ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে আবাসিক এলাকার কাছে অবস্থিত একটি অস্ত্রভান্ডারে রাশিয়ার ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪২ জন, যাদের মধ্যে চার শিশু রয়েছে। বিস্ফোরণের ভয়াবহতায় আশপাশের প্রায় চারশো বাসিন্দাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে কিয়েভের পশ্চিমাঞ্চলীয় বুচা জেলার ওই অস্ত্রভান্ডারে হামলা চালায় রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ড্রোনের আঘাতের পর সেখানে মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ গোলা, মাইন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে আশপাশের আবাসিক এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এবং বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের একটি পরিচর্যা কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, আবাসিক এলাকার এত কাছে এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত রাখা মোটেই উচিত হয়নি। বিষয়টিকে ‘ভয়াবহ অবহেলা’ হিসেবে অভিহিত করে ঘটনার পেছনের দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আঞ্চলিক প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, বিস্ফোরণের প্রচণ্ড ধাক্কায় ওই এলাকার প্রায় ১৩০টি বসতবাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা দেখতে এখনও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন জরুরি সেবার কর্মীরা।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কিয়েভের পশ্চিমে মিলা গ্রামের একটি প্রধান গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে তারা নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। মস্কোর দাবি, ওই গুদামে ইউক্রেনীয় বাহিনীর দূরপাল্লার এফপি-১ ও এফপি-২ ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও লঞ্চ বুস্টার সংরক্ষিত ছিল।
গত কয়েক মাসের মধ্যে কিয়েভের নিকটবর্তী কোনো অস্ত্রভান্ডারে এটি দ্বিতীয় হামলার ঘটনা। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুত রাখা নিয়ে সরকারের ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অস্ত্রভান্ডার থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত নিজ বাড়ি পরিদর্শনের সময় ৪৫ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা লিউবভ পাভলেনকো আকুতি জানিয়ে বলেন, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে তাঁর ঘরবাড়ির সবকিছু ধসে গেছে এবং তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
ডিএস./




















