জেলার পটিয়া পৌর এলাকায় হত দরিদ্র মানুষের জন্য ওএমএস চাল বিক্রি ও রেশন কার্ড তালিকা প্রস্তুতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওএমএস চাল বিক্রি ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত রেশন কার্ডের তালিকা প্রস্তুত করণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে দলীয় ব্যক্তিদের দিয়ে পটিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় তালিকা করার অভিযোগ উঠেছে।
পটিয়া পৌরসভা প্রতি ওয়ার্ডে ২০০ পরিবারকে করে মোট ১৮০০ পরিবারের রেশন কার্ড তৈরী করা হয়েছে। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে দলীয় লোকজনকে রেশন কার্ড ও ওএমএস তালিকা করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ওএমএস চাল বিক্রিতে অনিয়ম ও রেশন কার্ডের তালিকা তৈরীতে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পটিয়া পৌরসভা ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেক আজ বৃহস্পতিবার (৩০ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।
একই অভিযোগ পটিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার একাধিক কাউন্সিলরেরও। জানা গেছে, পটিয়া পৌরসভার ওএমএস চালের ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে পটিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এন নাছির ও পৌরসভা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল আলম, তবে পটিয়া সদরের ক্লাব রোডে পটিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ইসমাইলের মালিকানাধিন মক্কা স্টোরে ওএমএস চাল বিক্রি করতে দেখা গেছে।
পটিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোফরান রানা বলেন, আমি আমার এলাকায় প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের সাথে কথা বলে সবার সাথে সমন্বয় করে রেশন কার্ডের তালিকা করেছি, সবার মতমতকে গুরুত্ব দিয়ে করা হয়েছে কেউ যাতে বঞ্চিত না হয়। কিছুকিছু এলাকায় ইচ্ছামত তালিকা করতে গিয়ে ঝামেলা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে পটিয়া পৌরসভার আরেক কাউন্সিলর কামাল উদ্দীন বেলাল বলেন, আমার এলাকার আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সরকারিভাবে ত্রাণ ও রেশন কার্ড, ওএমএস চাল কোন পরিবারকে দেয়া প্রয়োজন সেটা আমিই বেশী বুঝব, সেখানে আমাদের বাদ দিয়ে দলীয় নেতা কর্মীদের মাধ্যমে তালিকা করা জনপ্রতিনিধিদের অপমান করার সামিল, বিষয়টি আমরা জাতীয় সংসদের হুইপ মহোদয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও জানিয়েছি। এরপরও যদি কাজ না হয় আমরা যেখানে প্রয়োজন সেখানে যেতে বাধ্য হব।
পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পটিয়া পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ বলেন, রেশন কার্ডের তালিকা তৈরী করার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের রাখতে হবে এরকম কোন বাধ্যকতা নেই এ কমিটির প্রধান হচ্ছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা হচ্ছে সচিব, এমপির মনোনিত তিনজন প্রতিনিধি ও পৌর মেয়র হিসেবে আমাকে মাত্র সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেশন কার্ড ও ওএমএস কমিটির সভাপতি ফারহানা জাহান উপমা বলেন, কার্যক্রম শুরু হয়েছে অনেক আগে, আমরা প্রতিটি এলাকায় কমিটি গঠন করে তালিকা প্রস্তুত করেছি। কাউন্সিলরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।













