ফেনীর প্রবীণ আয়কর আইনজীবী কাজী গোলাম মাইন উদ্-দীন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার দিবাগত রাত ১০টা ৪৭ মিনিটে বার্ধক্যজনীত জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি তিন ছেলে, দুই মেয়ে, দুই ভাই, তিন বোন, নাতী-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা আজ শনিবার বাদ ফজর ঢাকার আফতাব নগরের এইচ ব্লকের বায়তুস সালাহ্ জামে মসজিদে ও বাদ জোহর ফেনীর মাথিয়ারা কাজি বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
স্বভাব কবি ও লেখক এই প্রবীণ আয়কর আইনজীবী ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর ফেনী সদর থানার মাথিয়ারা কাজী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা তৎকালীন ভারতবর্ষের সুপরিচিত কাজী কেমিক্যাল ওয়ার্কসের সত্বাধিকারী কাজী আলী নোয়াজ ও মাতা জায়েদা খাতুন। তিনি ছিলেন সাত ভাই ও সাত বোনের মধ্যে সবার বড়। ১৯৫০ সালে ফেনী হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও পরে ফেনী কলেজ থেকে যথাক্রমে আই.কম এবং বি.কম পাশ করে পৈত্রিক ব্যবসা পরিচালনা করেন। ১৯৬১ সালে তিনি ব্যবসার পাশাপাশি আয়কর উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করেন।
তিনি একাধিকবার ফেনী জেলা কর আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি লায়ন্স ক্লাব ফেনীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ফেনী ‘ল’ কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য। তিনি মাথিয়ারা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি ছিলেন।
১৯৫৯ সালে কুমিল্লার পয়ালগাছা চৌধুরী বাড়ির বিপ্লবী কবি ও প্রখ্যাত সাংবাদিক অধুনালুপ্ত দৈনিক ইনসাফ-এর সম্পাদক মহীউদ্দিন আহমদ-এর বড় মেয়ে সাকিনা আহমেদ চৌধুরাণীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে পাঁচ সন্তান, কাজী নওফেল, কণা, লুবনা, তানভীর আলাদিন (সিনিয়র সাংবাদিক, বাসস) ও অ্যাডভোকেট কাজী ফয়সালকে নিয়ে তাঁর পরিবার। এক দশককাল আগে তার স্ত্রী প্রয়াত হয়েছেন।
ভ্রমণ পিপাসু কাজী গোলাম মাইন উদ-দীন বাংলাদেশের প্রায় সব জেলা ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি তিনবার আজমীর শরীফ জিয়ারতে ভারতে, দুইবার হজব্রত পালনে সৌদি আরব এবং একবার আমেরিকা ভ্রমণ করেছেন।
তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে – ডাক্তারের ঘোড়ার ডাক, তাসের ঘরে মাধবীলতা, খাজু উকিলের ডায়েরি ও ইউরেকা আমার আমেরিকা।
ডিএস./






















