০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

সকালের ট্রেন ছাড়েনি বিকেলও, ক্লান্ত যাত্রীরা

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সব ট্রেন বিলম্বে ছাড়ছে। এর মধ্যে রংপুর এক্সপ্রেস প্রায় সাত ঘণ্টা বিলম্বে রয়েছে। সকাল ৯টা ১০ মিনিটের এই ট্রেন ঢাকা ছাড়েনি বিকেল ৪টায়ও। গতকাল শুক্রবার (৩ মে) গাজীপুরের জয়দেবপুরে ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে গতকাল থেকে সব ট্রেনই দেরি করে ছাড়ছে।

আজ শনিবার কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সব ট্রেনই দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ছে। এখনও লাইন পুরোপুরি ঠিক হয়নি। সকাল থেকে এই রুটে আটটি ট্রেন ছেড়ে গেছে আর সবগুলোই বিলম্বে চলছে।

কমলাপুর স্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ট্রেন বিলম্বে ছাড়ায় ছুটির দিনেও কমলাপুর স্টেশনে ছিল যাত্রীদের ভিড়। রংপুরগামী ট্রেন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও বিকাল ৪টা পর্যন্ত ছাড়তে পারেনি ট্রেনটি। এতে করে অনেক নারী শিশু ক্লান্ত হয়ে স্টেশনে ঘুমিয়ে পড়েছে। ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ভিড় জমেছে। স্টেশনের ভেতরে ও প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের যেখানে বসার জায়গা আছে, সেখানে কোনো আসন খালি নেই। সন্তান ও স্বজন নিয়ে কেউ বসে আছেন, কেউবা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়েছেন বসার জায়গা না পেয়ে। স্টেশনের ভেতর অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

বগুড়ার সান্তাহার যেতে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন শফিকুল। সকাল ৯টায় ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল। স্ত্রী ও মেয়ে নিয়ে সকাল আটটার মধ্যেই কমলাপুর স্টেশনে চলে আসেন। কিন্তু সারাদিন ট্রেন না ছাড়ায় ঘরমে ফ্ল্যাটফর্মে ঘুময়ে পড়েছে স্ত্রী ও মেয়ে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তিনি।

জানা যায়, সাধারণত দিনে ৫৩টি ট্রেন কমলাপুর স্টেশনে থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছেড়ে যায়। তবে জয়দেবপুর দুর্ঘটনার কারণে গতকাল থেকে সব ট্রেনই দেরি করে ছাড়ছে।

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেল জংশনের আউটার সিগন্যালে যাত্রীবাহী ট্রেন ও তেলবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি। ঢাকা-জয়দেবপুর ডাবল রেললাইনের একটিতে ট্রেন চলাচল করছে, অপরটি বন্ধ রয়েছে। ফলে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ-উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণের পথে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ছয় ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার যাত্রী।

উদ্ধারকাজ শেষ হতে আজ সারা দিন লেগে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জামালপুরগামী তিস্তা ট্রেনের যাত্রী আশরাফুল গ্রামের বাড়ি জামালপুর যাওয়ার জন্য স্টেশনে অপেক্ষায় বসে আছেন। আজ সকাল সাড়ে ৭টায় জয়দেবপুর জংশন থেকে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও দুপুরেও তাঁর ট্রেন স্টেশনে আসেনি।

জয়দেবপুর রেলস্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশনমাস্টার আল ইয়াসবাহ সাংবাদিকদের বলেন, এক লাইনে ট্রেন চলাচলের কারণে, ঢাকা থেকে নেত্রকোনা চলাচলকারী মহুয়া কমিউটার (ট্রেন নং ৪৩-৪৪), ঢাকা-জয়দেবপুর চলাচলকারী তুরাগ কমিউটার (ট্রেন নং তুরাগ কমিউটার ১-৪) এবং ঢাকা-জামালপুর চলাচলকারী জামালপুর কমিউটার (ট্রেন নম্বর-৫১/৫২)-এর শনিবারের উভয়মুখী যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কলকাতাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বিত হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

সকালের ট্রেন ছাড়েনি বিকেলও, ক্লান্ত যাত্রীরা

প্রকাশিত : ০৭:০৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ মে ২০২৪

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সব ট্রেন বিলম্বে ছাড়ছে। এর মধ্যে রংপুর এক্সপ্রেস প্রায় সাত ঘণ্টা বিলম্বে রয়েছে। সকাল ৯টা ১০ মিনিটের এই ট্রেন ঢাকা ছাড়েনি বিকেল ৪টায়ও। গতকাল শুক্রবার (৩ মে) গাজীপুরের জয়দেবপুরে ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে গতকাল থেকে সব ট্রেনই দেরি করে ছাড়ছে।

আজ শনিবার কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সব ট্রেনই দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ছে। এখনও লাইন পুরোপুরি ঠিক হয়নি। সকাল থেকে এই রুটে আটটি ট্রেন ছেড়ে গেছে আর সবগুলোই বিলম্বে চলছে।

কমলাপুর স্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ট্রেন বিলম্বে ছাড়ায় ছুটির দিনেও কমলাপুর স্টেশনে ছিল যাত্রীদের ভিড়। রংপুরগামী ট্রেন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও বিকাল ৪টা পর্যন্ত ছাড়তে পারেনি ট্রেনটি। এতে করে অনেক নারী শিশু ক্লান্ত হয়ে স্টেশনে ঘুমিয়ে পড়েছে। ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ভিড় জমেছে। স্টেশনের ভেতরে ও প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের যেখানে বসার জায়গা আছে, সেখানে কোনো আসন খালি নেই। সন্তান ও স্বজন নিয়ে কেউ বসে আছেন, কেউবা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়েছেন বসার জায়গা না পেয়ে। স্টেশনের ভেতর অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

বগুড়ার সান্তাহার যেতে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন শফিকুল। সকাল ৯টায় ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল। স্ত্রী ও মেয়ে নিয়ে সকাল আটটার মধ্যেই কমলাপুর স্টেশনে চলে আসেন। কিন্তু সারাদিন ট্রেন না ছাড়ায় ঘরমে ফ্ল্যাটফর্মে ঘুময়ে পড়েছে স্ত্রী ও মেয়ে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তিনি।

জানা যায়, সাধারণত দিনে ৫৩টি ট্রেন কমলাপুর স্টেশনে থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছেড়ে যায়। তবে জয়দেবপুর দুর্ঘটনার কারণে গতকাল থেকে সব ট্রেনই দেরি করে ছাড়ছে।

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেল জংশনের আউটার সিগন্যালে যাত্রীবাহী ট্রেন ও তেলবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি। ঢাকা-জয়দেবপুর ডাবল রেললাইনের একটিতে ট্রেন চলাচল করছে, অপরটি বন্ধ রয়েছে। ফলে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ-উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণের পথে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ছয় ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার যাত্রী।

উদ্ধারকাজ শেষ হতে আজ সারা দিন লেগে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জামালপুরগামী তিস্তা ট্রেনের যাত্রী আশরাফুল গ্রামের বাড়ি জামালপুর যাওয়ার জন্য স্টেশনে অপেক্ষায় বসে আছেন। আজ সকাল সাড়ে ৭টায় জয়দেবপুর জংশন থেকে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও দুপুরেও তাঁর ট্রেন স্টেশনে আসেনি।

জয়দেবপুর রেলস্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশনমাস্টার আল ইয়াসবাহ সাংবাদিকদের বলেন, এক লাইনে ট্রেন চলাচলের কারণে, ঢাকা থেকে নেত্রকোনা চলাচলকারী মহুয়া কমিউটার (ট্রেন নং ৪৩-৪৪), ঢাকা-জয়দেবপুর চলাচলকারী তুরাগ কমিউটার (ট্রেন নং তুরাগ কমিউটার ১-৪) এবং ঢাকা-জামালপুর চলাচলকারী জামালপুর কমিউটার (ট্রেন নম্বর-৫১/৫২)-এর শনিবারের উভয়মুখী যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কলকাতাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বিত হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ