০২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪

জাতীয় শোক দিবস : বঙ্গবন্ধু ছিলেন, বঙ্গবন্ধু আছেন

১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। আমরা গভীর ভাবে শোকাহত ও বেদনাহত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিভে গেছে রাজনৈতিক ঐতিহ্যের এক মশাল। এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঘাতক চক্রের হাতে নির্মমভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ
বাঙালি ও অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শাহাদাত বরণ করেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা ও মহান স্বাধীনতার রূপকার। তিনি বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রশ্নে ছিলেন আপোষহীন।

আগস্ট শোকের মাস তো বটেই, একই সঙ্গে সকলের আত্মোপলদ্ধির মাস। এ মাসেই আমরা হারিয়েছি বাংলাদেশের স্বধীনতার মহানায়ককে। হারিয়েছি একজন বড় মাপের মানুষকে। দলমত নির্বিশেষে বঙ্গবন্ধু ছিলেন দেশ ও জাতির সম্পদ। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু একই সূত্রে গাঁথা।

বছরে শুধু একদিন বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অমর কীর্তির আলোকে বিভিন্ন কমূসূচী গ্রহণপূর্বক ছুটির দিন উপভোগ ও জাতীয় শোক দিবস পালন করে বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও তার ঋণ পরিশোধ নিতান্তই অপ্রতুল। বঙ্গবন্ধু নামটি সবার প্রিয়। তিনি শাহাদাৎ বরণ করলেও তার চেতনা সর্বত্র বিরাজমান। অতল শ্রদ্ধায় তিনি আছেন লাল সবুজের দেশমাতৃকার প্রতি মমতার অমরত্বে। নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুকে ভালোভাবে তুলে ধরার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার অতি- আবশ্যকতা রয়েছে। ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু আমাদের মধ্যে নেই কিন্তু রয়েছে তার অমর কীর্তি। মানুষের মৃত্যু তখনি হয় যখনি আমরা সেই মানুষটিকে ভুলে যাই। আমরা বঙ্গবন্ধুকে ভুলিনি, তাই তার মৃত্যু হয়নি। তার অমর কীর্তির জন্য তিনি সকল বাঙ্গালির
হৃদয়ে চিরজীবিত আছেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে ও বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের ফসল বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষার নিমিত্ত দীপ্ত শপথ ও অঙ্গীকার গ্রহণের দিন। স্বাধীনতার স্বপ্ন সাধক বঙ্গবন্ধু শারীরিকভাবে হত হলেও তিঁনি বেঁচে আছেন বাংলার কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে। বঙ্গবন্ধুর জন্য বাংলার ঘরে ঘরে অনুতাপ শুরু হয়ে গেছে, যেমন অনুতাপ হয়েছিলো এ বাংলায় নবাব সিরাজুদ্দৌলার জন্য। একজন মানুষের মৃত্যু তখনই হয় যখন আমরা সেই মানুষটিকে ভুলে যায়। আমরা বঙ্গবন্ধুকে ভুলিনি সুতরাং তাঁর মৃত্যু হয়নি। তিঁনি ছিলেন, তিঁনি আছেন। আলো নিভে গেছে কিন্তু রয়ে গেছে আলোক রেখা। রেখে গেছেন তাঁর প্রজ্ঞার আলো, যে আলো পথ দেখাবে আমাদের আগামি দিনেও। শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের নেতা বঙ্গবন্ধু। ২০১৯ সালে জাতিসংঘ প্রথমবারের মতো জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে এবং বঙ্গবন্ধুকে ‘ফ্রেন্ড অব দ্যা ওয়াল্ড’ আখ্যা প্রদান করেছে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও সাহসী নেতা।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরষ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করলেও আওয়ামী লীগকে সরকার গঠন করতে দেয়া হয় নি। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান গণতন্ত্রের প্রতিশ্রতির মুখে কুঠারাঘাত করলেন। চারিদিকে চক্রান্তের জাল। পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র জনতা পুনরায় স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়লো। সুদীর্ঘ দুঃশাসন, শোষন ও
নীপিড়নের বহিঃপ্রকাশের ফলশ্রæতিস্বরুপ মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে মহান স্বাধীনতার ও বাংলাদেশের স্থাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৭ মার্চ ১৯৭১ এর ১৮ মিনিটে ১১০৮ শব্দ বিশিষ্ট ঐতিহাসিক ভাষণ সর্বপ্রনিধানযোগ্য। ঐতিহাসিক এ অর্থে যে, এ ভাষণের মধ্যে স্বাধীনতা ঘোষনার একটা উইল- ফোর্স, গাইড-লাইন ও স্প্রিরিট ছিল। ৭ মার্চ এবং বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ইতিহাস দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের। ৭ মার্চ সকল শ্রেণীর মানুষের আত্মার অস্তিত্বের নবজাগনের একটি দীপ্তমান দিন। এ মহিমা সকলের। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মণীয় দিন। গোটা জাতি এ দিনের পর থেকেই স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠে। মুক্তিপাগল বাঙালি বঙ্গবন্ধু নির্দেশনায় গর্জে উঠে। বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ কণ্ঠের সাহসী উচ্চারণই স্বাধীনতার দিক নির্দেশনা। এই নির্দেশনা পেয়েই মুলতঃ সারা দেশে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশের ইতিহাসের মূল্যয়নে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষনই স্বাধীনতার অভূদ্যয়ের প্রামান্য দলিল ও ঘোষনাতপত্র। যার প্রতিটি শব্দ মুক্তিসংগ্রাম আর স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত ছিল। পৃথিবীর ইতিহাসের এমন নজিরবিহীন ভাষনের মধ্য দিয়ে বাঙালির হৃদয়ের মনিকোঠায় সেই মহানায়ক স্বাধীনতার যে বীজ বপন করেছিলেন, নয় মাসের রক্তক্ষয়ী স্বশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই বীজ অঙ্কুরিত হয়ে রক্ত¯্রােতে ভেসে ফুলে ফলে পল্লবিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সাহসী ঘোষনার ও আপোষহীন নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়েই পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের ঝাপিয়ে পড়েছিল বাঙালি জাতি।

বৃটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির কাছে পরাজিত, পরাভূত, পর্যুদন্ত, আশাহীন, দিশাহীন একটি জাতির সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আর্ভিভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। স্বাধীনতার মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাংলার ভাগ্যাকাশে একটি উজ্জল নক্ষত্রের নাম। তিনি জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত ব্যয় করেছিলেন ঘুমন্ত
জাতির জাগরণের পিছনে। সম্বিতহারা জাতিকে আত্মশক্তিতে বীর্যবান করে তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন স্বাধীনতার দিকে। বহুমুখী প্রতিভার এক অবিস্মরণীয় যুগপুরুষ ছিলেন তিনি। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অপরিসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ের অর্জিত আজকেই এই বাংলাদেশ। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার প্রতীক ও জাতীয় বীর। বঙ্গবন্ধু ছিলেন খাটি দেশপ্রেমিক। আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলেও তার ভাবমুর্তি ছিল ব্যাপক।

১৫ আগস্ট তিনি বাংলার জন্য বাংলার মাটির জন্য, বাংলার মানুষের জন্য অকাতরে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। বাংলার জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য তার আত্মার অস্থিত্ব ছিল সর্বদা নিবেদিত ও উৎস্বর্গীকৃত। রাজনীতিতে আদর্শ ও মূল্যবোধের চর্চায় এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধু। অন্যান্য রাজনীতিবিদদের তিনি রোল-মডেল। তাই ইতিহাসের বঙ্গবন্ধু একটি হিরন্ময় নাম। বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সাল আমাদের জাতীয় জীবনের চিরস্মরণীয় বছর। স্বাধীনতা অর্জনের উদ্দেশ্য দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিল প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষ। অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদধাদের এক সগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন স্বাধীন। মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধারা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বঙ্গবন্ধু হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বীর বাঙালি আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন। মুক্তিযোদ্ধাদের মহিমান্বিত ও দুঃসাহসিক বীরত্বের অমরগাঁথা কাহিনী কোটি কোটি বাঙালি হৃদয়ের মনিকোঠায় চিরজাগরুক হয়ে থাকবে। বাঙালির যা কিছু বড় মাপের অর্জন, তা সম্ভব হয়েছে বাঙালির ঐক্য ও সংহতির ভিত্তিতে।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, কলারোয় সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জাতীয় শোক দিবস : বঙ্গবন্ধু ছিলেন, বঙ্গবন্ধু আছেন

প্রকাশিত : ০২:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৩

১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। আমরা গভীর ভাবে শোকাহত ও বেদনাহত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিভে গেছে রাজনৈতিক ঐতিহ্যের এক মশাল। এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঘাতক চক্রের হাতে নির্মমভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ
বাঙালি ও অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শাহাদাত বরণ করেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা ও মহান স্বাধীনতার রূপকার। তিনি বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রশ্নে ছিলেন আপোষহীন।

আগস্ট শোকের মাস তো বটেই, একই সঙ্গে সকলের আত্মোপলদ্ধির মাস। এ মাসেই আমরা হারিয়েছি বাংলাদেশের স্বধীনতার মহানায়ককে। হারিয়েছি একজন বড় মাপের মানুষকে। দলমত নির্বিশেষে বঙ্গবন্ধু ছিলেন দেশ ও জাতির সম্পদ। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু একই সূত্রে গাঁথা।

বছরে শুধু একদিন বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অমর কীর্তির আলোকে বিভিন্ন কমূসূচী গ্রহণপূর্বক ছুটির দিন উপভোগ ও জাতীয় শোক দিবস পালন করে বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও তার ঋণ পরিশোধ নিতান্তই অপ্রতুল। বঙ্গবন্ধু নামটি সবার প্রিয়। তিনি শাহাদাৎ বরণ করলেও তার চেতনা সর্বত্র বিরাজমান। অতল শ্রদ্ধায় তিনি আছেন লাল সবুজের দেশমাতৃকার প্রতি মমতার অমরত্বে। নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুকে ভালোভাবে তুলে ধরার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার অতি- আবশ্যকতা রয়েছে। ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু আমাদের মধ্যে নেই কিন্তু রয়েছে তার অমর কীর্তি। মানুষের মৃত্যু তখনি হয় যখনি আমরা সেই মানুষটিকে ভুলে যাই। আমরা বঙ্গবন্ধুকে ভুলিনি, তাই তার মৃত্যু হয়নি। তার অমর কীর্তির জন্য তিনি সকল বাঙ্গালির
হৃদয়ে চিরজীবিত আছেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে ও বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের ফসল বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষার নিমিত্ত দীপ্ত শপথ ও অঙ্গীকার গ্রহণের দিন। স্বাধীনতার স্বপ্ন সাধক বঙ্গবন্ধু শারীরিকভাবে হত হলেও তিঁনি বেঁচে আছেন বাংলার কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে। বঙ্গবন্ধুর জন্য বাংলার ঘরে ঘরে অনুতাপ শুরু হয়ে গেছে, যেমন অনুতাপ হয়েছিলো এ বাংলায় নবাব সিরাজুদ্দৌলার জন্য। একজন মানুষের মৃত্যু তখনই হয় যখন আমরা সেই মানুষটিকে ভুলে যায়। আমরা বঙ্গবন্ধুকে ভুলিনি সুতরাং তাঁর মৃত্যু হয়নি। তিঁনি ছিলেন, তিঁনি আছেন। আলো নিভে গেছে কিন্তু রয়ে গেছে আলোক রেখা। রেখে গেছেন তাঁর প্রজ্ঞার আলো, যে আলো পথ দেখাবে আমাদের আগামি দিনেও। শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের নেতা বঙ্গবন্ধু। ২০১৯ সালে জাতিসংঘ প্রথমবারের মতো জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে এবং বঙ্গবন্ধুকে ‘ফ্রেন্ড অব দ্যা ওয়াল্ড’ আখ্যা প্রদান করেছে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও সাহসী নেতা।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরষ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করলেও আওয়ামী লীগকে সরকার গঠন করতে দেয়া হয় নি। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান গণতন্ত্রের প্রতিশ্রতির মুখে কুঠারাঘাত করলেন। চারিদিকে চক্রান্তের জাল। পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র জনতা পুনরায় স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়লো। সুদীর্ঘ দুঃশাসন, শোষন ও
নীপিড়নের বহিঃপ্রকাশের ফলশ্রæতিস্বরুপ মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে মহান স্বাধীনতার ও বাংলাদেশের স্থাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৭ মার্চ ১৯৭১ এর ১৮ মিনিটে ১১০৮ শব্দ বিশিষ্ট ঐতিহাসিক ভাষণ সর্বপ্রনিধানযোগ্য। ঐতিহাসিক এ অর্থে যে, এ ভাষণের মধ্যে স্বাধীনতা ঘোষনার একটা উইল- ফোর্স, গাইড-লাইন ও স্প্রিরিট ছিল। ৭ মার্চ এবং বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ইতিহাস দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের। ৭ মার্চ সকল শ্রেণীর মানুষের আত্মার অস্তিত্বের নবজাগনের একটি দীপ্তমান দিন। এ মহিমা সকলের। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মণীয় দিন। গোটা জাতি এ দিনের পর থেকেই স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠে। মুক্তিপাগল বাঙালি বঙ্গবন্ধু নির্দেশনায় গর্জে উঠে। বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ কণ্ঠের সাহসী উচ্চারণই স্বাধীনতার দিক নির্দেশনা। এই নির্দেশনা পেয়েই মুলতঃ সারা দেশে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশের ইতিহাসের মূল্যয়নে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষনই স্বাধীনতার অভূদ্যয়ের প্রামান্য দলিল ও ঘোষনাতপত্র। যার প্রতিটি শব্দ মুক্তিসংগ্রাম আর স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত ছিল। পৃথিবীর ইতিহাসের এমন নজিরবিহীন ভাষনের মধ্য দিয়ে বাঙালির হৃদয়ের মনিকোঠায় সেই মহানায়ক স্বাধীনতার যে বীজ বপন করেছিলেন, নয় মাসের রক্তক্ষয়ী স্বশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই বীজ অঙ্কুরিত হয়ে রক্ত¯্রােতে ভেসে ফুলে ফলে পল্লবিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সাহসী ঘোষনার ও আপোষহীন নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়েই পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের ঝাপিয়ে পড়েছিল বাঙালি জাতি।

বৃটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির কাছে পরাজিত, পরাভূত, পর্যুদন্ত, আশাহীন, দিশাহীন একটি জাতির সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আর্ভিভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। স্বাধীনতার মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাংলার ভাগ্যাকাশে একটি উজ্জল নক্ষত্রের নাম। তিনি জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত ব্যয় করেছিলেন ঘুমন্ত
জাতির জাগরণের পিছনে। সম্বিতহারা জাতিকে আত্মশক্তিতে বীর্যবান করে তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন স্বাধীনতার দিকে। বহুমুখী প্রতিভার এক অবিস্মরণীয় যুগপুরুষ ছিলেন তিনি। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অপরিসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ের অর্জিত আজকেই এই বাংলাদেশ। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার প্রতীক ও জাতীয় বীর। বঙ্গবন্ধু ছিলেন খাটি দেশপ্রেমিক। আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলেও তার ভাবমুর্তি ছিল ব্যাপক।

১৫ আগস্ট তিনি বাংলার জন্য বাংলার মাটির জন্য, বাংলার মানুষের জন্য অকাতরে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। বাংলার জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য তার আত্মার অস্থিত্ব ছিল সর্বদা নিবেদিত ও উৎস্বর্গীকৃত। রাজনীতিতে আদর্শ ও মূল্যবোধের চর্চায় এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধু। অন্যান্য রাজনীতিবিদদের তিনি রোল-মডেল। তাই ইতিহাসের বঙ্গবন্ধু একটি হিরন্ময় নাম। বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সাল আমাদের জাতীয় জীবনের চিরস্মরণীয় বছর। স্বাধীনতা অর্জনের উদ্দেশ্য দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিল প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষ। অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদধাদের এক সগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন স্বাধীন। মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধারা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বঙ্গবন্ধু হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বীর বাঙালি আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন। মুক্তিযোদ্ধাদের মহিমান্বিত ও দুঃসাহসিক বীরত্বের অমরগাঁথা কাহিনী কোটি কোটি বাঙালি হৃদয়ের মনিকোঠায় চিরজাগরুক হয়ে থাকবে। বাঙালির যা কিছু বড় মাপের অর্জন, তা সম্ভব হয়েছে বাঙালির ঐক্য ও সংহতির ভিত্তিতে।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, কলারোয় সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে