০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

এখনই গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটালে ক্ষমতায় থাকবে হামাস : নেতানিয়াহু

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। টানা সাত মাস ধরে চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। বর্বর এই আগ্রাসনের জেরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ।

এমন অবস্থায় গাজায় যুদ্ধ বন্ধে বাড়ছে বৈশ্বিক চাপ। হামাসও বলেছে, সম্ভাব্য যেকোনও চুক্তির জন্য যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করতে চায় তারা। তবে হামাসের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

তার দাবি, এখনই গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটালে ক্ষমতায় থাকবে হামাস। সোমবার (৬ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজায় আটক বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে গাজা যুদ্ধ বন্ধের জন্য হামাসের দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। রোববার তিনি বলেছেন, এখন যুদ্ধ বন্ধ করা হলে তা ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসকে ক্ষমতায় রাখবে এবং তারা আবারও ইসরায়েলের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।

নেতানিয়াহু আরও বলেছেন, হামাসের হাতে এখনও আটক থাকা বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ইসরায়েল বরং গাজায় চলমান যুদ্ধে বিরতি দিতে ইচ্ছুক। গাজায় হামাসের হাতে এখনও আটক থাকা বন্দিদের সংখ্যা ১৩০ জনেরও বেশি বলে মনে করা হয়।

নেতানিয়াহু দাবি করেন, ‘কিন্তু ইসরায়েল যখন সদিচ্ছা দেখিয়েছে, হামাস তখন তার কঠোর অবস্থানেই রয়ে গেছে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে, গাজা উপত্যকা থেকে আমাদের সমস্ত বাহিনী সরিয়ে নেওয়া, যুদ্ধ শেষ করা এবং হামাসকে ক্ষমতায় ছেড়ে দেওয়া।’

ইসরায়েলের এই কট্টরটন্থি প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ‘ইসরায়েল এটা মেনে নিতে পারে না। আর তেমনটি হলে হামাস বারবার গণহত্যা, ধর্ষণ এবং অপহরণের প্রতিশ্রুতি পালন করতে সক্ষম হবে।’

এদিকে কায়রোতে হামাস নেতারা মিসরীয় এবং কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সাথে যুদ্ধবিরতির আলোচনা রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেখানে কোনও আপাত অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। মূলত ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি তার আগের দাবিতেই অনড় রয়েছে যে, যেকোনও চুক্তিতে গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র ধর্মীয় স্থান আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের অত্যাচারের জবাব দিতে গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ নামে একটি অভিযান চালায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস।

হামাসের এই হামলায় নিহত হন কমপক্ষে ১২০০ ইসরায়েলি। নিহতদের প্রায় ৩০০ জন সেনাসদস্যও ছিলেন। এছাড়া সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকসহ আরও দুই শতাধিক মানুষকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে যায় হামাস।

হামাসের হাতে আটক বিপুল এসব বন্দির মুক্তি দাবি করেছে ইসরায়েল। আর এ লক্ষ্যে গত ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি গাজায় বর্তমানে আনুমানিক ১৩৪ জন ইসরায়েলি বন্দি রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে গত বছরের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নিরলস আক্রমণে কমপক্ষে ৩৪ হাজার ৬৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে রোববার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টানা সাত মাসের এই হামলায় আরও ৭৮ হাজার ১৮ জন আহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের হামলায় ২৯ জন নিহত ও আরও ১১০ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন এবং উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

এখনই গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটালে ক্ষমতায় থাকবে হামাস : নেতানিয়াহু

প্রকাশিত : ১০:৩৮:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ মে ২০২৪

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। টানা সাত মাস ধরে চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। বর্বর এই আগ্রাসনের জেরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ।

এমন অবস্থায় গাজায় যুদ্ধ বন্ধে বাড়ছে বৈশ্বিক চাপ। হামাসও বলেছে, সম্ভাব্য যেকোনও চুক্তির জন্য যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করতে চায় তারা। তবে হামাসের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

তার দাবি, এখনই গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটালে ক্ষমতায় থাকবে হামাস। সোমবার (৬ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজায় আটক বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে গাজা যুদ্ধ বন্ধের জন্য হামাসের দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। রোববার তিনি বলেছেন, এখন যুদ্ধ বন্ধ করা হলে তা ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসকে ক্ষমতায় রাখবে এবং তারা আবারও ইসরায়েলের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।

নেতানিয়াহু আরও বলেছেন, হামাসের হাতে এখনও আটক থাকা বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ইসরায়েল বরং গাজায় চলমান যুদ্ধে বিরতি দিতে ইচ্ছুক। গাজায় হামাসের হাতে এখনও আটক থাকা বন্দিদের সংখ্যা ১৩০ জনেরও বেশি বলে মনে করা হয়।

নেতানিয়াহু দাবি করেন, ‘কিন্তু ইসরায়েল যখন সদিচ্ছা দেখিয়েছে, হামাস তখন তার কঠোর অবস্থানেই রয়ে গেছে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে, গাজা উপত্যকা থেকে আমাদের সমস্ত বাহিনী সরিয়ে নেওয়া, যুদ্ধ শেষ করা এবং হামাসকে ক্ষমতায় ছেড়ে দেওয়া।’

ইসরায়েলের এই কট্টরটন্থি প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ‘ইসরায়েল এটা মেনে নিতে পারে না। আর তেমনটি হলে হামাস বারবার গণহত্যা, ধর্ষণ এবং অপহরণের প্রতিশ্রুতি পালন করতে সক্ষম হবে।’

এদিকে কায়রোতে হামাস নেতারা মিসরীয় এবং কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সাথে যুদ্ধবিরতির আলোচনা রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেখানে কোনও আপাত অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। মূলত ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি তার আগের দাবিতেই অনড় রয়েছে যে, যেকোনও চুক্তিতে গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র ধর্মীয় স্থান আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের অত্যাচারের জবাব দিতে গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ নামে একটি অভিযান চালায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস।

হামাসের এই হামলায় নিহত হন কমপক্ষে ১২০০ ইসরায়েলি। নিহতদের প্রায় ৩০০ জন সেনাসদস্যও ছিলেন। এছাড়া সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকসহ আরও দুই শতাধিক মানুষকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে যায় হামাস।

হামাসের হাতে আটক বিপুল এসব বন্দির মুক্তি দাবি করেছে ইসরায়েল। আর এ লক্ষ্যে গত ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি গাজায় বর্তমানে আনুমানিক ১৩৪ জন ইসরায়েলি বন্দি রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে গত বছরের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নিরলস আক্রমণে কমপক্ষে ৩৪ হাজার ৬৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে রোববার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টানা সাত মাসের এই হামলায় আরও ৭৮ হাজার ১৮ জন আহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের হামলায় ২৯ জন নিহত ও আরও ১১০ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন এবং উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে