পর্যন্ত লিসবন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সৈকত শহর কাসকাইসকে বিয়ের ভেন্যু হিসেবে বেছে নেন রোনালদো-জর্জিনা। শহরটিতে এই দম্পতির একটি ভিলা রয়েছে।
‘প্রথম দেখাতেই প্রেম’
৩২ বছর বয়সী জর্জিনার জন্ম আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে। ২০১৬ সালে মাদ্রিদে গুচির একটি শোরুমে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করার সময় রোনালদোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক।
জর্জিনার ভাষায়, সেটি ছিল ‘প্রথম দেখাতেই প্রেম’। ২০২৫ সালে ভোগ অ্যারাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, রোনালদোর সান্নিধ্যে আসার পর তাঁর মনে হয়েছিল, ‘আমরা একে অপরকে চিরকাল ধরে চিনি।’
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ফিফার বর্ষসেরা ‘দ্য বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো দুজনকে একসঙ্গে জনসমক্ষে দেখা যায়। একই বছরের মে মাসে ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে জর্জিনার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন রোনালদো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জুটির অনুসারীর সংখ্যা ৭৫ কোটির বেশি। ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁরা বিশ্বের অন্যতম পরিচিত তারকা দম্পতি। ফ্যাশন ব্র্যান্ড, হোটেল চেইনসহ বিভিন্ন খাতে তাঁদের বিনিয়োগ রয়েছে।
পাঁচ সন্তানকে নিয়ে পরিবার
রোনালদোর বড় ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। ২০১০ সালে জন্ম নেওয়া জুনিয়রের মায়ের পরিচয় কখনো প্রকাশ করেননি পর্তুগিজ তারকা।
২০১৭ সালের জুনে সারোগেসির মাধ্যমে যমজ সন্তান ইভা মারিয়া ও মাতেওর বাবা হন রোনালদো। একই বছরের নভেম্বরে জর্জিনার কোলে আসে তাঁদের মেয়ে অ্যালানা মার্টিনা।
২০২২ সালে জর্জিনার গর্ভে জন্ম নেয় তাঁদের যমজ সন্তান বেলা ও অ্যাঞ্জেল। তবে জন্মের কিছুক্ষণ পরই মারা যায় অ্যাঞ্জেল।
গোলের মাইলফলকে রোনালদো
পেশাদার ক্যারিয়ারে রোনালদোর গোলসংখ্যা ৯৭৬। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের হয়ে মাঠ মাতানোর পর বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন তিনি।
ক্যারিয়ারে পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন রোনালদো। পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পাশাপাশি ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালিতে লিগ শিরোপাও জিতেছেন। পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও গোল করার রেকর্ডও তাঁর দখলে।
দীর্ঘ এক দশকের সম্পর্ক, সন্তানদের নিয়ে একসঙ্গে পথচলা এবং নানা উত্থান-পতরের পর অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ।
ডিএস./






















