০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬

টেকনাফে করোনার ঝুঁকি রোহিঙ্গা ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরত লোকজন

কক্সবাজারের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত উপজেলা টেকনাফ এখন করোনা ভাইরাসের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।একদিকে রোহিঙ্গাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর ঘনবসতি অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে রীতিমতো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লোকজনের আনগোনা মানুষের মনে ছড়িয়েছে করোনার আতঙ্ক।

আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২১ জন। এর মধ্যে একজন নারী চিকিৎসকসহ ৪ জন টেকনাফের। আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবাই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরত ও তাদের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে একাধিক সূত্রের ভাষ্য।

৩৮৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলায় প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের বসতি ছাড়াও রয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একাধিক ক্যাম্প। হ্নীলা ইউনিয়নের নয়া পাড়া, লেদা, বাহাড়ছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলো অবস্থিত। এসব ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের বসতি। ফলে টেকনাফ হয়ে উঠেছে  ঘনবসতিসম্পন্ন শহর।এমতবস্থায় যদি করোনার প্রাদুর্ভাব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে টেকনাফ শহর করোনায় মাত্রাতিরিক্ত ভয়াবহ শহরে পরিণত হবে বলে জনান স্থানীয় সচেতন জনসাধারণ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন হ্নীলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা নুর কামাল জানান,লকডাউনেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলমান রয়েছে অনেক এনজিওদের কার্যক্রম। আবার সেইসব এনজিওদের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ তথা বহিরাগত। যাদের অবাধ চলাচলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প তথা টেকনাফ শহর করোনার ঝুঁকিতে রয়েছেন ।

উপজেলার বাসিন্দা ও স্থানীয় সচেতন সমাজ জানান,টেকনাফে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।যাদের সকলেই ঢাকা নারায়ণগঞ্জ ফেরত। কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রশাসনের এত কড়াকড়ির পরও থেমে নেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ যাতায়ত।অনেক ব্যবসায়ী টেকনাফ থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাচ্ছে মাছ,লবণ,পান ও কাঁচা আমভর্তি ট্রাক। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শুকনা ও কাঁচা মাছের ট্রাক, কাঁচা আমের ট্রাক,লবণের ট্রাক, পানের ট্রাক রীতিমত যাচ্ছে ঢাকা,চট্রগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ। গাড়ীর সাথে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ফলে তারা আক্রান্ত হচ্ছে করোনার কবলে। গত ১৯ এপ্রিল টেকনাফের প্রথম করোনা শনাক্ত রোগী নারায়ণগঞ্জ ফেরত কাঁচা আমের ব্যবসায়ী বলে জানা যায়। এই মুহুর্তে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মালামালের সাথে কেউ যেতে না পারলেও ঠিকই চোরাই পথে সেই সব ব্যবসায়ীরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পাড়ি দিচ্ছেন বলেন জানান।এমতবস্থায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ যাতায়তে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দাবি জানান সচেতন সমাজ।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপ) চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, করোনার সর্বোচ্চ ঝুঁকির কারন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরত লোকজন। তবে আমার ইউনিয়নে এ পর্যন্ত কেউ করোনায় আক্রান্ত হয় নাই। করোনার ঝুঁকি কমাতে সাবরাং ইউনিয়নের মানুষের কোটি টাকার পানের ব্যবসা বন্ধ রাখা হয়েছে। সবাইকে আইন মেনে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। ঢাকা-নারয়ণগঞ্জ যাতায়ত রুখতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও সজাগ আছেন বলে জানান। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরত কোন লোকজন এলাকায় আসলে দ্রুত প্রশাসনকে বা জনপ্রতিনিধিকে জানানোর জন্যও অনুরোধ করেন।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ টিটু চন্দ্র শীল জানান,মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।এর মধ্যে ১ জন ডাক্তারসহ ৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে।আক্রান্ত ডাক্তার ব্যতীত বাকি ৩ জনকে রামু হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত ডাক্তার বর্তমানে টেকনাফ হাসপাতালে সেল্ফ আইসোলেশনে সুস্থ আছেন।করোনা আক্রান্ত সকলেই ঢাকা নারায়ণগঞ্জ ফেরত এবং আক্রান্ত ডাক্তারও তাদের সংস্পর্শে আসায় করোনায় আক্রান্ত হয়।

উখিয়া-টেকনাফ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাহিদ আদনান তাইয়ান বলেন, ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লোকজনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পুলিশের বিশেষ চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে, কমিটি করা হয়েছে, মাইকিং করা হয়েছে। করোনার উৎপত্তিস্থল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরত ব্যক্তিরা গোপনে এলাকায় এসে সাধারণ মানুষকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সন্দেহভাজন কোন ব্যক্তি এলাকায় অনুপ্রবেশ করলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেন।পাশাপাশি আতঙ্ক না হয়ে সামাজিক দুরত্বতা বজায় রেখে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ট্যাগ :

খাল খনন কর্মসূচি চালু করায় কৃষকের মুখে হাসি

টেকনাফে করোনার ঝুঁকি রোহিঙ্গা ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরত লোকজন

প্রকাশিত : ১১:০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

কক্সবাজারের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত উপজেলা টেকনাফ এখন করোনা ভাইরাসের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।একদিকে রোহিঙ্গাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর ঘনবসতি অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে রীতিমতো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লোকজনের আনগোনা মানুষের মনে ছড়িয়েছে করোনার আতঙ্ক।

আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২১ জন। এর মধ্যে একজন নারী চিকিৎসকসহ ৪ জন টেকনাফের। আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবাই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরত ও তাদের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে একাধিক সূত্রের ভাষ্য।

৩৮৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলায় প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের বসতি ছাড়াও রয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একাধিক ক্যাম্প। হ্নীলা ইউনিয়নের নয়া পাড়া, লেদা, বাহাড়ছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলো অবস্থিত। এসব ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের বসতি। ফলে টেকনাফ হয়ে উঠেছে  ঘনবসতিসম্পন্ন শহর।এমতবস্থায় যদি করোনার প্রাদুর্ভাব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে টেকনাফ শহর করোনায় মাত্রাতিরিক্ত ভয়াবহ শহরে পরিণত হবে বলে জনান স্থানীয় সচেতন জনসাধারণ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন হ্নীলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা নুর কামাল জানান,লকডাউনেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলমান রয়েছে অনেক এনজিওদের কার্যক্রম। আবার সেইসব এনজিওদের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ তথা বহিরাগত। যাদের অবাধ চলাচলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প তথা টেকনাফ শহর করোনার ঝুঁকিতে রয়েছেন ।

উপজেলার বাসিন্দা ও স্থানীয় সচেতন সমাজ জানান,টেকনাফে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।যাদের সকলেই ঢাকা নারায়ণগঞ্জ ফেরত। কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রশাসনের এত কড়াকড়ির পরও থেমে নেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ যাতায়ত।অনেক ব্যবসায়ী টেকনাফ থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাচ্ছে মাছ,লবণ,পান ও কাঁচা আমভর্তি ট্রাক। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শুকনা ও কাঁচা মাছের ট্রাক, কাঁচা আমের ট্রাক,লবণের ট্রাক, পানের ট্রাক রীতিমত যাচ্ছে ঢাকা,চট্রগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ। গাড়ীর সাথে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ফলে তারা আক্রান্ত হচ্ছে করোনার কবলে। গত ১৯ এপ্রিল টেকনাফের প্রথম করোনা শনাক্ত রোগী নারায়ণগঞ্জ ফেরত কাঁচা আমের ব্যবসায়ী বলে জানা যায়। এই মুহুর্তে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মালামালের সাথে কেউ যেতে না পারলেও ঠিকই চোরাই পথে সেই সব ব্যবসায়ীরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পাড়ি দিচ্ছেন বলেন জানান।এমতবস্থায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ যাতায়তে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দাবি জানান সচেতন সমাজ।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপ) চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, করোনার সর্বোচ্চ ঝুঁকির কারন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরত লোকজন। তবে আমার ইউনিয়নে এ পর্যন্ত কেউ করোনায় আক্রান্ত হয় নাই। করোনার ঝুঁকি কমাতে সাবরাং ইউনিয়নের মানুষের কোটি টাকার পানের ব্যবসা বন্ধ রাখা হয়েছে। সবাইকে আইন মেনে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। ঢাকা-নারয়ণগঞ্জ যাতায়ত রুখতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও সজাগ আছেন বলে জানান। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরত কোন লোকজন এলাকায় আসলে দ্রুত প্রশাসনকে বা জনপ্রতিনিধিকে জানানোর জন্যও অনুরোধ করেন।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ টিটু চন্দ্র শীল জানান,মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।এর মধ্যে ১ জন ডাক্তারসহ ৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে।আক্রান্ত ডাক্তার ব্যতীত বাকি ৩ জনকে রামু হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত ডাক্তার বর্তমানে টেকনাফ হাসপাতালে সেল্ফ আইসোলেশনে সুস্থ আছেন।করোনা আক্রান্ত সকলেই ঢাকা নারায়ণগঞ্জ ফেরত এবং আক্রান্ত ডাক্তারও তাদের সংস্পর্শে আসায় করোনায় আক্রান্ত হয়।

উখিয়া-টেকনাফ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাহিদ আদনান তাইয়ান বলেন, ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লোকজনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পুলিশের বিশেষ চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে, কমিটি করা হয়েছে, মাইকিং করা হয়েছে। করোনার উৎপত্তিস্থল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরত ব্যক্তিরা গোপনে এলাকায় এসে সাধারণ মানুষকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সন্দেহভাজন কোন ব্যক্তি এলাকায় অনুপ্রবেশ করলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেন।পাশাপাশি আতঙ্ক না হয়ে সামাজিক দুরত্বতা বজায় রেখে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।