খুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায় ফিরে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। কাজ ও পড়াশোনার কারণে খুলনায় অবস্থান করা সাতক্ষীরার অনেক বাসিন্দা সেখানে আক্রান্ত হওয়ার পর নিজ জেলায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে সাতক্ষীরায়ও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬২ জন।
রোববার (১১ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত সাতক্ষীরার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৮২৯ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৪৬ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে ২০ জনকে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ২৪ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২২ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে দুজন রয়েছেন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, কালিগঞ্জে সাতজন, দেবহাটায় একজন, শ্যামনগরে দুজন এবং সদর হাসপাতালে একজন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুজন।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম বলেন, সারাদেশেই বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। সাতক্ষীরাতেও রোগী বেড়েছে। তবে জেলার বেশিরভাগ ডেঙ্গু রোগী খুলনায় আক্রান্ত হয়ে আসছেন। সাতক্ষীরার অনেক মানুষ কাজের জন্য খুলনায় থাকেন। সেখানে আক্রান্ত হওয়ার পর তারা নিজ জেলায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
খুলনায় আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায় ফিরে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে রয়েছেন সঞ্জীব সানার স্ত্রী। মেয়ের পড়াশোনার কারণে তিনি খুলনায় থাকতেন। সেখানে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর টানা ছয় দিন অসুস্থ ছিলেন। পরে সাতক্ষীরায় নিয়ে এসে ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে সংক্রমণ ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
একইভাবে ঢাকায় একটি কোম্পানিতে কর্মরত মো. মোফিজুল ইসলামের ছেলেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর সাতক্ষীরায় ফিরে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পুনরায় পরীক্ষা করালে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। মোফিজুল ইসলাম জানান, বর্তমানে তার ছেলে মোটামুটি সুস্থ। চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি।
সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বর্তমানে কোনো সংকট নেই। রোগীদের জন্য আলাদা শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যাপ্ত ওষুধ ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট আছে। পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। চিকিৎসকেরাও ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল চত্বরে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
























