০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

বায়ার্নকে টপকে ১২০ বছরের আক্ষেপ ঘুচালো লেভারকুসেন

জার্মান বুন্দেসলিগার ক্লাব লেভারকুসেন। ক্লাব প্রতিষ্ঠার শত বছর পেরোলেও জার্মান লিগে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি দলটি। তবে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে রূপকথার গল্প লিখলেন কোচ শাবি আলোন্সো। সবশেষ ম্যাচে ভেরডার ব্রেমেনকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লেভারকুসেন। এতে বায়ার্ন মিউনিখের ১১ বছরের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে জার্মান বুন্দেসলিগার নতুন চ্যাম্পিয়ন লেভারকুসেন ।

গতকালের এই জয়ের পর লেভারকুসেনের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২৯ ম্যাচে ৭৯। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের পয়েন্ট সমান ম্যাচে ৬৩। দুই দলের ব্যবধান ১৬ পয়েন্ট হয়ে যাওয়ায় পরের পাঁচ ম্যাচে হারলেও শীর্ষেই থাকবেই লেভারকুসেন। ১২০ বছরের ক্লাব ইতিহাসে এটিই শীর্ষ লিগে লেভারকুসেনের প্রথম ট্রফি। এর আগে পাঁচবার রানার্সআপ হয়েছে তারা।

জিতলেই ক্লাব ইতিহাসের প্রথম লিগ শিরোপা। বায়ার লেভারকুসেনের সামনে সমীকরণ ছিল ঠিক এতোটাই সরল। সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে আক্রমণাত্মক শুরুই করেছিল তারা। ২৫ মিনিটে প্রথম গোল আসে পেনাল্টি থেকে। ভিক্টর বনিফেসের গোলের পর থেকেই উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে যায় বে অ্যারেনায়।

গ্রানিত শাকা লেভারকুসেনে এসেছিলেন একরাশ সমালোচনা নিয়ে। আর্সেনাল থেকে রীতিমত সমর্থকদের চক্ষুশূল হয়ে বিদায় নিলেন। কিন্তু লেভারকুসেনের জার্সিতে যেন নিজের ফুটবলীয় প্রতিভার সবটা দেখিয়ে দিলেন। দারুণ এক গোল দলকে নিয়ে গেলেন শিরোপার আরও কাছে।

বাকি সময়টা কেবলই ফ্লোরিয়ান ভির্টজ আর বে অ্যারেনার সমর্থকদের। পুরো মৌসুমে দাপুটে ফুটবল উপহার দেয়া লেভারকুসেন শেষ আধঘণ্টায় ছিল আরও ক্ষিপ্র। ৮৪ মিনিটে চতুর্থ গোলের পরেই সমর্থকরা নেমে পড়েন মাঠে। কয়েক মিনিট বন্ধ ছিল সে সময়। ৮৯ মিনিটে গোলের পর আর আটকানো সম্ভব হয়নি। ৫-০ গোলের জয় নিশ্চিত।

সেই সঙ্গে নিশ্চিত ক্লাব ইতিহাসের প্রথম শিরোপা। সমর্থকদের আটকে রাখা তো দায়! রেফারিও তাই বাধ্য হয়ে বাজালেন বাঁশি। ওই এক বাঁশির শব্দেই শেষ হলো বুন্দেসলিগায় টানা ১১ বছরের বায়ার্ন মিউনিখের রাজত্ব। বুন্দেসলিগায় ৫ ম্যাচ বাকি থাকতেই শিরোপা নিশ্চিত করলো বায়ার লেভারকুসেন।

এই মৌসুমের আগে ক্লাবের ইতিহাসের সোনালি সময় ছিল ১৯৯৬-৯৭ থেকে পরের ছয় মৌসুম। এই সময়টায় চারবার বুন্ডেসলিগায় রানার্স আপ হয় তারা। একবার রানার্স আপ হয় জার্মান কাপে। এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ফাইনালে উঠে শেষ পর্যন্ত হেরে যায় রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। ক্লাবের এই সোনালী সময়ের ইতিহাসও তাই মূলত বেদনায় গাঁথা অপ্রাপ্তির গল্প। বারবার কাছে গিয়েও চূড়ান্ত সাফল্য না পাওয়ায় কৌতূক করে তাদের নামে দেওয়া হয় ‘নেভারকুজেন’, যাদেরকে দিয়ে কখনোই সম্ভব নয়।

কিন্তু আলোন্সো আর তার দল সেই ইতিহাস পাল্টে দিল। ক্লাবকে তারা এনে দিলেন ১২০ বছরের ইতিহাসের সেরা সাফল্য। ২০২২ সালের অক্টোবরে যখন ক্লাবের হাল ধরেন শাবি, লেভারকুজেন তখন ভয়ানকভাবে ধুঁকছে। বুন্ডেসলিগার পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান ছিল ১৭তম। শাবির জন্য সেটিই ছিল শীর্ষ পর্যায়ের কোনো ক্লাবের প্রথম দায়িত্ব। কোচিং অভিজ্ঞতা বলতে ছিল রিয়াল সোসিয়াদাদের ‘বি’ দলের হয়ে তিন বছর কাজ করা। সেই শাবির কোচিংয়েই রেলিগেশনের শঙ্কা উড়িয়ে লেভারকুসেন মৌসুম শেষ করে ষষ্ঠ স্থানে থেকে।

উত্থানের সেই গল্প নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যায় এই মৌসুমে। শাবির কোচিংয়ে লেভারকুসেন হয়ে ওঠে অজেয় ও অপ্রতিরোধ্য। একের পর এক ম্যাচ জিতে, রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ বাকি থাকতেই তারা নিশ্চিত করে ফেলল শিরোপা জয়। লেভারকুসেনের ১২০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার বুন্ডেসলিগা চ্যাম্পিয়ন।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

বায়ার্নকে টপকে ১২০ বছরের আক্ষেপ ঘুচালো লেভারকুসেন

প্রকাশিত : ০১:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪

জার্মান বুন্দেসলিগার ক্লাব লেভারকুসেন। ক্লাব প্রতিষ্ঠার শত বছর পেরোলেও জার্মান লিগে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি দলটি। তবে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে রূপকথার গল্প লিখলেন কোচ শাবি আলোন্সো। সবশেষ ম্যাচে ভেরডার ব্রেমেনকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লেভারকুসেন। এতে বায়ার্ন মিউনিখের ১১ বছরের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে জার্মান বুন্দেসলিগার নতুন চ্যাম্পিয়ন লেভারকুসেন ।

গতকালের এই জয়ের পর লেভারকুসেনের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২৯ ম্যাচে ৭৯। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের পয়েন্ট সমান ম্যাচে ৬৩। দুই দলের ব্যবধান ১৬ পয়েন্ট হয়ে যাওয়ায় পরের পাঁচ ম্যাচে হারলেও শীর্ষেই থাকবেই লেভারকুসেন। ১২০ বছরের ক্লাব ইতিহাসে এটিই শীর্ষ লিগে লেভারকুসেনের প্রথম ট্রফি। এর আগে পাঁচবার রানার্সআপ হয়েছে তারা।

জিতলেই ক্লাব ইতিহাসের প্রথম লিগ শিরোপা। বায়ার লেভারকুসেনের সামনে সমীকরণ ছিল ঠিক এতোটাই সরল। সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে আক্রমণাত্মক শুরুই করেছিল তারা। ২৫ মিনিটে প্রথম গোল আসে পেনাল্টি থেকে। ভিক্টর বনিফেসের গোলের পর থেকেই উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে যায় বে অ্যারেনায়।

গ্রানিত শাকা লেভারকুসেনে এসেছিলেন একরাশ সমালোচনা নিয়ে। আর্সেনাল থেকে রীতিমত সমর্থকদের চক্ষুশূল হয়ে বিদায় নিলেন। কিন্তু লেভারকুসেনের জার্সিতে যেন নিজের ফুটবলীয় প্রতিভার সবটা দেখিয়ে দিলেন। দারুণ এক গোল দলকে নিয়ে গেলেন শিরোপার আরও কাছে।

বাকি সময়টা কেবলই ফ্লোরিয়ান ভির্টজ আর বে অ্যারেনার সমর্থকদের। পুরো মৌসুমে দাপুটে ফুটবল উপহার দেয়া লেভারকুসেন শেষ আধঘণ্টায় ছিল আরও ক্ষিপ্র। ৮৪ মিনিটে চতুর্থ গোলের পরেই সমর্থকরা নেমে পড়েন মাঠে। কয়েক মিনিট বন্ধ ছিল সে সময়। ৮৯ মিনিটে গোলের পর আর আটকানো সম্ভব হয়নি। ৫-০ গোলের জয় নিশ্চিত।

সেই সঙ্গে নিশ্চিত ক্লাব ইতিহাসের প্রথম শিরোপা। সমর্থকদের আটকে রাখা তো দায়! রেফারিও তাই বাধ্য হয়ে বাজালেন বাঁশি। ওই এক বাঁশির শব্দেই শেষ হলো বুন্দেসলিগায় টানা ১১ বছরের বায়ার্ন মিউনিখের রাজত্ব। বুন্দেসলিগায় ৫ ম্যাচ বাকি থাকতেই শিরোপা নিশ্চিত করলো বায়ার লেভারকুসেন।

এই মৌসুমের আগে ক্লাবের ইতিহাসের সোনালি সময় ছিল ১৯৯৬-৯৭ থেকে পরের ছয় মৌসুম। এই সময়টায় চারবার বুন্ডেসলিগায় রানার্স আপ হয় তারা। একবার রানার্স আপ হয় জার্মান কাপে। এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ফাইনালে উঠে শেষ পর্যন্ত হেরে যায় রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। ক্লাবের এই সোনালী সময়ের ইতিহাসও তাই মূলত বেদনায় গাঁথা অপ্রাপ্তির গল্প। বারবার কাছে গিয়েও চূড়ান্ত সাফল্য না পাওয়ায় কৌতূক করে তাদের নামে দেওয়া হয় ‘নেভারকুজেন’, যাদেরকে দিয়ে কখনোই সম্ভব নয়।

কিন্তু আলোন্সো আর তার দল সেই ইতিহাস পাল্টে দিল। ক্লাবকে তারা এনে দিলেন ১২০ বছরের ইতিহাসের সেরা সাফল্য। ২০২২ সালের অক্টোবরে যখন ক্লাবের হাল ধরেন শাবি, লেভারকুজেন তখন ভয়ানকভাবে ধুঁকছে। বুন্ডেসলিগার পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান ছিল ১৭তম। শাবির জন্য সেটিই ছিল শীর্ষ পর্যায়ের কোনো ক্লাবের প্রথম দায়িত্ব। কোচিং অভিজ্ঞতা বলতে ছিল রিয়াল সোসিয়াদাদের ‘বি’ দলের হয়ে তিন বছর কাজ করা। সেই শাবির কোচিংয়েই রেলিগেশনের শঙ্কা উড়িয়ে লেভারকুসেন মৌসুম শেষ করে ষষ্ঠ স্থানে থেকে।

উত্থানের সেই গল্প নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যায় এই মৌসুমে। শাবির কোচিংয়ে লেভারকুসেন হয়ে ওঠে অজেয় ও অপ্রতিরোধ্য। একের পর এক ম্যাচ জিতে, রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ বাকি থাকতেই তারা নিশ্চিত করে ফেলল শিরোপা জয়। লেভারকুসেনের ১২০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার বুন্ডেসলিগা চ্যাম্পিয়ন।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে