চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম লাভজনক স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বন্দরে উত্তেজনা বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
পোর্ট ও শিপিং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আন্দোলনে সক্রিয় শ্রমিক ও কর্মচারীদের মধ্যে প্রায় ১৮০ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয় বলে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চারজন নেতাকে ইতোমধ্যে শাস্তিমূলক বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় সভা, সমাবেশ ও মিছিল এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পুলিশ প্রশাসন।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার। তিনি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের নামে ১৮০ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে। এই তালিকা তৈরিতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ভূমিকা রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “যারা আগে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন নীরব ভূমিকা পালন করছে। এটি সন্দেহজনক।”
তালিকা ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ প্রসঙ্গে নুরুল্লাহ বাহার বলেন, “এ ধরনের হুমকিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। আর মাত্র ১২ দিন পর নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেবে। তখন বিষয়টি আইনানুগভাবে মোকাবিলা করা হবে।”
অন্যদিকে, বন্দর এলাকায় নিষেধাজ্ঞার কারণে আজ রোববার বেলা ১১টায় শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর ঘোষিত কালো পতাকা মিছিল বন্দর গেট এলাকায় না হয়ে নগরের আগ্রাবাদ বাদামতলী বারিক বিল্ডিং মোড়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা ইস্যুতে চলমান এই টানাপোড়েন আগামী দিনগুলোতে আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএস./









