০২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪

এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ড, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি বিচার

ছবি সংগৃহীত

দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। কালো ধোঁয়ায় অন্ধকারচ্ছন্ন চারপাশ। ২২তলা ভবনটিতে থাকা মানুষের আত্মচিৎকার ও বাঁচার প্রাণপণ চেষ্টা। অনেকে সুউচ্চভবনটির কাঁচের দেয়াল বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ হাত ফসকে নিচে পড়ে মারাত্মক আহত হচ্ছেন। খবর পেয়ে মুহূর্তেই ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থার জরুরি কর্মীরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার থেকেও পানি ছিটানো হয়। কিন্তু কিছুতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসছে না। আগুন থেকে রক্ষা পেতে অনেকে লাফিয়ে নিচে পড়ছেন। শুনে মনে হতে পারে এটি কোনো হলিউড বা বলিউড সিনেমার দৃশ্য। কিন্তু না এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়। ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ এমনই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল রাজধানী ঢাকার বনানীর ফারুক-রূপায়ন (এফআর) টাওয়ারে। ভয়াবহ সেই অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জন প্রাণ হারান। এ ছাড়া অনেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও পোড়া ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। পাঁচ বছর পূর্ণ হলেও অগ্নিকাণ্ডে দায়ের হওয়া মামলার বিচারকাজ এখনও শেষ হয়নি।

বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় ওই বছরের ৩০ মার্চ বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মিল্টন দত্ত একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে এস এম এইচ আই ফারুক, রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ও তাসভীরুল ইসলামকে আসামি করা হয়। অন্যদিকে নকশা জালিয়াতির অভিযোগে অপর মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পুলিশের মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভবনটির জমির মালিক প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুক। টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভিরুল ইসলাম, রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ওরফে মুকুল এবং এফ আর টাওয়ার বিল্ডিং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা অসৎ উদ্দেশ্যে আর্থিক সুবিধার লোভে নির্মাণ বিধিমালা না মানায় এফআর টাওয়ারে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর পুলিশের দায়ের করা মামলটিতে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটে এস এম এইচ আই ফারুক, তাজভীরুল ইসলাম, সেলিম উল্লাহ, এ এ মনিরুজ্জামান, সৈয়দ আমিনুর রহমান, ওয়ারদা ইকবাল, কাজী মাহমুদুন নবী ও রফিকুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খানকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক সমীর চন্দ্র সূত্রধর। পরে মামলাটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত না হওয়ায় পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন ঢাকার সিএমএম আদালত। পরবর্তীতে গত ২২ জানুয়ারি একই আসামিদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রফিকুল ইসলাম। পিবিআইয়ের চার্জশিট থেকেও লিয়াকত আলী খান মুকুলকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রশিদুল আলমের আদালত ৮ আসামির বিরুদ্ধে পিবিআইয়ের চার্জশিট গ্রহণ করেন। সবশেষ গত ১২ মার্চ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রশিদুল আলমের আদালত বিচারের জন্য মামলার নথি সিএমএম বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু গণমাধ্যমকে বলেন, মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হবে। আমরা চেষ্টা করবো সাক্ষীদের হাজির করে যতদ্রুত সম্ভব মামলার বিচারকাজ শেষ করার।

অন্যদিকে এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর নকশা জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৮ সালের ২৫ জুন দুদকের উপপরিচালক মো. আবুবকর সিদ্দিক বাদী হয়ে পৃথক মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন এবং নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলাবিশিষ্ট এফ আর টাওয়ার নির্মাণ করেন। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে ভবনের দুই পাশে যে পরিমাণ জায়গা রাখার কথা তা–ও রাখা হয়নি। এ ছাড়া আবাসিক ভবন হিসেবে অনুমোদন নেওয়া হলেও পুরো ভবনটি ব্যবহার করা হয়েছে বাণিজ্যিক কাজে।

নকশা জালিয়াতির মামলায় ভবন মালিক ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলসহ ৪ জনের বিচার চলছে। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। মামলার অপর আসামিরা হলেন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ূন খাদেম, রূপায়ন গ্রুপের কর্ণধার লিয়াকত আলী খান মুকুল ও রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

জনপ্রিয়

ইসরায়েলকে সতর্ক করল হোয়াইট হাউজ

এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ড, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি বিচার

প্রকাশিত : ০২:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪

দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। কালো ধোঁয়ায় অন্ধকারচ্ছন্ন চারপাশ। ২২তলা ভবনটিতে থাকা মানুষের আত্মচিৎকার ও বাঁচার প্রাণপণ চেষ্টা। অনেকে সুউচ্চভবনটির কাঁচের দেয়াল বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ হাত ফসকে নিচে পড়ে মারাত্মক আহত হচ্ছেন। খবর পেয়ে মুহূর্তেই ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থার জরুরি কর্মীরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার থেকেও পানি ছিটানো হয়। কিন্তু কিছুতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসছে না। আগুন থেকে রক্ষা পেতে অনেকে লাফিয়ে নিচে পড়ছেন। শুনে মনে হতে পারে এটি কোনো হলিউড বা বলিউড সিনেমার দৃশ্য। কিন্তু না এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়। ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ এমনই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল রাজধানী ঢাকার বনানীর ফারুক-রূপায়ন (এফআর) টাওয়ারে। ভয়াবহ সেই অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জন প্রাণ হারান। এ ছাড়া অনেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও পোড়া ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। পাঁচ বছর পূর্ণ হলেও অগ্নিকাণ্ডে দায়ের হওয়া মামলার বিচারকাজ এখনও শেষ হয়নি।

বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় ওই বছরের ৩০ মার্চ বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মিল্টন দত্ত একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে এস এম এইচ আই ফারুক, রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ও তাসভীরুল ইসলামকে আসামি করা হয়। অন্যদিকে নকশা জালিয়াতির অভিযোগে অপর মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পুলিশের মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভবনটির জমির মালিক প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুক। টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভিরুল ইসলাম, রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ওরফে মুকুল এবং এফ আর টাওয়ার বিল্ডিং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা অসৎ উদ্দেশ্যে আর্থিক সুবিধার লোভে নির্মাণ বিধিমালা না মানায় এফআর টাওয়ারে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর পুলিশের দায়ের করা মামলটিতে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটে এস এম এইচ আই ফারুক, তাজভীরুল ইসলাম, সেলিম উল্লাহ, এ এ মনিরুজ্জামান, সৈয়দ আমিনুর রহমান, ওয়ারদা ইকবাল, কাজী মাহমুদুন নবী ও রফিকুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খানকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক সমীর চন্দ্র সূত্রধর। পরে মামলাটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত না হওয়ায় পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন ঢাকার সিএমএম আদালত। পরবর্তীতে গত ২২ জানুয়ারি একই আসামিদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রফিকুল ইসলাম। পিবিআইয়ের চার্জশিট থেকেও লিয়াকত আলী খান মুকুলকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রশিদুল আলমের আদালত ৮ আসামির বিরুদ্ধে পিবিআইয়ের চার্জশিট গ্রহণ করেন। সবশেষ গত ১২ মার্চ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রশিদুল আলমের আদালত বিচারের জন্য মামলার নথি সিএমএম বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু গণমাধ্যমকে বলেন, মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হবে। আমরা চেষ্টা করবো সাক্ষীদের হাজির করে যতদ্রুত সম্ভব মামলার বিচারকাজ শেষ করার।

অন্যদিকে এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর নকশা জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৮ সালের ২৫ জুন দুদকের উপপরিচালক মো. আবুবকর সিদ্দিক বাদী হয়ে পৃথক মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন এবং নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলাবিশিষ্ট এফ আর টাওয়ার নির্মাণ করেন। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে ভবনের দুই পাশে যে পরিমাণ জায়গা রাখার কথা তা–ও রাখা হয়নি। এ ছাড়া আবাসিক ভবন হিসেবে অনুমোদন নেওয়া হলেও পুরো ভবনটি ব্যবহার করা হয়েছে বাণিজ্যিক কাজে।

নকশা জালিয়াতির মামলায় ভবন মালিক ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলসহ ৪ জনের বিচার চলছে। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। মামলার অপর আসামিরা হলেন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ূন খাদেম, রূপায়ন গ্রুপের কর্ণধার লিয়াকত আলী খান মুকুল ও রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে