০১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

ভোলায় গ্যাস উত্তোলন শুরু

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার শাহবাজপুর ইস্ট কূপ থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন যোগ হবে ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্য দিয়ে এই কূপে চূড়ান্তভাবে গ্যাস মজুদের বিষয়টি নিশ্চিত হলো।

প্রথম দিনেই ওই কূপ থেকে ২১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাপেক্স কর্মকর্তা ও গ্যাস ক্ষেত্র ইনচার্জ মো. হাসানুজ্জামান।

তিনি বলেন, মাটির তিন হাজার ৪৯০ ফুট নিচে গ্যাস রয়েছে। প্রথম দিন কিছুটা কম হলেও আগামীতে গড়ে ৪০/৪১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে।

গত ২৩ অক্টোবর নতুন ক্ষেত্রটি আবিষ্কারের খবর প্রথম প্রকাশ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। সেদিন মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এই খবর জানান।

বাপেক্সের সূত্র জানায়, ১৯৮৬ সালে ভোলায় ২৬৬ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের মাধ্যমে শহাবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রটির সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু ভোলায় আরও গ্যাস আছে বলে সংশ্লিষ্ট ভূতত্ত্ববিদেরা ধারণা করতেন। সেই ধারণা থেকেই ২০১৬ সালে পুরো দ্বীপের ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ চালানো হয়। তাতে যে চিত্র পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই মুলাইপতনে অনুসন্ধান কূপ খননের স্থান নির্ধারণ করা হয়।

কূপটি খনন করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৫০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৪৭০ মিটারের মধ্যে ৩ টি স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাপেক্স ‘রূপকল্প ২০২১ ’-এর আওতায় পাঁচ বছরে ১০৮টি কূপ খননের যে পরিকল্পনা করেছে তার প্রথমকূপটিখনন করা হয়েছে মুলাইপতনে। এরপর সেখান থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে ‘ভোলা নর্থ’ নামে আরেকটি অনুসন্ধান কূপ খননের কাজ আগামী মাসেই শুরু করা হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বোরহানউদ্দিনের দ্বিতীয় গ্যাস ক্ষেত্র শাহবাজপুর ইস্ট কূপে ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভোলায় গ্যাস উত্তোলন শুরু

প্রকাশিত : ০১:৩০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ নভেম্বর ২০১৭

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার শাহবাজপুর ইস্ট কূপ থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন যোগ হবে ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্য দিয়ে এই কূপে চূড়ান্তভাবে গ্যাস মজুদের বিষয়টি নিশ্চিত হলো।

প্রথম দিনেই ওই কূপ থেকে ২১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাপেক্স কর্মকর্তা ও গ্যাস ক্ষেত্র ইনচার্জ মো. হাসানুজ্জামান।

তিনি বলেন, মাটির তিন হাজার ৪৯০ ফুট নিচে গ্যাস রয়েছে। প্রথম দিন কিছুটা কম হলেও আগামীতে গড়ে ৪০/৪১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে।

গত ২৩ অক্টোবর নতুন ক্ষেত্রটি আবিষ্কারের খবর প্রথম প্রকাশ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। সেদিন মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এই খবর জানান।

বাপেক্সের সূত্র জানায়, ১৯৮৬ সালে ভোলায় ২৬৬ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের মাধ্যমে শহাবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রটির সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু ভোলায় আরও গ্যাস আছে বলে সংশ্লিষ্ট ভূতত্ত্ববিদেরা ধারণা করতেন। সেই ধারণা থেকেই ২০১৬ সালে পুরো দ্বীপের ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ চালানো হয়। তাতে যে চিত্র পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই মুলাইপতনে অনুসন্ধান কূপ খননের স্থান নির্ধারণ করা হয়।

কূপটি খনন করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৫০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৪৭০ মিটারের মধ্যে ৩ টি স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাপেক্স ‘রূপকল্প ২০২১ ’-এর আওতায় পাঁচ বছরে ১০৮টি কূপ খননের যে পরিকল্পনা করেছে তার প্রথমকূপটিখনন করা হয়েছে মুলাইপতনে। এরপর সেখান থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে ‘ভোলা নর্থ’ নামে আরেকটি অনুসন্ধান কূপ খননের কাজ আগামী মাসেই শুরু করা হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বোরহানউদ্দিনের দ্বিতীয় গ্যাস ক্ষেত্র শাহবাজপুর ইস্ট কূপে ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়।