চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার ২০২৫–২০৫০ মেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও নগর উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) চট্টগ্রাম রিজিয়নের মধ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনাল অফিসের কনফারেন্স হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চট্টগ্রাম শহরের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ, পরিকল্পিত আবাসন, সুউচ্চ ভবন নির্মাণ, নগর ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন মহানগর গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোরসেদুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন।
সভায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার খসড়া মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিডিএর উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পের পরিচালক মো. আবু ঈসা আনছারী।
সভায় উপস্থাপিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান নগরসীমাকে আরও বিস্তৃত করে সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারা পর্যন্ত বৃহত্তর মেট্রোপলিটন এলাকা হিসেবে পরিকল্পনার আওতায় আনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এসব এলাকাকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে আবাসন, বাণিজ্য, শিল্প, যোগাযোগ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার সমন্বয়ে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোরসেদুল হাসান বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হলো বাসস্থান। সীমিত আয়তনের দেশে বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করতে রিহ্যাবের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আবাসন খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সিডিএর আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। তিনি চট্টগ্রামে দৃষ্টিনন্দন ও সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে একটি নান্দনিক ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে রিহ্যাবের সদস্যদের মতামত, পরামর্শ ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে রিহ্যাবের সহযোগিতার জন্য তিনি সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সভায় রিহ্যাবের পরিচালক ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির কো-চেয়ারম্যান-১ মিসেস সারিস্থ বিনতে নুর এবং পরিচালক ও কো-চেয়ারম্যান-২ এ এস এম আবদুল গাফফার মিয়াজী বক্তব্য দেন।
আলোচনায় অংশ নেন রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির সদস্য হৃষিকেশ চৌধুরী, সৈয়দ ইরফানুল আলম, আশীষ রায় চৌধুরী, রিহ্যাব সদস্য ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন পি.ইঞ্জি. ও মুফাখখারুল ইসলাম খসরু। এছাড়া সিডিএর মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পের উপপরিচালক ড. নুরুল ইসলাম এবং কনসালট্যান্ট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান আলোচনায় অংশ নেন।
সভা সঞ্চালনা করেন রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিয়নের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ নিজাম উদ্দিন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির সদস্য নুর মোহাম্মদ ও এস এম শহীদুল্লাহ, সিডিএর সদস্য (ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্ল্যানিং) মোহাম্মদ জামিলুর রহমান, সাবেক প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পের কনসালট্যান্ট শাহিনুল ইসলাম খান, প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. আশরাফুজ্জামান, কনসালট্যান্ট মো. সাইমুম ইসলাম, উইকন প্রপার্টিজ লিমিটেডের পরিচালক স্থপতি মাহাদী ইফতেখার এবং ইকুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেসের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার কায়েস উর রশিদসহ সংশ্লিষ্টরা।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগরায়ণকে শুধু আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যোগাযোগ, পরিবেশ, নাগরিক সেবা, ভূমির ব্যবহার এবং জনসংখ্যার চাপ বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি সংস্থা, আবাসন খাতের উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ডিএস./



















