০৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরে রিকশা চালককে হত্যা, রিকশা ছিনতাই

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ছিনিয়ে নিতে মোখলেছুর রহমান (৫৫) নামে এক চালককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।হত্যার পর তাঁর ব্যাটারিচালিত রিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।গত শুক্রবার রাতে উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের শান্তিপাড়া-কাউয়াফান্দা এলাকার একটি বটগাছের নিচ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মোখলেছুর রহমান গঙ্গাচড়া উপজেলার নবনীদাস পাড়ার মৃত হামিদুর রহমানের ছেলে। তিনি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর শনিবার (২৯ আগস্ট)বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার বিকেলে রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন মোখলেছুর রহমান।পরে রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে রিকশাটি নিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে গজঘণ্টা ইউনিয়নের শান্তিপাড়া-কাউয়াফান্দা এলাকার একটি বটগাছের নিচে একজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাতের অন্ধকারে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাঁরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই মোখলেছুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যার পর তাঁর ব্যাটারিচালিত রিকশাটি নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মোখলেছুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, রাতের নির্জন এলাকায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিহতের রিকশাটি উদ্ধারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ছিনতাইকে হত্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হলেও তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হত্যার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর বলেন, ‘মোখলেছুর রহমান শুক্রবার বিকেলে রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা রিকশাটি ছিনিয়ে নিতে রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে তাঁকে হত্যা করে রিকশাটি নিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় বাসিন্দারা মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। হত্যার কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।’

ওসি আব্দুস সবুর বলেন, ‘হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তাদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

পুলিশ জানায়, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ ও হত্যার ধরন সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ডিএস./

ট্যাগ :

রংপুরে রিকশা চালককে হত্যা, রিকশা ছিনতাই

রংপুরে রিকশা চালককে হত্যা, রিকশা ছিনতাই

প্রকাশিত : ০৬:০০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ছিনিয়ে নিতে মোখলেছুর রহমান (৫৫) নামে এক চালককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।হত্যার পর তাঁর ব্যাটারিচালিত রিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।গত শুক্রবার রাতে উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের শান্তিপাড়া-কাউয়াফান্দা এলাকার একটি বটগাছের নিচ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মোখলেছুর রহমান গঙ্গাচড়া উপজেলার নবনীদাস পাড়ার মৃত হামিদুর রহমানের ছেলে। তিনি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর শনিবার (২৯ আগস্ট)বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার বিকেলে রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন মোখলেছুর রহমান।পরে রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে রিকশাটি নিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে গজঘণ্টা ইউনিয়নের শান্তিপাড়া-কাউয়াফান্দা এলাকার একটি বটগাছের নিচে একজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাতের অন্ধকারে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাঁরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই মোখলেছুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যার পর তাঁর ব্যাটারিচালিত রিকশাটি নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মোখলেছুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, রাতের নির্জন এলাকায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিহতের রিকশাটি উদ্ধারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ছিনতাইকে হত্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হলেও তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হত্যার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর বলেন, ‘মোখলেছুর রহমান শুক্রবার বিকেলে রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা রিকশাটি ছিনিয়ে নিতে রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে তাঁকে হত্যা করে রিকশাটি নিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় বাসিন্দারা মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। হত্যার কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।’

ওসি আব্দুস সবুর বলেন, ‘হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তাদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

পুলিশ জানায়, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ ও হত্যার ধরন সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ডিএস./