০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

বাসের অগ্রিম টিকিটও অনলাইনে, স্বস্তিতে যাত্রীরা

ঈদের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে বাড়ি চলে যান রাজধানীর বেশিরভাগ কর্মব্যস্ত মানুষ। তবে টিকিট কাটা নিয়ে প্রতিবছরই ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। এবার অবশ্য চিত্রটা ভিন্ন। রেলের মতো বাসের অগ্রিম টিকিটও অনলাইনে কাটতে পারছেন না। এতে কমেছে ভোগান্তি। নেই বাড়তি ভাড়ার চাপ। কিছু পরিবহনের কয়েকটি কাউন্টারে ঈদের অগ্রিম টিকিট সরাসরি কাটার সুযোগ থাকলেও দীর্ঘ ছাড়াই যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন।

রাজধানীর কল্যাণপুর, গাবতলী বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, পরিবহনগুলোর কাউন্টার ঘিরে নেই কোনো ভিড়। অল্প কিছু মানুষ আসছেন টিকিট কাটতে। তারাও কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়া নির্ধারিত গন্তব্যের টিকিট কিনে চলে যাচ্ছেন।

রাজধানীর কল্যাণপুরে শ্যামলী এনআর পরিবহনের টিকিট কাটতে আসা শিহাব মণ্ডল সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আমার মনে হয়। যদি সড়কে যানজটের সৃষ্টি না হয় তাহলে মানুষ শান্তিতে বাড়ি যেতে পারবে।”

তিনি আরও বলেন, “ঈদ এলেই টিকিট কেনার বিড়ম্বনায় পড়ে বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছা নষ্ট হয়ে যায়। এবার অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট কাটার ব্যবস্থা করায় কাউন্টারগুলোতে ভোগান্তি কমেছে। আবার সব কাউন্টারেই ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি না হওয়ায় যাত্রীদের জন্য স্বস্তির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কেউ চাইলেই ঘরে বসেই ঈদের টিকিট কাটতে পারবে।”

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শিহাব মণ্ডল বলেন, “বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার টিকিটের মূল্য খুব একটা বেশি নয়। যেমন, আগে ঢাকা থেকে রংপুরের টিকিট কাটতাম ৮০০ টাকায়, এখন সেই টিকিট ৮৭০ টাকায় কিনতে হলো। ভোগান্তি ছাড়া টিকিট সংগ্রহে যদি ৭০ টাকা বেশি যায় তাতে ক্ষতি কি? তবে এই পদ্ধতি আগামীতে চালু রাখলে আমাদের মতো চাকরিজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি।”

 

সরেজমিনে গাবতলী, কল্যাণপুর, মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঈদযাত্রায় বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হলে যেমন যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যেত, এখন সেই চিরচেনা রূপ নেই। অধিকাংশ কাউন্টারে আগামী মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হচ্ছে এবং স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের মতো যাত্রী দেখা গেছে।

তথ্য বলছে, বিগত সময়ে ঈদের অগ্রিম টিকিট অনলাইনে বিক্রি হলে টিকিট কাটতে ভোগান্তি পোহাতো হতো যাত্রীদের। সফটওয়্যারের ত্রুটি, টিকিট কালোবাজারিসহ ইত্যাদি ঝামেলা পোহাতে হতো। তবে এবার অনলাইনে টিকিট কাটতে কোনো বিড়ম্বন বা সফটওয়্যারের কোনো ঝামেলা নেই বলে সংবাদ প্রকাশকে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তারা জানান, এখন পর্যন্ত কাউন্টারে টিকিট কাটতে কোনো রকমের ভোগান্তি কিংবা সফটওয়্যারের সমস্যা হয়নি। এছাড়াও যাত্রীদের বাসায় বসে টিকিট কাটতে ঝামেলা হয়েছে এমন অভিযোগও আসেনি।

কল্যাণপুর শ্যামলী কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা সাব্বির আহমেদ সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “এখনও পুরোপুরি টিকিট বিক্রির কার্যক্রম জমে ওঠেনি। যদি কাউন্টারে অগ্রিম টিকিট বিক্রি হতো, তাহলে যাত্রীদের ভিড় বাড়ত। অনলাইনে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হওয়ায় মানুষ ঘরে বসেই স্বাচ্ছন্দ্যে অগ্রিম টিকিট কাটছেন। ফলে আমরাও ভোগান্তি থেকে বেঁচে গেছি, যাত্রীরাও হয়রানি থেকে মুক্তি পেয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারি মূল্য হিসেবে টিকিট বিক্রি করছি। যেমন স্বাভাবিক সময়ে বরিশালের টিকিটি বিক্রি হয়েছে ৬৫০ টাকা, অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে ৭০০ টাকায়। স্বাভাবিক সময়ে রংপুরের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা, অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৮৭০ টাকা। এতে যাত্রীদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে তারা অনেক খুশি এবং স্বস্তিদায়ক বলে আমাদের কাছে মতামত প্রকাশ করছেন।”

সূত্র বলছে, টিকিট কালোবাজারি রোধ করা, যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো ও জনগণকে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা উপহার দিতেই অনলাইন টিকিট বিক্রি কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ বিষয়ে মতামত জানতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবহন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সংবাদ প্রকাশকে বলেন, টিকিট কালোবাজারি রোধে এবার কঠোর পরিবহন মালিক সমিতি। জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরবে এটা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তারা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথেও মত বিনিময় সভা করে যানজট নিরসনে সহযোগিতা চাওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাসের অগ্রিম টিকিটও অনলাইনে, স্বস্তিতে যাত্রীরা

প্রকাশিত : ০৭:১২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪

ঈদের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে বাড়ি চলে যান রাজধানীর বেশিরভাগ কর্মব্যস্ত মানুষ। তবে টিকিট কাটা নিয়ে প্রতিবছরই ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। এবার অবশ্য চিত্রটা ভিন্ন। রেলের মতো বাসের অগ্রিম টিকিটও অনলাইনে কাটতে পারছেন না। এতে কমেছে ভোগান্তি। নেই বাড়তি ভাড়ার চাপ। কিছু পরিবহনের কয়েকটি কাউন্টারে ঈদের অগ্রিম টিকিট সরাসরি কাটার সুযোগ থাকলেও দীর্ঘ ছাড়াই যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন।

রাজধানীর কল্যাণপুর, গাবতলী বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, পরিবহনগুলোর কাউন্টার ঘিরে নেই কোনো ভিড়। অল্প কিছু মানুষ আসছেন টিকিট কাটতে। তারাও কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়া নির্ধারিত গন্তব্যের টিকিট কিনে চলে যাচ্ছেন।

রাজধানীর কল্যাণপুরে শ্যামলী এনআর পরিবহনের টিকিট কাটতে আসা শিহাব মণ্ডল সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আমার মনে হয়। যদি সড়কে যানজটের সৃষ্টি না হয় তাহলে মানুষ শান্তিতে বাড়ি যেতে পারবে।”

তিনি আরও বলেন, “ঈদ এলেই টিকিট কেনার বিড়ম্বনায় পড়ে বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছা নষ্ট হয়ে যায়। এবার অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট কাটার ব্যবস্থা করায় কাউন্টারগুলোতে ভোগান্তি কমেছে। আবার সব কাউন্টারেই ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি না হওয়ায় যাত্রীদের জন্য স্বস্তির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কেউ চাইলেই ঘরে বসেই ঈদের টিকিট কাটতে পারবে।”

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শিহাব মণ্ডল বলেন, “বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার টিকিটের মূল্য খুব একটা বেশি নয়। যেমন, আগে ঢাকা থেকে রংপুরের টিকিট কাটতাম ৮০০ টাকায়, এখন সেই টিকিট ৮৭০ টাকায় কিনতে হলো। ভোগান্তি ছাড়া টিকিট সংগ্রহে যদি ৭০ টাকা বেশি যায় তাতে ক্ষতি কি? তবে এই পদ্ধতি আগামীতে চালু রাখলে আমাদের মতো চাকরিজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি।”

 

সরেজমিনে গাবতলী, কল্যাণপুর, মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঈদযাত্রায় বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হলে যেমন যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যেত, এখন সেই চিরচেনা রূপ নেই। অধিকাংশ কাউন্টারে আগামী মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হচ্ছে এবং স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের মতো যাত্রী দেখা গেছে।

তথ্য বলছে, বিগত সময়ে ঈদের অগ্রিম টিকিট অনলাইনে বিক্রি হলে টিকিট কাটতে ভোগান্তি পোহাতো হতো যাত্রীদের। সফটওয়্যারের ত্রুটি, টিকিট কালোবাজারিসহ ইত্যাদি ঝামেলা পোহাতে হতো। তবে এবার অনলাইনে টিকিট কাটতে কোনো বিড়ম্বন বা সফটওয়্যারের কোনো ঝামেলা নেই বলে সংবাদ প্রকাশকে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তারা জানান, এখন পর্যন্ত কাউন্টারে টিকিট কাটতে কোনো রকমের ভোগান্তি কিংবা সফটওয়্যারের সমস্যা হয়নি। এছাড়াও যাত্রীদের বাসায় বসে টিকিট কাটতে ঝামেলা হয়েছে এমন অভিযোগও আসেনি।

কল্যাণপুর শ্যামলী কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা সাব্বির আহমেদ সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “এখনও পুরোপুরি টিকিট বিক্রির কার্যক্রম জমে ওঠেনি। যদি কাউন্টারে অগ্রিম টিকিট বিক্রি হতো, তাহলে যাত্রীদের ভিড় বাড়ত। অনলাইনে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হওয়ায় মানুষ ঘরে বসেই স্বাচ্ছন্দ্যে অগ্রিম টিকিট কাটছেন। ফলে আমরাও ভোগান্তি থেকে বেঁচে গেছি, যাত্রীরাও হয়রানি থেকে মুক্তি পেয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারি মূল্য হিসেবে টিকিট বিক্রি করছি। যেমন স্বাভাবিক সময়ে বরিশালের টিকিটি বিক্রি হয়েছে ৬৫০ টাকা, অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে ৭০০ টাকায়। স্বাভাবিক সময়ে রংপুরের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা, অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৮৭০ টাকা। এতে যাত্রীদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে তারা অনেক খুশি এবং স্বস্তিদায়ক বলে আমাদের কাছে মতামত প্রকাশ করছেন।”

সূত্র বলছে, টিকিট কালোবাজারি রোধ করা, যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো ও জনগণকে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা উপহার দিতেই অনলাইন টিকিট বিক্রি কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ বিষয়ে মতামত জানতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবহন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সংবাদ প্রকাশকে বলেন, টিকিট কালোবাজারি রোধে এবার কঠোর পরিবহন মালিক সমিতি। জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরবে এটা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তারা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথেও মত বিনিময় সভা করে যানজট নিরসনে সহযোগিতা চাওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ