০৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গজারিয়ায় কারখানার স্টোর রুমে শ্রমিকের মরদেহ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি শিল্প কারখানার স্টোর রুম থেকে বিল্লাল হোসেন (৫৫) নামে এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও দুই কান কাটা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকার নিউ হোপ এগ্রোটেক বাংলাদেশ লিমিটেডের পিপি স্টোর রুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি মাছ ও পশুখাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত।

নিহত বিল্লাল হোসেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। তিনি প্রায় সাত বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন এবং কারখানা এলাকায়ই থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে বিল্লাল নাইট শিফটে কর্মরত ছিলেন। ভোরে স্টোর রুমের ভেতরে চটের বস্তার স্তূপের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের ভাষ্য, রাতে দায়িত্ব পালনের একপর্যায়ে বিল্লাল চটের বস্তার স্তূপের কাছে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত কোনো যানবাহন তার ওপর উঠে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

তবে নিহতের স্বজনরা এ বক্তব্য মানতে নারাজ। তাদের দাবি, বিল্লালকে মারধর করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং দুই কান কাটা থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

নিহতের স্ত্রী আঁখি আক্তার বলেন, রোববার সকাল ৬টার দিকে ফোন করে জানানো হয়, আমার স্বামী দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। পরে এসে দেখি তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং দুই কান কাটা। আমরা এ ঘটনাকে স্বাভাবিক দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারছি না। এ ঘটনায় থানায় মামলা করব।
নিহতের জামাতা আবু মুসার অভিযোগ, কারখানার বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও তাদের ফুটেজ দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাদের দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে কোনো কর্মকর্তাকে ক্যামেরার সামনে কথা বলার জন্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক বিভাগের কর্মকর্তা সালাউদ্দিন সাগরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিশ্চিত হতে বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

গজারিয়ায় কারখানার স্টোর রুমে শ্রমিকের মরদেহ

প্রকাশিত : ০৪:২৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি শিল্প কারখানার স্টোর রুম থেকে বিল্লাল হোসেন (৫৫) নামে এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও দুই কান কাটা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকার নিউ হোপ এগ্রোটেক বাংলাদেশ লিমিটেডের পিপি স্টোর রুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি মাছ ও পশুখাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত।

নিহত বিল্লাল হোসেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। তিনি প্রায় সাত বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন এবং কারখানা এলাকায়ই থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে বিল্লাল নাইট শিফটে কর্মরত ছিলেন। ভোরে স্টোর রুমের ভেতরে চটের বস্তার স্তূপের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের ভাষ্য, রাতে দায়িত্ব পালনের একপর্যায়ে বিল্লাল চটের বস্তার স্তূপের কাছে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত কোনো যানবাহন তার ওপর উঠে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

তবে নিহতের স্বজনরা এ বক্তব্য মানতে নারাজ। তাদের দাবি, বিল্লালকে মারধর করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং দুই কান কাটা থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

নিহতের স্ত্রী আঁখি আক্তার বলেন, রোববার সকাল ৬টার দিকে ফোন করে জানানো হয়, আমার স্বামী দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। পরে এসে দেখি তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং দুই কান কাটা। আমরা এ ঘটনাকে স্বাভাবিক দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারছি না। এ ঘটনায় থানায় মামলা করব।
নিহতের জামাতা আবু মুসার অভিযোগ, কারখানার বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও তাদের ফুটেজ দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাদের দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে কোনো কর্মকর্তাকে ক্যামেরার সামনে কথা বলার জন্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক বিভাগের কর্মকর্তা সালাউদ্দিন সাগরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিশ্চিত হতে বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

ডিএস./