বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে প্রকাশিত অভিযোগসংবলিত সংবাদ নতুন করে অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। পুরোনো অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাঁর আগের বক্তব্য ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সংবাদটি পুনঃপ্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন এই কর্মকর্তা। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আনোয়ারুল ইসলামের দেওয়া প্রতিবাদলিপি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংবাদমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানান। তাঁর দাবি, পরবর্তী সময়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রত্যাহার করে নেয়। সম্প্রতি পুরোনো সংবাদটি আবার বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে প্রতিবেদন প্রত্যাহারের বিষয়টি এবং পুনঃপ্রচারিত তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রকাশনাগুলো যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রদত্ত তথ্যমতে, আনোয়ারুল ইসলাম বর্তমানে পাহাড়তলীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের সরঞ্জাম বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ইনভেন্টরি কন্ট্রোল ডিরেক্টর ও অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রেলওয়ের সরঞ্জাম ক্রয়, লোকোমোটিভ ও রেলকোচের রক্ষণাবেক্ষণসংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং মজুত ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পেশাগত যোগ্যতার বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, তিনি সরকারি বৃত্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই (CIPS) থেকে প্রফেশনাল ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। ইনভেন্টরি কন্ট্রোল ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ডিজিটাল ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সনদপত্র, সরকারি নথি ও প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
একাধিক পদে দায়িত্ব পালন নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, রেলওয়েতে কর্মকর্তা সংকটের কারণে প্রশাসনিক প্রয়োজনে তাঁকে একাধিক পদের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এটি ব্যক্তিগত তদবিরের ফল নয় বলে তাঁর দাবি। সাবেক এক মন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সুবিধা গ্রহণ এবং মিষ্টি বিতরণসংক্রান্ত অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।
দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলামের দাবি, যথাযথ কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা অভিযোগ নিষ্পত্তির লিখিত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই ছাড়া অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সরকারি ক্রয় ও সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রয়প্রক্রিয়া বা রানিং পারচেজ অর্ডার (RPO) নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট ক্রয়াদেশ, অনুমোদন, নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং প্রযোজ্য বিধিমালার আলোকে তা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতেই অভিযোগকে মিথ্যা বলাও যথাযথ নয়।
প্রতিবাদলিপিতে আনোয়ারুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ঘিরে অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে ২০২৪ সালের মূল সংবাদ, তাঁর প্রতিবাদলিপি, প্রতিবেদন প্রত্যাহারের প্রমাণ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁর পেশাগত দায়িত্ব ও ক্রয়সংক্রান্ত কার্যক্রমের মূল্যায়নে দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনা করা হলে বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।
ডিএস./



















