০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

রাফায় হামলা করলে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারি বাইডেনের

ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বেশিরভাগই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে আগেই। এখন বাকি রয়েছে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটির রাফা শহর। তবে লাখ লাখ ফিলিস্তিনির আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠা এই শহরে বড় ধরনের হামলার বিরোধিতা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

যদিও হামাসের সঙ্গে চুক্তি হোক বা না হোক, ইসরায়েল রাফাতে হামলা চালাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। এমন অবস্থায় রাফায় হামলা করলে ইসরায়েলে কিছু অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন বলে বৃহস্পতিবার (৯ মে) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গাজার রাফা শহরে বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে কিছু অস্ত্র সরবরাহ করা বন্ধ করে দেবে।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যদি তারা রাফাতে যায়, আমি সেসব অস্ত্র আর সরবরাহ করব না যা রাফার বিষয়ে ঐতিহাসিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।’

অবশ্য মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘ইসরায়েলকে নিরাপদ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার কাজ চালিয়ে যাবেন’ তিনি।

বিবিসি বলছে, দৃঢ় এবং সোচ্চার মার্কিন বিরোধিতা সত্ত্বেও, ইসরায়েল রাফাতে বড় আকারের আগ্রাসন চালানোর জন্য প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। দক্ষিণ গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এই অংশটি ভূখণ্ডে হামাসের শেষ প্রধান শক্ত ঘাঁটি।

মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, এই শহরে বড় ধরনের কোনও অভিযান চালানো হলে তা ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের কারণ হতে পারে।

সিএনএনকে দেওয়া প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই সাক্ষাৎকারটি (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) বুধবার রাতে প্রচারিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বাইডেন বলেছেন, ‘আমরা অস্ত্র এবং আর্টিলারি শেল (ইসরায়েলে) সরবরাহ করতে যাচ্ছি না।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাফার বর্তমান পরিস্থিতিকে স্থল অভিযান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেনি। তিনি বলেন, ‘জনসংখ্যা বেশি রয়েছে এমন অংশে তারা যায়নি। তারা কেবল সীমান্তেই পদক্ষেপ নিয়েছে।’

বাইডেনের ভাষায়, ‘কিন্তু আমি (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু) এবং তার যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভাকে স্পষ্ট বলেছি, যদি তারা জনবহুল এলাকগুলোতে অভিযান চালায়, তাহলে তারা আমাদের সমর্থন পাবে না।’

প্রেসিডেন্ট বাইডেন স্বীকার করেছেন, গাজার বেসামরিক লোকদের হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ব্যবহার করেছে ইসরায়েল। অবশ্য ইসরায়েল গাজায় ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করেছে কিনা জানতে চাইলে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট উত্তর দেন- ‘এখনও না’।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইসরায়েলে হাজার হাজার বোমার চালান বিলম্বিত করেছে এবং বলেছে, এসব অস্ত্র ভবিষ্যতে সরবরাহের বিষয়ে পর্যালোচনা করছে তারা।

এছাড়া বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন সিনেটের সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বোমার চালান – যা পশ্চিমা সামরিক অস্ত্রাগারের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের কিছু অংশ – বিলম্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে ইসরায়েল সরকার বলেছে, তারা এই পদক্ষেপে হতাশ।

বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের আটকে দেওয়া অস্ত্রের চালানগুলো ভবিষ্যত সরবরাহের সাথে সম্পর্কিত, তাই এই পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু ইসরায়েল যে হারে বোমাবর্ষণ করছে তাতে সম্ভবত ভবিষ্যতের যেকোনও হামলার ক্ষেত্রে এর প্রভাব মোটামুটি শিগগিরই দেখা যাবে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, দুই দেশ (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) ‘বদ্ধ দরজার আড়ালে’ তাদের মতবিরোধের সমাধান করবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

রাফায় হামলা করলে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারি বাইডেনের

প্রকাশিত : ১০:০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০২৪

ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বেশিরভাগই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে আগেই। এখন বাকি রয়েছে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটির রাফা শহর। তবে লাখ লাখ ফিলিস্তিনির আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠা এই শহরে বড় ধরনের হামলার বিরোধিতা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

যদিও হামাসের সঙ্গে চুক্তি হোক বা না হোক, ইসরায়েল রাফাতে হামলা চালাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। এমন অবস্থায় রাফায় হামলা করলে ইসরায়েলে কিছু অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন বলে বৃহস্পতিবার (৯ মে) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গাজার রাফা শহরে বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে কিছু অস্ত্র সরবরাহ করা বন্ধ করে দেবে।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যদি তারা রাফাতে যায়, আমি সেসব অস্ত্র আর সরবরাহ করব না যা রাফার বিষয়ে ঐতিহাসিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।’

অবশ্য মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘ইসরায়েলকে নিরাপদ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার কাজ চালিয়ে যাবেন’ তিনি।

বিবিসি বলছে, দৃঢ় এবং সোচ্চার মার্কিন বিরোধিতা সত্ত্বেও, ইসরায়েল রাফাতে বড় আকারের আগ্রাসন চালানোর জন্য প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। দক্ষিণ গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এই অংশটি ভূখণ্ডে হামাসের শেষ প্রধান শক্ত ঘাঁটি।

মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, এই শহরে বড় ধরনের কোনও অভিযান চালানো হলে তা ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের কারণ হতে পারে।

সিএনএনকে দেওয়া প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই সাক্ষাৎকারটি (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) বুধবার রাতে প্রচারিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বাইডেন বলেছেন, ‘আমরা অস্ত্র এবং আর্টিলারি শেল (ইসরায়েলে) সরবরাহ করতে যাচ্ছি না।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাফার বর্তমান পরিস্থিতিকে স্থল অভিযান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেনি। তিনি বলেন, ‘জনসংখ্যা বেশি রয়েছে এমন অংশে তারা যায়নি। তারা কেবল সীমান্তেই পদক্ষেপ নিয়েছে।’

বাইডেনের ভাষায়, ‘কিন্তু আমি (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু) এবং তার যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভাকে স্পষ্ট বলেছি, যদি তারা জনবহুল এলাকগুলোতে অভিযান চালায়, তাহলে তারা আমাদের সমর্থন পাবে না।’

প্রেসিডেন্ট বাইডেন স্বীকার করেছেন, গাজার বেসামরিক লোকদের হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ব্যবহার করেছে ইসরায়েল। অবশ্য ইসরায়েল গাজায় ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করেছে কিনা জানতে চাইলে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট উত্তর দেন- ‘এখনও না’।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইসরায়েলে হাজার হাজার বোমার চালান বিলম্বিত করেছে এবং বলেছে, এসব অস্ত্র ভবিষ্যতে সরবরাহের বিষয়ে পর্যালোচনা করছে তারা।

এছাড়া বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন সিনেটের সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বোমার চালান – যা পশ্চিমা সামরিক অস্ত্রাগারের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের কিছু অংশ – বিলম্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে ইসরায়েল সরকার বলেছে, তারা এই পদক্ষেপে হতাশ।

বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের আটকে দেওয়া অস্ত্রের চালানগুলো ভবিষ্যত সরবরাহের সাথে সম্পর্কিত, তাই এই পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু ইসরায়েল যে হারে বোমাবর্ষণ করছে তাতে সম্ভবত ভবিষ্যতের যেকোনও হামলার ক্ষেত্রে এর প্রভাব মোটামুটি শিগগিরই দেখা যাবে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, দুই দেশ (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) ‘বদ্ধ দরজার আড়ালে’ তাদের মতবিরোধের সমাধান করবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে