০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 কম সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে চলছে নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক শ্রেণির পাঠদান

শহরের প্রাণ কেন্দ্রে দাড়িয়ে আছে সুউচ্চ দালান, মনোরম পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত নীলফামারী সরকারী মহিলা কলেজ। এখানে রয়েছে নারী শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ। কিন্তু শিক্ষক সংকটই এই কলেজের প্রধান সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। নিয়মিত শিক্ষকের অভাবে এখানে খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এখানে আমাদের শ্রেণি কক্ষের তেমন সমস্যা না থাকলেও বড় সমস্যা শিক্ষকের। এ কারনে খন্ডকালীন শিক্ষকে চলে আমাদের পাঠদান। সে কারনে আমাদের প্রাইভেটের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। যা অনেকের পরিবারের পক্ষে অতিরিক্ত চাপ হয়ে দাড়াচ্ছে।

বুধবার বিকেলে কলেজ হোস্টেল থেকে বের হয়ে শহরের দিকে যাচ্ছিলেন দুই শিক্ষার্থী। হাফিজা আক্তার ও উষ্পিতা রায়। তারা দুইজনই ওই কলেজের উচ্চ মাধ্যামিক (বিজ্ঞান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। হাফিজা আক্তার বলেন, ‘আমাদের কলেজে গণিতের কোনো শিক্ষকই নেই। আমাদের গণিত ক্লাসে খন্ডকালিন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেয়া হয়। নিয়মিত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস হয় না। তাই বাহিরে প্রাইভেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।’

উষ্পিতা রায় বলেন, ‘আমরা দুই জনই ম্যাথ প্রাইভেটে যাচ্ছি। কলেজে ম্যাথের নিয়মিত শিক্ষক না থাকায় প্রাইভেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ জন্য আমাদের পরিবারকে বাড়তি খরচ জোগাতে হচ্ছে। নিয়মিত শিক্ষকের চাহিদা তো খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পুরণ করা সম্ভব না।’ এখানে গণিতের পাশাপাশি হিসাব বিজ্ঞান বিভাগেও দুইজন শিক্ষকের পদে একজনও কর্মরত নেই। পূর্বের জনবল কাঠামো অনুযায়ী ওই কলেজে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকের পদ চারটি। স্নাতক শ্রেণির জনবল কাঠামোতে সেখানে প্রয়োজন ৮ জন শিক্ষকের। অথচ সেখানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন শিক্ষক। কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাইস ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ডিপার্টমেণ্টে একজন মাত্র শিক্ষক আছেন। ওই একজন শিক্ষক আমাদের ৪ টি বর্ষে প্রায় ৪০০ জন শিক্ষার্থী ছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি ক্লাসের পাঠদান করে থাকেন। এজন্য এখানে দুইজন খন্ডকালীন শিক্ষক নেওয়া হয়েছে। কিন্তু নিয়মিত শিক্ষক না দিয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে আমাদের প্রয়োজনীয় পাঠদান সম্ভব না। এ কারনে সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন আমাদের ক্লাস হয়। একদিনে তিনটির বেশি ক্লাস হয় না।’ একই বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাজমিম আক্তার বলেন, ‘কলেজে শিক্ষক স্বল্পতার কারনে ক্লাস কম হয়। খন্ডকালীন শিক্ষকরা নিয়মিত শিক্ষকদের মতো বোঝাতে পারেন না।’ ইংরেজি ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মাইমুনা সরকার বলেন, ‘আমাদের কোনো কিছু জানার থাকলে খন্ডকালীন শিক্ষকরা সেভাবে বোঝাতে পারেন না। সপ্তাহে ৩দিন, প্রতিদিন ২টা বা তিনটা ক্লাস হয়। এ জন্য আমাদের জানার ঘাটতি থেকেই যায়। আমরা চাই আমাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষক পদায়ন করা হোক। এই কলেজে ছয়টি বিষয়ে অনার্স চালু আছে, অবকাঠামোগত তেমন সমস্যা নেই। এখানে মাস্টার্স ক্লাস চালু করা প্রয়োজন।’ ইংরেজি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাবনুর আক্তার বলেন, ‘আমাদের হোস্টেলে আসন সংখ্যা কম হওয়ায় একটি কক্ষে ৬ জন করে থাকতে হচ্ছে। হোস্টেলে রিডিং রুম নেই। টিভি রুমেও শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে। খেলার মাঠ নেই। শ্রেণি কক্ষের সমস্যা না থাকলেও আমাদের শিক্ষক সংকটই বড় সমস্যা।

কলেজ সুত্র মতে, নীলফামারী সরকারী মহিলা কলেজে ডিগ্রি পাশ শিক্ষক কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষকের সৃষ্ট পদ সংখ্যা ৩৪ জন। বিপরিতে কর্মরত আছেন ২৫জন। ২০১২-১৩ শিক্ষা বর্ষে এই কলেজে অনার্স (স্নাতক) চালু করা হয়। বর্তমানে এই কলেজে বাংলা, ইংরেজি, দর্শণ, ইতিহাস, অর্থনীতি ও রাস্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স চালু আছে। ৬ বিষয়ে অনার্স ছারাও এখানে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পাশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিলে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। অনার্স চালুর কারনে এখানে শিক্ষকের প্রয়োজন ৪৮ জন। কিন্তু দীর্ঘ বছরেও ওই জনবল পদায়ন করা হয়নি।

সুত্র মতে, নারী শিক্ষার সম্প্রসারণে স্থানীয় বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি বর্গের উদ্যোগে ১৯৭২ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠার এক যুগ পর ১৯৮৪ সালে কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়। ৩ দশমিক ৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ কলেজে দাড়িয়ে আছে সুউচ্চ প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন। এখন শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে ছাত্রী নিবাসের অপ্রতুলতা। ছাত্রী নিবাসে নেই রিডিং রুম। নেই খেলার মাঠ। শিক্ষার্থী ও কলেজ সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন, কলেজের দক্ষিণে পড়ে আছে উম্মুক্ত মঞ্চ। উম্মুক্ত মঞ্চের ওই স্থানটি কলেজের নামে বরাদ্দ দেওয়া গেলে সেটি কলেজ ক্যাম্পাসের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব। যা শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের পূবের সৃষ্ট পদের চেয়ে কম সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে। এখানে ৬টি বিষয়ে অনার্স চালু করা হলেও শিক্ষকের পদ বাড়ানো হয়নি। বর্তমান শিক্ষার্থী অনুপাতে এখানে ৪৮জন শিক্ষকের প্রয়োজন। কিন্তু দির্ঘদিনেও সেই পদ সংখ্যা বাড়ানো যায়নি। পাশাপাশি এখানে যে ছাত্রী নিবাস আছে তার আসন সংখ্যা ১৭৬টি। সেখানে ২৪৪ জন শিক্ষার্থী থাকেন।’

আজিজুর রহমান জানান, পূর্বের জনবল কাঠামো অনুযায়ী বাংলা বিভাগে ৪জন শিক্ষকের পদে ৪জনই আছেন। ইংরেজি বিভাগের ৪জনের পদে আছেন একজন, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে ৪জনের পদে আছেন ৩জন। ইতিহাস বিভাগে ৩ জনের পদে আছেন ২জন, দর্শণ বিভাগে ৩জনের পদে ৩জনই আছেন, অর্থনীতি বিভাগে ৩জনের পদে আছেন ৩জন। ব্যাবস্থাপনা বিভাগে ২পদে আছেন ১জন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ২জনের পদে একজনও নেই। গণিত বিভাগে ২পদে একজনও নেই। রসায়ন বিভাগে ২পদে আছেন ২জন। পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে ২পদে আছেন ১জন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ১জনের পদে আছেন ১জন, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে ১জনের পদে ১জন আছেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে কেজনের পদে আছেন ১জন এবং শরীর চর্চা শিক্ষক কে জনের পদে একজন আছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ফিরোজুল ইসলাম বলেন, ‘কলেজে ৬টি বিষয়ে স্নাতক শ্রেণি চালু হওয়ায় এখানে ৪৮ জন শিক্ষকের প্রয়োজন। এ নিয়ে একাধিকবার মন্ত্রনালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু জনবল কাঠামো বাড়ানো হয়নি। পূর্বের জনবল কাঠামোতে এখানে ৩৪ জন শিক্ষকের পদ আছে। ওই পদে কর্মরত আছেন ২৫ জন। এ কারনে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে।’

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার মহাপরিকল্পনা নিয়ে সিডিএ রিহ্যাবের মতবিনিময়

 কম সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে চলছে নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক শ্রেণির পাঠদান

প্রকাশিত : ০৫:২৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শহরের প্রাণ কেন্দ্রে দাড়িয়ে আছে সুউচ্চ দালান, মনোরম পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত নীলফামারী সরকারী মহিলা কলেজ। এখানে রয়েছে নারী শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ। কিন্তু শিক্ষক সংকটই এই কলেজের প্রধান সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। নিয়মিত শিক্ষকের অভাবে এখানে খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এখানে আমাদের শ্রেণি কক্ষের তেমন সমস্যা না থাকলেও বড় সমস্যা শিক্ষকের। এ কারনে খন্ডকালীন শিক্ষকে চলে আমাদের পাঠদান। সে কারনে আমাদের প্রাইভেটের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। যা অনেকের পরিবারের পক্ষে অতিরিক্ত চাপ হয়ে দাড়াচ্ছে।

বুধবার বিকেলে কলেজ হোস্টেল থেকে বের হয়ে শহরের দিকে যাচ্ছিলেন দুই শিক্ষার্থী। হাফিজা আক্তার ও উষ্পিতা রায়। তারা দুইজনই ওই কলেজের উচ্চ মাধ্যামিক (বিজ্ঞান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। হাফিজা আক্তার বলেন, ‘আমাদের কলেজে গণিতের কোনো শিক্ষকই নেই। আমাদের গণিত ক্লাসে খন্ডকালিন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেয়া হয়। নিয়মিত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস হয় না। তাই বাহিরে প্রাইভেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।’

উষ্পিতা রায় বলেন, ‘আমরা দুই জনই ম্যাথ প্রাইভেটে যাচ্ছি। কলেজে ম্যাথের নিয়মিত শিক্ষক না থাকায় প্রাইভেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ জন্য আমাদের পরিবারকে বাড়তি খরচ জোগাতে হচ্ছে। নিয়মিত শিক্ষকের চাহিদা তো খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পুরণ করা সম্ভব না।’ এখানে গণিতের পাশাপাশি হিসাব বিজ্ঞান বিভাগেও দুইজন শিক্ষকের পদে একজনও কর্মরত নেই। পূর্বের জনবল কাঠামো অনুযায়ী ওই কলেজে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকের পদ চারটি। স্নাতক শ্রেণির জনবল কাঠামোতে সেখানে প্রয়োজন ৮ জন শিক্ষকের। অথচ সেখানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন শিক্ষক। কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাইস ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ডিপার্টমেণ্টে একজন মাত্র শিক্ষক আছেন। ওই একজন শিক্ষক আমাদের ৪ টি বর্ষে প্রায় ৪০০ জন শিক্ষার্থী ছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি ক্লাসের পাঠদান করে থাকেন। এজন্য এখানে দুইজন খন্ডকালীন শিক্ষক নেওয়া হয়েছে। কিন্তু নিয়মিত শিক্ষক না দিয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে আমাদের প্রয়োজনীয় পাঠদান সম্ভব না। এ কারনে সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন আমাদের ক্লাস হয়। একদিনে তিনটির বেশি ক্লাস হয় না।’ একই বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাজমিম আক্তার বলেন, ‘কলেজে শিক্ষক স্বল্পতার কারনে ক্লাস কম হয়। খন্ডকালীন শিক্ষকরা নিয়মিত শিক্ষকদের মতো বোঝাতে পারেন না।’ ইংরেজি ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মাইমুনা সরকার বলেন, ‘আমাদের কোনো কিছু জানার থাকলে খন্ডকালীন শিক্ষকরা সেভাবে বোঝাতে পারেন না। সপ্তাহে ৩দিন, প্রতিদিন ২টা বা তিনটা ক্লাস হয়। এ জন্য আমাদের জানার ঘাটতি থেকেই যায়। আমরা চাই আমাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষক পদায়ন করা হোক। এই কলেজে ছয়টি বিষয়ে অনার্স চালু আছে, অবকাঠামোগত তেমন সমস্যা নেই। এখানে মাস্টার্স ক্লাস চালু করা প্রয়োজন।’ ইংরেজি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাবনুর আক্তার বলেন, ‘আমাদের হোস্টেলে আসন সংখ্যা কম হওয়ায় একটি কক্ষে ৬ জন করে থাকতে হচ্ছে। হোস্টেলে রিডিং রুম নেই। টিভি রুমেও শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে। খেলার মাঠ নেই। শ্রেণি কক্ষের সমস্যা না থাকলেও আমাদের শিক্ষক সংকটই বড় সমস্যা।

কলেজ সুত্র মতে, নীলফামারী সরকারী মহিলা কলেজে ডিগ্রি পাশ শিক্ষক কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষকের সৃষ্ট পদ সংখ্যা ৩৪ জন। বিপরিতে কর্মরত আছেন ২৫জন। ২০১২-১৩ শিক্ষা বর্ষে এই কলেজে অনার্স (স্নাতক) চালু করা হয়। বর্তমানে এই কলেজে বাংলা, ইংরেজি, দর্শণ, ইতিহাস, অর্থনীতি ও রাস্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স চালু আছে। ৬ বিষয়ে অনার্স ছারাও এখানে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পাশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিলে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। অনার্স চালুর কারনে এখানে শিক্ষকের প্রয়োজন ৪৮ জন। কিন্তু দীর্ঘ বছরেও ওই জনবল পদায়ন করা হয়নি।

সুত্র মতে, নারী শিক্ষার সম্প্রসারণে স্থানীয় বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি বর্গের উদ্যোগে ১৯৭২ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠার এক যুগ পর ১৯৮৪ সালে কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়। ৩ দশমিক ৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ কলেজে দাড়িয়ে আছে সুউচ্চ প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন। এখন শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে ছাত্রী নিবাসের অপ্রতুলতা। ছাত্রী নিবাসে নেই রিডিং রুম। নেই খেলার মাঠ। শিক্ষার্থী ও কলেজ সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন, কলেজের দক্ষিণে পড়ে আছে উম্মুক্ত মঞ্চ। উম্মুক্ত মঞ্চের ওই স্থানটি কলেজের নামে বরাদ্দ দেওয়া গেলে সেটি কলেজ ক্যাম্পাসের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব। যা শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের পূবের সৃষ্ট পদের চেয়ে কম সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে। এখানে ৬টি বিষয়ে অনার্স চালু করা হলেও শিক্ষকের পদ বাড়ানো হয়নি। বর্তমান শিক্ষার্থী অনুপাতে এখানে ৪৮জন শিক্ষকের প্রয়োজন। কিন্তু দির্ঘদিনেও সেই পদ সংখ্যা বাড়ানো যায়নি। পাশাপাশি এখানে যে ছাত্রী নিবাস আছে তার আসন সংখ্যা ১৭৬টি। সেখানে ২৪৪ জন শিক্ষার্থী থাকেন।’

আজিজুর রহমান জানান, পূর্বের জনবল কাঠামো অনুযায়ী বাংলা বিভাগে ৪জন শিক্ষকের পদে ৪জনই আছেন। ইংরেজি বিভাগের ৪জনের পদে আছেন একজন, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে ৪জনের পদে আছেন ৩জন। ইতিহাস বিভাগে ৩ জনের পদে আছেন ২জন, দর্শণ বিভাগে ৩জনের পদে ৩জনই আছেন, অর্থনীতি বিভাগে ৩জনের পদে আছেন ৩জন। ব্যাবস্থাপনা বিভাগে ২পদে আছেন ১জন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ২জনের পদে একজনও নেই। গণিত বিভাগে ২পদে একজনও নেই। রসায়ন বিভাগে ২পদে আছেন ২জন। পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে ২পদে আছেন ১জন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ১জনের পদে আছেন ১জন, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে ১জনের পদে ১জন আছেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে কেজনের পদে আছেন ১জন এবং শরীর চর্চা শিক্ষক কে জনের পদে একজন আছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ফিরোজুল ইসলাম বলেন, ‘কলেজে ৬টি বিষয়ে স্নাতক শ্রেণি চালু হওয়ায় এখানে ৪৮ জন শিক্ষকের প্রয়োজন। এ নিয়ে একাধিকবার মন্ত্রনালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু জনবল কাঠামো বাড়ানো হয়নি। পূর্বের জনবল কাঠামোতে এখানে ৩৪ জন শিক্ষকের পদ আছে। ওই পদে কর্মরত আছেন ২৫ জন। এ কারনে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে।’

ডিএস./