১২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দিন দিন বাড়ছে মার্সালো,আস্তা,ব্ল্যাকবেবি তরমুজের চাহিদা

সাতকানিয়ায় বারোমাসি তরমুজ ক্ষেত পরিচর্যা করছেন একজন কৃষক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দিন দিন বাড়ছে মার্সালো, আস্তা,ব্ল্যাকবেবি বারোমাসি তরমুজের চাহিদা,ছদাহায় বারোমাসি এই তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন একাধিক কৃষক। কম সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় বারোমাসি তরমুজ চাষ করে লাভবান হয়েছে এখানকার কৃষক,চাহিদাও বাড়ছে এসব তরমুজের, এটি বেশ সুস্বাদু ও রসালো হওয়ায় বাজারেও এর চাহিদা অনেক বেশি। পাইকাররা মাঠ থেকে এসব তরমুজ কিনে নিয়ে যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম কক্সবাজার সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

৬টি জাতের বারোমাসি তরমুজ চাষ করা হয় এর মধ্যে মার্সালো, যা উচ্চ ফলনশীল ও মিষ্টি স্বাদমালচিং ও মাচাং পদ্ধতি, ব্ল্যাক বেবি যেটি বাইরে কালচে রঙের ও ছোট আকৃতিরমালচিং ও মাচাং পদ্ধতি, আস্তা- এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন হাইব্রিডমালচিং ও মাচাং পদ্ধতি। পাকিজা- দ্রুত বর্ধনশীল ও অধিক ফলনশীলমালচিং ও মাচাং পদ্ধতি গোল্ডেন ক্রাউন-এটি সোনালী হলুদ খোসা ও সুস্বাদু শাঁসমালচিং ও মাচাং পদ্ধতি এবং তৃপ্তি- বর্ষাসহ যেকোনো মৌসুমে উপযোগীমালচিং ও মাচাং পদ্ধতি।

শনিবার ১০ অক্টোবর, ছদাহা তরমুজ ক্ষেতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রতিটি ক্ষেতে মাচাই ঝুলছে এসব তরমুজ। তরমুজ গুলো মাচা থেকে যেন ছিঁড়ে না পড়ে এজন্য ব্যবহার করা হয়েছে নেটের ব্যাগ।

কৃষক আবুল কাশেম,জালাল আহমদ ও রহিমা আক্তার বলেন, এবারে ফলন অনেকটাই ভালো হয়েছে,একেকটি তরমুজ ২ থেকে ৮ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়েছে তাই মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজ গুলো নেটের ব্যাগেই বেঁধে রাখতে হয়। ফলে একদিকে তরমুজ গুলো নিরাপদে থাকে। অপরদিকে ক্ষেতের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়।

তারা জানান,আগামী ১৫ দিন পর বিক্রি করতে পারবেন, কম সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় বারোমাসি তরমুজ চাষ করে লাভবান হয়েছে এখানকার কৃষক,তাই প্রতি বছর তরমুজ চাষ করছেন,এছাড়া চাহিদাও বাড়ছে তাছাড়া বিভিন্ন পাইকারী ব্যবসায়ীরা এসব তরমুজ ক্ষেতে এসে ক্রয় করে নিয়ে যায়। ফলে বাজারজাত করা নিয়ে বাড়তি কষ্ট করতে হয় না তাদের, মাঠে থেকে কৃষকদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ দিচ্ছে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি অফিস।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আইয়ুব আলী জানান, ছদাহা খোর্দ্দ কেওচিয়া ব্লকে চট্টগ্রাম কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে বারোমাসি তরমুজ চাষ করা হয়েছে,

এ ব্লকে ১০ থেকে ১৫ টি প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কৃষকদের পাশে থেকে বন্ধের দিনেও মাঠে কাজ করে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করছেন বলে জানান তিনি।

২০২১ সালে সর্বপ্রথম একজন কৃষক বারোমাসি তরমুজ চাষ শুরু করেন। তার সফলতা দেখে বর্তমানে ১০থেকে ১২জন কৃষক বারোমাসি তরমুজ চাষে অনুপ্রাণিত হয়ে এ চাষ করছেন ,

তিনি আরো জানান,মার্সালো,আস্তা,ব্ল্যাকবেবি জাতের তরমুজ চারা রোপন থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত সময় লাগে ৬৫ দিন এবং পাকিজা জাতের বারোমাসি তরমুজ চারা রোপন থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত ৭০/৮০ দিন সময় লাগে অন্যান্য জাতের সময় লাগে ৬৫ দিন । প্রতি বছরে দুই ভাগে এ বারোমাসি তরমুজ চাষ করে কৃষক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন,সাতকানিয়া ছদাহায় ৫ হেক্টর জমিতে মার্সালো, আস্তা,ব্ল্যাকবেবি সহ কয়েকটি জাতের তরমুজের আবাদ হয়েছে, আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে এসব তরমুজ বাজারজাত করা হবে। ছদাহা ছাড়াও ধর্মপুর ইউনিয়ন ১ বিঘা জমিতে ও চরতী ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে এই তরমুজ চাষের চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, এন এফ এল সিসি প্রকল্পের প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রথম চাষটা শুরু হয়েছিল, লাভজনক হওয়ার ফলে কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন নিজেরা চাষ করছেন,এবং এটির চাহিদাও রয়েছে, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক তাদেরকে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সেবা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকলে এখানকার কৃষকেরা বারোমাসি তরমুজ চাষ করে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করবেন এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

ডিএস./

 

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইতিহাস গড়ে হাসানের হ্যাটট্রিক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দিন দিন বাড়ছে মার্সালো,আস্তা,ব্ল্যাকবেবি তরমুজের চাহিদা

প্রকাশিত : ১১:৩২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দিন দিন বাড়ছে মার্সালো, আস্তা,ব্ল্যাকবেবি বারোমাসি তরমুজের চাহিদা,ছদাহায় বারোমাসি এই তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন একাধিক কৃষক। কম সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় বারোমাসি তরমুজ চাষ করে লাভবান হয়েছে এখানকার কৃষক,চাহিদাও বাড়ছে এসব তরমুজের, এটি বেশ সুস্বাদু ও রসালো হওয়ায় বাজারেও এর চাহিদা অনেক বেশি। পাইকাররা মাঠ থেকে এসব তরমুজ কিনে নিয়ে যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম কক্সবাজার সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

৬টি জাতের বারোমাসি তরমুজ চাষ করা হয় এর মধ্যে মার্সালো, যা উচ্চ ফলনশীল ও মিষ্টি স্বাদমালচিং ও মাচাং পদ্ধতি, ব্ল্যাক বেবি যেটি বাইরে কালচে রঙের ও ছোট আকৃতিরমালচিং ও মাচাং পদ্ধতি, আস্তা- এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন হাইব্রিডমালচিং ও মাচাং পদ্ধতি। পাকিজা- দ্রুত বর্ধনশীল ও অধিক ফলনশীলমালচিং ও মাচাং পদ্ধতি গোল্ডেন ক্রাউন-এটি সোনালী হলুদ খোসা ও সুস্বাদু শাঁসমালচিং ও মাচাং পদ্ধতি এবং তৃপ্তি- বর্ষাসহ যেকোনো মৌসুমে উপযোগীমালচিং ও মাচাং পদ্ধতি।

শনিবার ১০ অক্টোবর, ছদাহা তরমুজ ক্ষেতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রতিটি ক্ষেতে মাচাই ঝুলছে এসব তরমুজ। তরমুজ গুলো মাচা থেকে যেন ছিঁড়ে না পড়ে এজন্য ব্যবহার করা হয়েছে নেটের ব্যাগ।

কৃষক আবুল কাশেম,জালাল আহমদ ও রহিমা আক্তার বলেন, এবারে ফলন অনেকটাই ভালো হয়েছে,একেকটি তরমুজ ২ থেকে ৮ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়েছে তাই মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজ গুলো নেটের ব্যাগেই বেঁধে রাখতে হয়। ফলে একদিকে তরমুজ গুলো নিরাপদে থাকে। অপরদিকে ক্ষেতের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়।

তারা জানান,আগামী ১৫ দিন পর বিক্রি করতে পারবেন, কম সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় বারোমাসি তরমুজ চাষ করে লাভবান হয়েছে এখানকার কৃষক,তাই প্রতি বছর তরমুজ চাষ করছেন,এছাড়া চাহিদাও বাড়ছে তাছাড়া বিভিন্ন পাইকারী ব্যবসায়ীরা এসব তরমুজ ক্ষেতে এসে ক্রয় করে নিয়ে যায়। ফলে বাজারজাত করা নিয়ে বাড়তি কষ্ট করতে হয় না তাদের, মাঠে থেকে কৃষকদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ দিচ্ছে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি অফিস।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আইয়ুব আলী জানান, ছদাহা খোর্দ্দ কেওচিয়া ব্লকে চট্টগ্রাম কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে বারোমাসি তরমুজ চাষ করা হয়েছে,

এ ব্লকে ১০ থেকে ১৫ টি প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কৃষকদের পাশে থেকে বন্ধের দিনেও মাঠে কাজ করে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করছেন বলে জানান তিনি।

২০২১ সালে সর্বপ্রথম একজন কৃষক বারোমাসি তরমুজ চাষ শুরু করেন। তার সফলতা দেখে বর্তমানে ১০থেকে ১২জন কৃষক বারোমাসি তরমুজ চাষে অনুপ্রাণিত হয়ে এ চাষ করছেন ,

তিনি আরো জানান,মার্সালো,আস্তা,ব্ল্যাকবেবি জাতের তরমুজ চারা রোপন থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত সময় লাগে ৬৫ দিন এবং পাকিজা জাতের বারোমাসি তরমুজ চারা রোপন থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত ৭০/৮০ দিন সময় লাগে অন্যান্য জাতের সময় লাগে ৬৫ দিন । প্রতি বছরে দুই ভাগে এ বারোমাসি তরমুজ চাষ করে কৃষক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন,সাতকানিয়া ছদাহায় ৫ হেক্টর জমিতে মার্সালো, আস্তা,ব্ল্যাকবেবি সহ কয়েকটি জাতের তরমুজের আবাদ হয়েছে, আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে এসব তরমুজ বাজারজাত করা হবে। ছদাহা ছাড়াও ধর্মপুর ইউনিয়ন ১ বিঘা জমিতে ও চরতী ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে এই তরমুজ চাষের চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, এন এফ এল সিসি প্রকল্পের প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রথম চাষটা শুরু হয়েছিল, লাভজনক হওয়ার ফলে কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন নিজেরা চাষ করছেন,এবং এটির চাহিদাও রয়েছে, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক তাদেরকে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সেবা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকলে এখানকার কৃষকেরা বারোমাসি তরমুজ চাষ করে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করবেন এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

ডিএস./