লালমনিরহাটে বেজে উঠেছে আগাম শীতের পদধ্বনি। ভোরে ঘাসের ডগা আর সবুজ আমন ধানের পাতায় জমছে বিন্দু বিন্দু শিশির। শেষ রাতে গায়ে জড়াতে হচ্ছে হালকা কাঁথা, বন্ধ হচ্ছে বৈদ্যুতিক ফ্যান। শীতকালীন খেজুরের রস সংগ্রহে গাছ পরিষ্কার করে কলস বাঁধছেন গাছিরা।
ভারতের হিমালয়ের পাদদেশের কাছাকাছি উত্তরের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটে প্রতিবছর এ সময় আগাম শীত নামে। জেলার ৪৫ ইউনিয়নের মধ্যে ১৭টি ইউনিয়ন শীতকালীন সবজির জন্য বিখ্যাত। এর মধ্যে সদরে ৪টি, আদিতমারীতে ৪টি, কালীগঞ্জে ৩টি, হাতীবান্ধায় ৪টি ও পাটগ্রামে ২টি ইউনিয়নে প্রান্তিক কৃষকেরা বাণিজ্যিকভাবে আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, শিম, লাউ, টমেটো, লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, ধনেপাতা, গাজর ও মুলাসহ বিভিন্ন জাতের সবজি আবাদ হচ্ছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই এসব সবজি বাজারে উঠবে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে ট্রাকে ট্রাকে যাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে এবার শ্রমিক ও সার সংকটে উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলে জানান কৃষকেরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর জেলার ৫ উপজেলায় ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৩৭৫ টন।
আবহাওয়া অফিস জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে এ অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা ২০ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। আগামী কয়েক দিনে সন্ধ্যার পর থেকে ভোরে কুয়াশার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
পৌর এলাকার ভাটিবাড়ী গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এবার অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এক ক্ষেতে দুইবার চারা রোপণ করেছি। তার ওপর সার ও শ্রমিক সংকট। বেশি দামে সার কিনে সবজিতে দিতে হচ্ছে। তাই উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তবে আগাম সবজির দাম ভালো পাওয়া যায়।”
সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চিনিপাড়া এলাকার কৃষক নাল্টু মিয়া বলেন, “আগাম জাতের মুলা রোপণ করেছি। দিনে গরম লাগলেও শেষ রাতে ঠান্ডা লাগছে। ভোরে মাঠে নামলে কুয়াশা দেখা যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত সবজি বাজারে আসবে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আরেফিন বলেন, “দিনে রোদ আর রাতে ঠান্ডার এই আবহাওয়া আগাম সবজি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকেরা আগাম ফসল বাজারে তুলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
ডিএস./



















