বাংলাদেশ রেলওয়ে জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিল, পূর্বাঞ্চলের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে চেয়ারম্যান এবং চৈতী মুহুরীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটিতে বিভাগীয় স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মোস্তফা জাকির আহসান, সভাপতি, বিভাগীয় স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন, পাহাড়তলী; এ বি এম কামরুজ্জামান, সভাপতি, বিভাগীয় স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন,; মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা, সভাপতি, বিভাগীয় স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম এবং মো. জহিরুল ইসলাম, বিভাগীয় স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন, সদর, চট্টগ্রাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের দুটি ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া ক্লাবের দায়িত্বও নির্ধারণ করা হয়েছে। রেলওয়ে এস এ ক্লাবের সভাপতি হিসেবে মো. শওকত জামিল মোহসী এবং রেলওয়ে রেঞ্জার্স ক্লাবের সভাপতি হিসেবে মো. মনিরুজ্জামান দায়িত্ব পালন করবেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নবগঠিত কমিটির অভিষেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মামুনুল ইসলাম। তিনি রেলওয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সামগ্রিক ক্রীড়া কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে নতুন কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
রেলওয়ের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাস ও ভূমিকা শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং চট্টগ্রামের ক্রীড়া সংস্কৃতির সঙ্গেও এটি দীর্ঘদিন ধরে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রামে রেলওয়ের ক্রীড়া কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক গোড়াপত্তন ব্রিটিশ আমলে, প্রায় ১৯১১ সালের দিকে তৎকালীন আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে এটি ‘পাকিস্তান ইস্টার্ন রেলওয়ে স্পোর্টস কন্ট্রোল বোর্ড’ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পোর্টস কন্ট্রোল বোর্ড’ হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করে।
পরবর্তীতে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়েকে দুটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হলে চট্টগ্রামে ‘জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিল, পূর্বাঞ্চল’-এর সদর দফতর স্থাপন করা হয়।
চট্টগ্রাম তথা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশে বাংলাদেশ রেলওয়ে জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিল, পূর্বাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনোদন ও সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ তৈরির ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য।
ফুটবল, ক্রিকেট, হকি ও অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন খেলায় তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে কাউন্সিল। এখান থেকে উঠে আসা অনেক ক্রীড়াবিদ পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন।
ক্রীড়া অবকাঠামোর ক্ষেত্রেও রেলওয়ে জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। চট্টগ্রামের সিআরবি সংলগ্ন ঐতিহাসিক রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠ এবং পাহাড়তলীর শহীদ শাহজাহান মাঠসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার সঙ্গে কাউন্সিলের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত।
এ ছাড়া প্রতিবছর রেলওয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তঃবিভাগীয় বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস) আয়োজিত বিভিন্ন লিগ ও প্রতিযোগিতায় রেলওয়ের দলগুলোর অংশগ্রহণ স্থানীয় ক্রীড়া চর্চাকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছে।
নবগঠিত ২০২৬-২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির মাধ্যমে রেলওয়ের ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়ায় রেলওয়ের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে কাউন্সিলের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ রেলওয়ে জোনাল স্পোর্টস কাউন্সিল, পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট ক্রীড়ামোদী ও রেলওয়ে অঙ্গনের মানুষের।
ডিএস./













