১০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রবিবার থেকে ৩০৫৬ জন প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষে বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।

বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে চাইলে আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন।

রিটার্নিং অফিসাররা যার যার এলাকায় জমা পড়া মনোনয়নপত্র বাছাই করে বৈধ প্রার্থীর তালিকা তৈরি করছেন। বাছাইয়ের সময় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে।

ঋণখেলাপি সনাক্ত করতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রার্থীদের তালিকা পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থীরা ঋণ বা বিল খেলাপি কি না, তাদের দেয়া আর্থিক তথ্যে অসঙ্গতি আছে কি না- তা যাচাই করা হবে।

মনোনয়ন গ্রহণ বা বাতিলের যে সিদ্ধান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা দেবেন, তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে আইনে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক বাতিল হওয়ার পর প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রাথমিক পর্যায়ে আপিল করতে পারেন। নির্বাচন কমিশনও যদি প্রার্থীর আবেদন বাতিল করে দেয় তখন প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করতে পারবেন। হাইকোর্ট যদি তার আবেদন মঞ্জুর করেন তাহলে ওই প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

গত ২৮ নভেম্বর ছিল মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ছিল। ওইদিন নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস বিফ্রিংয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, ৩০৫৬ মনোনয়নপত্রের মধ্যে রংপুর বিভাগে ৩৬১টি, রাজশাহীতে ৩৫৩, খুলনায় ৩৫১, বরিশাল ১৮২, ময়মনসিংহে ২৩৬, ঢাকায় ৭০৮, সিলেটে ১৭৭ ও চট্টগ্রামে ৬৮৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরো জানা যায়, সর্বোচ্চ মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ঢাকা-৮ আসনে। এ আসনে ২২ জন। আর সর্বনিম্ন মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে মাগুরা-২ আসনে। এ আসনে চারজন।

পুনঃতফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ ডিসেম্বর।

যেভাবে বাছাই করা হয় মনোনয়নপত্র:

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় প্রার্থী, তাদের এজেন্ট, প্রস্তাবকারী, সমর্থনকারী ও প্রার্থী নিযুক্ত আইনজীবী বা অন্য কেউ উপস্থিত থাকতে পারেন। তারা যদি মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করে দেখতে চান তবে তাদের যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিতে হবে।

উপস্থিত সবার সামনে রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন; কেউ কোনো মনোনয়নপত্র সম্পর্কে আপত্তি তুললে তার নিষ্পত্তি করতে হবে।

তাছাড়া কোনো আপত্তির ভিত্তিতে অথবা স্বউদ্যোগে যুক্তিযুক্ত মনে করলে যে কোনো মনোনয়নপত্রের বৈধতা সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসার সংক্ষিপ অনুসন্ধান করতে পারবেন।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসার মূলত দেখবেন- ক) প্রার্থী সংসদ নির্বাচনে যোগ্য কিনা খ) প্রস্তাবক/সমর্থক মনোনয়নপত্রে প্রস্তাব/সমর্থনের যোগ্য কিনা গ) আরওপিও ১২ বা ১৩ অনুচ্ছেদের বিধান যথাযথভাবে পালিত হয়েছে কিনা ঘ) প্রার্থী ও প্রস্তাবক-সমর্থক স্বাক্ষর সঠিক কিনা।

ছোটখাটো ত্রুটির জন্য মনোনয়নপত্র বাতিল করবেন না রিটার্নিং অফিসার। যদি বাছাইয়ে এমন ত্রুটি নজরে আসে যা তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন সম্ভব, তা মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের দিয়ে সংশোধন করিয়ে নিতে হবে। তবে হলফনামায় কোনো তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না।

যদি কোনো প্রার্থী একাধিক মনোনয়পত্র জমা দেন তবে বাছাইয়ে একটি মনোনয়নপত্র বৈধ পাওয়া গেলে অন্য মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের প্রয়োজন পড়বে না। কোনো প্রার্থীর একটি মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণে ওই প্রার্থীর অন্য কোনো বৈধ মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে না। অর্থাৎ শুধু একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই তার প্রার্থিতা অটুট থাকবে।

মনোনয়নপত্র গ্রহণ অথবা বাতিল প্রসঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত মনোনয়নপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীর তালিকা করবেন রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ের সামনে দর্শনীয় স্থানে তা টাঙিয়ে দেয়া হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে তালিকার অনুলিপি পাঠাতে হবে।

বিবি/জেজে

ট্যাগ :

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলছে

প্রকাশিত : ১২:২৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রবিবার থেকে ৩০৫৬ জন প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষে বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।

বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে চাইলে আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন।

রিটার্নিং অফিসাররা যার যার এলাকায় জমা পড়া মনোনয়নপত্র বাছাই করে বৈধ প্রার্থীর তালিকা তৈরি করছেন। বাছাইয়ের সময় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে।

ঋণখেলাপি সনাক্ত করতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রার্থীদের তালিকা পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থীরা ঋণ বা বিল খেলাপি কি না, তাদের দেয়া আর্থিক তথ্যে অসঙ্গতি আছে কি না- তা যাচাই করা হবে।

মনোনয়ন গ্রহণ বা বাতিলের যে সিদ্ধান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা দেবেন, তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে আইনে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক বাতিল হওয়ার পর প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রাথমিক পর্যায়ে আপিল করতে পারেন। নির্বাচন কমিশনও যদি প্রার্থীর আবেদন বাতিল করে দেয় তখন প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করতে পারবেন। হাইকোর্ট যদি তার আবেদন মঞ্জুর করেন তাহলে ওই প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

গত ২৮ নভেম্বর ছিল মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ছিল। ওইদিন নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস বিফ্রিংয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, ৩০৫৬ মনোনয়নপত্রের মধ্যে রংপুর বিভাগে ৩৬১টি, রাজশাহীতে ৩৫৩, খুলনায় ৩৫১, বরিশাল ১৮২, ময়মনসিংহে ২৩৬, ঢাকায় ৭০৮, সিলেটে ১৭৭ ও চট্টগ্রামে ৬৮৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরো জানা যায়, সর্বোচ্চ মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ঢাকা-৮ আসনে। এ আসনে ২২ জন। আর সর্বনিম্ন মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে মাগুরা-২ আসনে। এ আসনে চারজন।

পুনঃতফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ ডিসেম্বর।

যেভাবে বাছাই করা হয় মনোনয়নপত্র:

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় প্রার্থী, তাদের এজেন্ট, প্রস্তাবকারী, সমর্থনকারী ও প্রার্থী নিযুক্ত আইনজীবী বা অন্য কেউ উপস্থিত থাকতে পারেন। তারা যদি মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করে দেখতে চান তবে তাদের যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিতে হবে।

উপস্থিত সবার সামনে রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন; কেউ কোনো মনোনয়নপত্র সম্পর্কে আপত্তি তুললে তার নিষ্পত্তি করতে হবে।

তাছাড়া কোনো আপত্তির ভিত্তিতে অথবা স্বউদ্যোগে যুক্তিযুক্ত মনে করলে যে কোনো মনোনয়নপত্রের বৈধতা সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসার সংক্ষিপ অনুসন্ধান করতে পারবেন।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসার মূলত দেখবেন- ক) প্রার্থী সংসদ নির্বাচনে যোগ্য কিনা খ) প্রস্তাবক/সমর্থক মনোনয়নপত্রে প্রস্তাব/সমর্থনের যোগ্য কিনা গ) আরওপিও ১২ বা ১৩ অনুচ্ছেদের বিধান যথাযথভাবে পালিত হয়েছে কিনা ঘ) প্রার্থী ও প্রস্তাবক-সমর্থক স্বাক্ষর সঠিক কিনা।

ছোটখাটো ত্রুটির জন্য মনোনয়নপত্র বাতিল করবেন না রিটার্নিং অফিসার। যদি বাছাইয়ে এমন ত্রুটি নজরে আসে যা তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন সম্ভব, তা মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের দিয়ে সংশোধন করিয়ে নিতে হবে। তবে হলফনামায় কোনো তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না।

যদি কোনো প্রার্থী একাধিক মনোনয়পত্র জমা দেন তবে বাছাইয়ে একটি মনোনয়নপত্র বৈধ পাওয়া গেলে অন্য মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের প্রয়োজন পড়বে না। কোনো প্রার্থীর একটি মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণে ওই প্রার্থীর অন্য কোনো বৈধ মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে না। অর্থাৎ শুধু একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই তার প্রার্থিতা অটুট থাকবে।

মনোনয়নপত্র গ্রহণ অথবা বাতিল প্রসঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত মনোনয়নপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীর তালিকা করবেন রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ের সামনে দর্শনীয় স্থানে তা টাঙিয়ে দেয়া হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে তালিকার অনুলিপি পাঠাতে হবে।

বিবি/জেজে