০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

এতিমের হক এবং খালেদা জিয়ার জোকস

আশরাফুল আলম খোকন
কখনো বিচারকের প্রতি অনাস্থা,কখনো আদালতের প্রতি অনাস্থা,কখনো অসুস্থতার কথা বলে, কখনো উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা বলে এসব সময় নিয়েছেন। মামলার শুনানি পেছাতে খালেদা জিয়া মোট ৪৬ বার সময় নিয়েছেন, যা আদালতের ইতিহাসে বিশ্বে নজিরবিহীন ঘটনা।
এখন মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বললেন, তারা মামলায় যুক্তিতর্ক করবেন না। এখন খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য রাখছেন।
বেগম জিয়া বললেন, তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য সরকার ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারেন সেই ব্যবস্থা হচ্ছে। ঠিক যেমন ছিল যুদ্ধাপরাধীদের অভিযোগ। আইনি সব প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে হেরে যাবার পর সরকারের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ।
আমি আইনি প্যাঁচ যতটুকু বুঝি তাতে বলতে পারি, খালেদা জিয়া যদি তার পদের প্রভাব না খাটিয়ে স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় মামলাটি শেষ করতেন এবং যদি নিম্ন আদালতে অভিযুক্তও হতেন তাহলে কিন্তু উচ্চ আদালতের সহযোগিতা নিয়ে তিনি তা স্থগিতও করতে পারতেন। তখন আর তিনি এই অভিযোগ করতে পারতেন না।
তাহলে তিনি এখন কেন এই অভিযোগ করছেন যে, তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
হিসাবটা খুব সহজ। তিনি জানেন যে তার এবং তার ছেলেদের অতীত অপকর্মের কারণে জাতি তাকে গ্রহণ করবে না, তাই কান্নাকাটি করে মানুষের সহানুভূতি নেয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার জন্য বিএনপি-জামাত নামক এই জোটটির কখনোই জাতির সামনে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবনা ছিলো না। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার আর দেশি বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের সহযোগিতায়ই তারা অতীতে ক্ষমতায় এসেছে। এসেছে দেশে দুর্নীতি, লুটপাট, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদসহ নানা অপকর্মের বিস্তার ঘটিয়েছে।
অপকর্মের ইতিহাস বলতে গেলে মহাকাব্য রচনা করতে হবে। আসুন যেই মামলাটি নিয়ে এতো কথা হচ্ছে সেটিই চোখ বুলিয়ে আসি। যেখানে সুস্পষ্ট উনি আর তার ছেলে মিলে এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করছেন। খুব বেশি বিশ্লেষণের দরকার নেই, আইনি জ্ঞানের দরকার নেই এটি বুঝার জন্য। সাদা চোখে দেখা যায় উনি এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে অনুদান এনেছেন এবং সেই টাকা এতিমদের না দিয়ে নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। এই নিয়ে মজার একটি জোকসও আছে,তা পরে বলছি।
এছাড়া এই মামলাটিও বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার করেনি। মামলা হয়েছিল ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। মামলা দায়ের-৩/৭/২০০৮। রমনা থানা। যেহেতু মামলাটি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় না, সেহেতু খালেদা জিয়া এ মামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করতে পারেন না।
২০১০ সালের ৫ আগস্ট দুদক ৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। আসামিরা হলেন খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।
আসুন এক নজরে দেখে আসি মামলার বিবরণ:
১৯৯১-৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সোনালী ব্যাংকের রমনা শাখায় খালেদা জিয়ার পক্ষে ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল’ নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়। যার চলতি হিসাব নম্বর ৫৪১৬। ওই এ্যাকাউন্টে ১৯৯১ সালের ৯ জুন ইউনাইটেড সৌদি কর্মাশিয়াল ব্যাংকের ডিডি নম্বর ‪১৫৩৩৬৭৯৭০‬ মূলে ১২ লাখ ৫৫ হাজার ডলার যার মূল্য তৎকালীন বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ে বাংলাদেশি টাকায় ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা অনুদান হিসেবে জমা হয়।
দুদকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ১৯৯১ সালের ৯ জুন থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া এই অর্থ কোনো এতিমখানায় প্রদান করেননি। এই সময়ের মধ্যে তার পুত্র তারেক রহমান, আরাফাত রহমান ও ভাগ্নে মমিনুর রহমান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করেন। যদিও এই ট্রাস্ট গঠনের প্রক্রিয়ায় আরাফাত রহমানের কোন সাক্ষর ছিল না। তাই তিনি এ মামলায় আসামী হননি।
জানা গেছে, ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর গুলশান সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ট্রাস্টের নামে নিবন্ধন করা হয়। যার ঠিকানা হিসেবে সেনানিবাসের ৩ শহিদ মঈনুল রোডের বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। এ সময় তারেক রহমানকে দি অথর অব দি ট্রাস্ট তথা দি সেটেলর নিয়োগ করা হয়। এরপর বগুড়ায় একটি এতিমখানা স্থাপনের জন্য ১৯৯৩ সালের ১৩ নভেম্বর সোনালী ব্যাংকের রমনা শাখার তৎকালীন হিসাব নম্বর ৫৪১৬ এর (খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল) অনুদানের টাকা গুলশানের নিউনর্থ সার্কেল শাখায় (এসটিডি হিসাব নম্বর-৭) মূলে ১৫ নভেম্বর বর্তমান হিসাব নম্বর ‪৭১০৫৪১৬৪‬ এ ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা ট্রান্সফার করা হয়।
এছাড়া ১৯৯৩ সালের ৪ ডিসেম্বর (চেক নম্বর ‪৪৮৮২৪০১‬) ৪ লাখ টাকা তুলে বগুড়া জেলার গাবতলী থানার দাড়াইল মৌজায় ১৭টি দলিল মূলে ২ দশমিক ৭৯ একর জমি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকায় ক্রয় করা হয়। এইখানেও উত্তোলনের পুরো টাকা ব্যবহার করা হয়নি।
এরপর ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অনুদানের বাকি টাকা অন্য কোনো স্থাপনা বা দুস্থদের কল্যাণে অর্থ ব্যয় না করায় ওই হিসাবে ২০০৬ সালের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সুদসহ জমা পড়ে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৭৫৭ টাকা। এরপর এই টাকা থেকে তারেক রহমান ও মমিনুর রহমানের যৌথ স্বাক্ষরে ২০০৬ সালের ১২ এপ্রিল, ১৫ জুন এবং ৪ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে সর্বমোট ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা প্রাইম ব্যাংকের গুলশান শাখায় এফডিআর খোলার জন্য হস্তান্তর করা হয়।
মাগুরার সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সলিমুল হক কামাল (ইকনো কামাল) ট্রাস্টের সাথে কোনোভাবে সংযুক্ত না থাকার পরেও ২০০৬ সালের ১২ এপ্রিল ৫০ লাখ টাকার একটি এফডিআর খোলেন। যা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের একাউন্ট থেকে ট্রান্সফার করা হয়। এরপর এই শাখায় কাজী সলিমুল হকের নামেই পরবর্তীতে ২ কোটি টাকার আরো দু’টি এফডিআর খোলা হয়। যা তিনি নিজ নামেই ট্রান্সফার করেন। এছাড়াও একই মামলার আরেক আসামী ব্যবসায়ী সৈয়দ শরফুদ্দিন আহমেদ নিজ নামে প্রাইম ব্যাংকের নিউ ইস্কাটন শাখায় ১ কোটি টাকার একটি এবং সৈয়দ শরফুদ্দিন আহমেদ ও গিয়াসউদ্দিন আহমেদের নামে একটি জয়েন্ট একাউন্টে আরও ১ কোটি টাকার এফডিআর করেন। এর কিছুদিন পরই গিয়াস উদ্দিন আহমেদ তার এফডিআরের এক কোটি টাকা ভেঙে ৫০ লাখ টাকার ২টি এফডিআর করেন। এরপর আবার সেই এফডিআর ভেঙ্গে শরফুদ্দিনের একাউন্টে ৬টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করেন। শরফুদ্দিন ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা তুলে নিয়ে কাজী সলিমুল হককে দেন।
অনুসন্ধানে দুদক জানতে পারে, কাজী সলিমুল হকের সরফুদ্দিন আহমেদ কাছে এই পরিমাণ অর্থ পেত। মূলত এরপরই এই টাকা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের তহবিল থেকে বেরিয়ে যায়। যা আইনত অবৈধ। কারণ এতিমদের জন্য আনা ট্রাস্টের টাকা শুধু এতিমদের কল্যাণেই ব্যয় করারই নিয়ম রয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সেই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করার পরও এতিমদের সামান্য এই টাকার লোভ সামলাতে পারেননি। এরপরও ওনারা যখন দেশের মানুষের কল্যাণের কথা বলেন তা হাস্যকরই মনে হয়।
এইবার মজার জোকসটি শুনুন…….
বিএনপি জামাত পন্থী এক সুশীল বলিল, ম্যাডাম জিয়া নাকি আদালতে দাঁত ভাঙা জবাব দিয়ে এসেছেন।
জিগাইলাম ওনার কোন জবাবে মহামান্য আদালতের দাঁত ভাঙিয়া গেলো?
ওনি যা জবাব দিলেন তাহা শুনিয়া আমার জবান বন্ধ হইয়া গেলো। সত্য মানিয়া লইয়া বিদায় হইলাম। কোনো কথা বলিতে পারিলাম না।
কেন কিছু বলিতে পাড়িলাম না-এই নিয়ে আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগিতেই পারে। আমি নিশ্চিন্ত ওই বয়ান শুনিলে আপনাদের জবান তব্দা হইয়া যাইবে।
আসেন বিস্তারিত শুনে আসি ………
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের জন্য তাহারা বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদান আনিয়াছেন। যেই টাকা দেশের এতিমদের জন্য খরচ করার কথা, সেই টাকা ব্যাংক থেকে বেগম জিয়া নিজেই তুলিয়া আত্মসাৎ করিয়াছেন- মামলাটা ছিল এই অপরাধের।
মহামান্য আদালত ওনাকে এই প্রশ্নটিই করেছিলেন যে এতিমদের টাকা বেগম জিয়া নিজে কেন খাইয়া ফেলিলেন।
বেগম জিয়া খুব শক্ত ভাবেই বলিলেন, তিনি ওই টাকা আত্মসাৎ করেন নাই, এতিমদের জন্যই ব্যয় করিয়াছেন।
সরকার পক্ষের উকিল জানিতে চাহিলেন, কখন কোথায় কোন এতিমদের জন্য ব্যয় করিলেন?
বলিয়া ম্যাডাম জিয়া বলিলেন, তিনি তার এতিম দুই সন্তান তারেক-কোকো’র জন্য এই টাকা ব্যয় করিয়াছেন।
উত্তর শুনিয়া উপস্থিত সকলের চোখ কপালে উঠিল। উকিল জানিতে চাহিল, হাজার কোটি টাকার মালিক তারেক-কোকো এতিম হইলো ক্যামনে?
এই প্রশ্ন শুনিয়া রাগান্বিত ম্যাডাম জিয়া বলিলেন, “চুপ বেয়াদব”! তুমি জানো না যাদের অল্প বয়সে বাবা মারা যায় তাদেরকে এতিম বলা হয়।
এরপর তাদের কপালের চোখ আর নিচে নামিলো না। অধিকন্তু জবান শুনিয়া দাঁতগুলো খসিয়া পড়িল।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

এতিমের হক এবং খালেদা জিয়ার জোকস

প্রকাশিত : ০৪:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ নভেম্বর ২০১৭

আশরাফুল আলম খোকন
কখনো বিচারকের প্রতি অনাস্থা,কখনো আদালতের প্রতি অনাস্থা,কখনো অসুস্থতার কথা বলে, কখনো উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা বলে এসব সময় নিয়েছেন। মামলার শুনানি পেছাতে খালেদা জিয়া মোট ৪৬ বার সময় নিয়েছেন, যা আদালতের ইতিহাসে বিশ্বে নজিরবিহীন ঘটনা।
এখন মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বললেন, তারা মামলায় যুক্তিতর্ক করবেন না। এখন খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য রাখছেন।
বেগম জিয়া বললেন, তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য সরকার ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারেন সেই ব্যবস্থা হচ্ছে। ঠিক যেমন ছিল যুদ্ধাপরাধীদের অভিযোগ। আইনি সব প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে হেরে যাবার পর সরকারের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ।
আমি আইনি প্যাঁচ যতটুকু বুঝি তাতে বলতে পারি, খালেদা জিয়া যদি তার পদের প্রভাব না খাটিয়ে স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় মামলাটি শেষ করতেন এবং যদি নিম্ন আদালতে অভিযুক্তও হতেন তাহলে কিন্তু উচ্চ আদালতের সহযোগিতা নিয়ে তিনি তা স্থগিতও করতে পারতেন। তখন আর তিনি এই অভিযোগ করতে পারতেন না।
তাহলে তিনি এখন কেন এই অভিযোগ করছেন যে, তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
হিসাবটা খুব সহজ। তিনি জানেন যে তার এবং তার ছেলেদের অতীত অপকর্মের কারণে জাতি তাকে গ্রহণ করবে না, তাই কান্নাকাটি করে মানুষের সহানুভূতি নেয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার জন্য বিএনপি-জামাত নামক এই জোটটির কখনোই জাতির সামনে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবনা ছিলো না। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার আর দেশি বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের সহযোগিতায়ই তারা অতীতে ক্ষমতায় এসেছে। এসেছে দেশে দুর্নীতি, লুটপাট, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদসহ নানা অপকর্মের বিস্তার ঘটিয়েছে।
অপকর্মের ইতিহাস বলতে গেলে মহাকাব্য রচনা করতে হবে। আসুন যেই মামলাটি নিয়ে এতো কথা হচ্ছে সেটিই চোখ বুলিয়ে আসি। যেখানে সুস্পষ্ট উনি আর তার ছেলে মিলে এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করছেন। খুব বেশি বিশ্লেষণের দরকার নেই, আইনি জ্ঞানের দরকার নেই এটি বুঝার জন্য। সাদা চোখে দেখা যায় উনি এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে অনুদান এনেছেন এবং সেই টাকা এতিমদের না দিয়ে নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। এই নিয়ে মজার একটি জোকসও আছে,তা পরে বলছি।
এছাড়া এই মামলাটিও বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার করেনি। মামলা হয়েছিল ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। মামলা দায়ের-৩/৭/২০০৮। রমনা থানা। যেহেতু মামলাটি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় না, সেহেতু খালেদা জিয়া এ মামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করতে পারেন না।
২০১০ সালের ৫ আগস্ট দুদক ৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। আসামিরা হলেন খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।
আসুন এক নজরে দেখে আসি মামলার বিবরণ:
১৯৯১-৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সোনালী ব্যাংকের রমনা শাখায় খালেদা জিয়ার পক্ষে ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল’ নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়। যার চলতি হিসাব নম্বর ৫৪১৬। ওই এ্যাকাউন্টে ১৯৯১ সালের ৯ জুন ইউনাইটেড সৌদি কর্মাশিয়াল ব্যাংকের ডিডি নম্বর ‪১৫৩৩৬৭৯৭০‬ মূলে ১২ লাখ ৫৫ হাজার ডলার যার মূল্য তৎকালীন বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ে বাংলাদেশি টাকায় ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা অনুদান হিসেবে জমা হয়।
দুদকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ১৯৯১ সালের ৯ জুন থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া এই অর্থ কোনো এতিমখানায় প্রদান করেননি। এই সময়ের মধ্যে তার পুত্র তারেক রহমান, আরাফাত রহমান ও ভাগ্নে মমিনুর রহমান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করেন। যদিও এই ট্রাস্ট গঠনের প্রক্রিয়ায় আরাফাত রহমানের কোন সাক্ষর ছিল না। তাই তিনি এ মামলায় আসামী হননি।
জানা গেছে, ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর গুলশান সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ট্রাস্টের নামে নিবন্ধন করা হয়। যার ঠিকানা হিসেবে সেনানিবাসের ৩ শহিদ মঈনুল রোডের বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। এ সময় তারেক রহমানকে দি অথর অব দি ট্রাস্ট তথা দি সেটেলর নিয়োগ করা হয়। এরপর বগুড়ায় একটি এতিমখানা স্থাপনের জন্য ১৯৯৩ সালের ১৩ নভেম্বর সোনালী ব্যাংকের রমনা শাখার তৎকালীন হিসাব নম্বর ৫৪১৬ এর (খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল) অনুদানের টাকা গুলশানের নিউনর্থ সার্কেল শাখায় (এসটিডি হিসাব নম্বর-৭) মূলে ১৫ নভেম্বর বর্তমান হিসাব নম্বর ‪৭১০৫৪১৬৪‬ এ ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা ট্রান্সফার করা হয়।
এছাড়া ১৯৯৩ সালের ৪ ডিসেম্বর (চেক নম্বর ‪৪৮৮২৪০১‬) ৪ লাখ টাকা তুলে বগুড়া জেলার গাবতলী থানার দাড়াইল মৌজায় ১৭টি দলিল মূলে ২ দশমিক ৭৯ একর জমি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকায় ক্রয় করা হয়। এইখানেও উত্তোলনের পুরো টাকা ব্যবহার করা হয়নি।
এরপর ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অনুদানের বাকি টাকা অন্য কোনো স্থাপনা বা দুস্থদের কল্যাণে অর্থ ব্যয় না করায় ওই হিসাবে ২০০৬ সালের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সুদসহ জমা পড়ে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৭৫৭ টাকা। এরপর এই টাকা থেকে তারেক রহমান ও মমিনুর রহমানের যৌথ স্বাক্ষরে ২০০৬ সালের ১২ এপ্রিল, ১৫ জুন এবং ৪ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে সর্বমোট ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা প্রাইম ব্যাংকের গুলশান শাখায় এফডিআর খোলার জন্য হস্তান্তর করা হয়।
মাগুরার সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সলিমুল হক কামাল (ইকনো কামাল) ট্রাস্টের সাথে কোনোভাবে সংযুক্ত না থাকার পরেও ২০০৬ সালের ১২ এপ্রিল ৫০ লাখ টাকার একটি এফডিআর খোলেন। যা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের একাউন্ট থেকে ট্রান্সফার করা হয়। এরপর এই শাখায় কাজী সলিমুল হকের নামেই পরবর্তীতে ২ কোটি টাকার আরো দু’টি এফডিআর খোলা হয়। যা তিনি নিজ নামেই ট্রান্সফার করেন। এছাড়াও একই মামলার আরেক আসামী ব্যবসায়ী সৈয়দ শরফুদ্দিন আহমেদ নিজ নামে প্রাইম ব্যাংকের নিউ ইস্কাটন শাখায় ১ কোটি টাকার একটি এবং সৈয়দ শরফুদ্দিন আহমেদ ও গিয়াসউদ্দিন আহমেদের নামে একটি জয়েন্ট একাউন্টে আরও ১ কোটি টাকার এফডিআর করেন। এর কিছুদিন পরই গিয়াস উদ্দিন আহমেদ তার এফডিআরের এক কোটি টাকা ভেঙে ৫০ লাখ টাকার ২টি এফডিআর করেন। এরপর আবার সেই এফডিআর ভেঙ্গে শরফুদ্দিনের একাউন্টে ৬টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করেন। শরফুদ্দিন ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা তুলে নিয়ে কাজী সলিমুল হককে দেন।
অনুসন্ধানে দুদক জানতে পারে, কাজী সলিমুল হকের সরফুদ্দিন আহমেদ কাছে এই পরিমাণ অর্থ পেত। মূলত এরপরই এই টাকা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের তহবিল থেকে বেরিয়ে যায়। যা আইনত অবৈধ। কারণ এতিমদের জন্য আনা ট্রাস্টের টাকা শুধু এতিমদের কল্যাণেই ব্যয় করারই নিয়ম রয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সেই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করার পরও এতিমদের সামান্য এই টাকার লোভ সামলাতে পারেননি। এরপরও ওনারা যখন দেশের মানুষের কল্যাণের কথা বলেন তা হাস্যকরই মনে হয়।
এইবার মজার জোকসটি শুনুন…….
বিএনপি জামাত পন্থী এক সুশীল বলিল, ম্যাডাম জিয়া নাকি আদালতে দাঁত ভাঙা জবাব দিয়ে এসেছেন।
জিগাইলাম ওনার কোন জবাবে মহামান্য আদালতের দাঁত ভাঙিয়া গেলো?
ওনি যা জবাব দিলেন তাহা শুনিয়া আমার জবান বন্ধ হইয়া গেলো। সত্য মানিয়া লইয়া বিদায় হইলাম। কোনো কথা বলিতে পারিলাম না।
কেন কিছু বলিতে পাড়িলাম না-এই নিয়ে আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগিতেই পারে। আমি নিশ্চিন্ত ওই বয়ান শুনিলে আপনাদের জবান তব্দা হইয়া যাইবে।
আসেন বিস্তারিত শুনে আসি ………
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের জন্য তাহারা বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদান আনিয়াছেন। যেই টাকা দেশের এতিমদের জন্য খরচ করার কথা, সেই টাকা ব্যাংক থেকে বেগম জিয়া নিজেই তুলিয়া আত্মসাৎ করিয়াছেন- মামলাটা ছিল এই অপরাধের।
মহামান্য আদালত ওনাকে এই প্রশ্নটিই করেছিলেন যে এতিমদের টাকা বেগম জিয়া নিজে কেন খাইয়া ফেলিলেন।
বেগম জিয়া খুব শক্ত ভাবেই বলিলেন, তিনি ওই টাকা আত্মসাৎ করেন নাই, এতিমদের জন্যই ব্যয় করিয়াছেন।
সরকার পক্ষের উকিল জানিতে চাহিলেন, কখন কোথায় কোন এতিমদের জন্য ব্যয় করিলেন?
বলিয়া ম্যাডাম জিয়া বলিলেন, তিনি তার এতিম দুই সন্তান তারেক-কোকো’র জন্য এই টাকা ব্যয় করিয়াছেন।
উত্তর শুনিয়া উপস্থিত সকলের চোখ কপালে উঠিল। উকিল জানিতে চাহিল, হাজার কোটি টাকার মালিক তারেক-কোকো এতিম হইলো ক্যামনে?
এই প্রশ্ন শুনিয়া রাগান্বিত ম্যাডাম জিয়া বলিলেন, “চুপ বেয়াদব”! তুমি জানো না যাদের অল্প বয়সে বাবা মারা যায় তাদেরকে এতিম বলা হয়।
এরপর তাদের কপালের চোখ আর নিচে নামিলো না। অধিকন্তু জবান শুনিয়া দাঁতগুলো খসিয়া পড়িল।