০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

‘ভূতের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন খালেদা’

সাংবিধানিক পথে না গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘ভূতের সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। মঙ্গলবার (নভেম্বর ১৪) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রোববার (১২ নভেম্বর) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) পরিষ্কারভাবে বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে তিনি নির্বাচন করবেন না। তিনি কখনও সহায়ক সরকার,কখনও নিরপেক্ষ সরকার, আবার কখনও নির্দলীয় সরকারের কথা বলেছেন। শেখ হাসিনার অধীনে বা সংবিধানের অধীনে নির্বাচন না করার ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি কার্যত একটি ভূতের সরকারের অধীনে নির্বাচন করার কথা বলেছেন। তিনি একটি ভূতের সরকার, একটি অস্বাভাবিক সরকার প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্তের পাঁয়তারা করছেন।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন না করার ঘোষণার মানে হচ্ছে তিনি বাংলাদেশকে সংঘর্ষের দিকে, অস্বাভাবিক পথে ঠেলে দেয়ার একটা চক্রান্তের চাল বুনলেন।তিনি সংবিধানের অধীনে নির্বাচন চান না। কার্যত ভূতের সরকারই প্রতিষ্ঠা করতে চান। যা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক হবে।’

সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি হলে কিভাবে মোকাবেলা করবেন-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, ‘সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে যেভাবে অতীতে মোকাবেলা করেছি ঠিক একই পদ্ধতিতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

মন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালের পর থেকে বেগম খালেদা জিয়া যে অস্বাভাবিক রাজনীতির পথ অনুসরণ করেছেন সেই অস্বাভাবিক রাজনীতি এখনও অনুসরণ করে চলেছেন। তিনি মোটেও বদলাননি, শোধরাননি।’

সমাবেশে সশস্ত্র বাহিনী বা সেনা মোতায়েনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্রের আভাস দিয়েছেন বলে দাবি করেন হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, ‘সমাবেশে তিনি সেনাবাহিনী সম্পর্কে কথা বলেছেন। অথচ অতীতে কোনো দিনই সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতা ছিল না। আমি এর ভেতরেও একটি ষড়যন্ত্রের বিষয় লুকোনো দেখছি।’

শেখ হাসিনার সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে-খালেদা জিয়ার এমন অভিযোগের বিষয়ে ইনু বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে না, গণতান্ত্রিক রাজনীতি যাতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয় সেজন্য কাজ করছে। যুদ্ধাপরাধীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা, ৯৩ দিনের আগুনযুদ্ধের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার কতিপয় সহকর্মী যারা সরাসরি মানুষ পোড়ানোর সাথে জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা নয়।’
খালেদা জিয়া এবং তার স্বামী জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছেন বলেও দাবি করেন সরকারের তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানের দালাল হিসেবে বাংলাদেশে গণহত্যা পরিচালনা করেছে সেই রাজাকার-আলবদর গোষ্ঠী প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে। যারা ১৯৭৫ সালে নারী শিশুসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন, তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে। জেনারেল জিয়া,বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং ৭১ এর খুনিদের প্রশ্রয় দিয়ে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছেন, তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া এবং তার স্বামী জেনারেল জিয়াউর রহমানই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে, একুশে আগস্টের দুর্ঘটনা ঘটিয়ে, মানুষ পুড়িয়ে এবং জঙ্গি আক্রমণ করে প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছেন।’ ইভিএম নিয়ে তিনি বলেন, ‘ইভিএম হচ্ছে একটি আধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যাপার। আধুনিক প্রযুক্তি কিভাবে ব্যবহার হবে সে ব্যাপারে আলোচনা চলছে, আলোচনা হবে। এটা নিয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি হওয়ার কারণ নেই।’

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

‘ভূতের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন খালেদা’

প্রকাশিত : ০৭:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৭

সাংবিধানিক পথে না গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘ভূতের সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। মঙ্গলবার (নভেম্বর ১৪) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রোববার (১২ নভেম্বর) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) পরিষ্কারভাবে বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে তিনি নির্বাচন করবেন না। তিনি কখনও সহায়ক সরকার,কখনও নিরপেক্ষ সরকার, আবার কখনও নির্দলীয় সরকারের কথা বলেছেন। শেখ হাসিনার অধীনে বা সংবিধানের অধীনে নির্বাচন না করার ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি কার্যত একটি ভূতের সরকারের অধীনে নির্বাচন করার কথা বলেছেন। তিনি একটি ভূতের সরকার, একটি অস্বাভাবিক সরকার প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্তের পাঁয়তারা করছেন।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন না করার ঘোষণার মানে হচ্ছে তিনি বাংলাদেশকে সংঘর্ষের দিকে, অস্বাভাবিক পথে ঠেলে দেয়ার একটা চক্রান্তের চাল বুনলেন।তিনি সংবিধানের অধীনে নির্বাচন চান না। কার্যত ভূতের সরকারই প্রতিষ্ঠা করতে চান। যা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক হবে।’

সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি হলে কিভাবে মোকাবেলা করবেন-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, ‘সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে যেভাবে অতীতে মোকাবেলা করেছি ঠিক একই পদ্ধতিতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

মন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালের পর থেকে বেগম খালেদা জিয়া যে অস্বাভাবিক রাজনীতির পথ অনুসরণ করেছেন সেই অস্বাভাবিক রাজনীতি এখনও অনুসরণ করে চলেছেন। তিনি মোটেও বদলাননি, শোধরাননি।’

সমাবেশে সশস্ত্র বাহিনী বা সেনা মোতায়েনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্রের আভাস দিয়েছেন বলে দাবি করেন হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, ‘সমাবেশে তিনি সেনাবাহিনী সম্পর্কে কথা বলেছেন। অথচ অতীতে কোনো দিনই সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতা ছিল না। আমি এর ভেতরেও একটি ষড়যন্ত্রের বিষয় লুকোনো দেখছি।’

শেখ হাসিনার সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে-খালেদা জিয়ার এমন অভিযোগের বিষয়ে ইনু বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে না, গণতান্ত্রিক রাজনীতি যাতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয় সেজন্য কাজ করছে। যুদ্ধাপরাধীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা, ৯৩ দিনের আগুনযুদ্ধের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার কতিপয় সহকর্মী যারা সরাসরি মানুষ পোড়ানোর সাথে জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা নয়।’
খালেদা জিয়া এবং তার স্বামী জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছেন বলেও দাবি করেন সরকারের তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানের দালাল হিসেবে বাংলাদেশে গণহত্যা পরিচালনা করেছে সেই রাজাকার-আলবদর গোষ্ঠী প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে। যারা ১৯৭৫ সালে নারী শিশুসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন, তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে। জেনারেল জিয়া,বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং ৭১ এর খুনিদের প্রশ্রয় দিয়ে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছেন, তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া এবং তার স্বামী জেনারেল জিয়াউর রহমানই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে, একুশে আগস্টের দুর্ঘটনা ঘটিয়ে, মানুষ পুড়িয়ে এবং জঙ্গি আক্রমণ করে প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছেন।’ ইভিএম নিয়ে তিনি বলেন, ‘ইভিএম হচ্ছে একটি আধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যাপার। আধুনিক প্রযুক্তি কিভাবে ব্যবহার হবে সে ব্যাপারে আলোচনা চলছে, আলোচনা হবে। এটা নিয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি হওয়ার কারণ নেই।’