চট্টগ্রাম বন্দরে ‘কনসাইনি বিল ফর কনটেইনার’ শতভাগ অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত এক মাস পিছিয়েছে। আগে ১ অক্টোবর থেকে এ ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর থেকে কেবল নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় কনসাইনি বিল গ্রহণ করা হবে।
এর ফলে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইন ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি পে-অর্ডার ও ব্যাংক রিভলভিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও কনসাইনি বিল পরিশোধ করা যাবে। তবে ১ নভেম্বর থেকে পে-অর্ডার কিংবা ব্যাংক রিভলভিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোনো বিল গ্রহণ করা হবে না।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম স্বাক্ষরিত ৩০ সেপ্টেম্বরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বন্দরের সেবা কার্যক্রম আরও দ্রুত, আধুনিক ও সহজ করার লক্ষ্যে সময়সীমা এক মাস বাড়ানো হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কনসাইনি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত পে-অর্ডারসহ বিভিন্ন ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে পে-অর্ডার গ্রহণ বন্ধ করে অনলাইন পেমেন্ট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাস্টমস এজেন্টদের মধ্যে প্রস্তুতির ঘাটতি ও বিভিন্ন বাস্তব জটিলতার বিষয় উঠে আসে।
এ অবস্থায় ২৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ও মালিক সমিতি পে-অর্ডার বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চার ঘণ্টা ধর্মঘট পালন করে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বিল পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়।
একই সময়ে ব্যাংক রিভলভিং অ্যাকাউন্টের সুবিধা বহাল রাখার দাবিতে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে। অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যাংক রিভলভিং অ্যাকাউন্টের সুবিধা চালু রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কনসাইনি বিল পরিশোধে অনলাইন ব্যাংকিং, পে-অর্ডার ও ব্যাংক রিভলভিং অ্যাকাউন্ট—এই তিন ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা যাবে। তবে ১ নভেম্বর থেকে পে-অর্ডার ও রিভলভিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিল গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। তখন কনসাইনি বিল পরিশোধের জন্য অনলাইন ও ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থাই ব্যবহার করতে হবে।
এদিকে বন্দরের অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের কারিগরি কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে। ফলে সোনালী ব্যাংকের অনলাইন গেটওয়ে ব্যবহার করে বন্দরের বিভিন্ন বিল অনলাইনে পরিশোধ করা যাবে। এর মাধ্যমে বন্দরের বিল পরিশোধ প্রক্রিয়ায় ম্যানুয়াল নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা চালুর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিভিন্ন ব্যাংকিং মাধ্যমের পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধের সুযোগ থাকবে। এতে বন্দরের বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধে সময় কমার পাশাপাশি লেনদেনের প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও আধুনিক হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
তবে নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগে সিএন্ডএফ এজেন্ট, কনসাইনি ও অন্যান্য বন্দর ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ১ নভেম্বর থেকে পে-অর্ডার ও রিভলভিং অ্যাকাউন্ট গ্রহণ করা হবে না—এ বিষয়টি মাথায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, “কনসাইনি বিল পরিশোধে অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর সময় এক মাস পিছিয়ে ১ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইন ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি পে-অর্ডার ও ব্যাংক রিভলভিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করা যাবে। ১ নভেম্বর থেকে পে-অর্ডার ও রিভলভিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিল গ্রহণ করা হবে না।”
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর ফলে বিল পরিশোধে সময় ও ভোগান্তি কমার সুযোগ রয়েছে। তবে নতুন ব্যবস্থায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান, কনসাইনি ও ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং পর্যাপ্ত কারিগরি প্রস্তুতি নিশ্চিত করা জরুরি। এক মাস সময় বাড়ানোর ফলে সংশ্লিষ্টরা নতুন পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করার সুযোগ পাবেন।
ডিএস./













