১১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬

টেকনাফে অপহৃত ৩ জনের ১ জন খুন

রোহিঙ্গা ডাকাত কর্তৃক জেলার টেকনাফে হোয়াইক্যংয়ের অপহৃত স্থানীয় ৩ বাসিন্দার একজনকে খুন করেছে সন্ত্রাসীরা আজ ১ মে শুক্রবার (১ লা মে) সকালে হোয়াইক্যংয়ের ঊনচিপ্রাং এলাকার পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তার পরিত্যক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিত্যক্ত লাশের গেঞ্জির ভিতরে বুকের ডান পাশে একটা ইংরেজী বর্ণের রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের লেখা চিঠিও পাওয়া গেছে।
চিঠিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭ টায় কৃষক আকতার উল্লাহকে (২৮) হত্যা করার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় বাসিন্দারা।বাকি অপহৃত ২ কৃষক যুবকের মুক্তিপণের জন্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা দাবি করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। যা পুর্বে ৩ জনের মুক্তিপণ চেয়েছিল ৩ লাখ টাকা।
২ দিন সময়ের ব্যবধানে টাকার অংক বেড়েছে ১৭ লাখ। আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে টেকনাফে উনচিপ্রাং পাহাড়ি এলাকা থেকে নিহত কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, একটি লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে একদল পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন বলেন, আজ শুক্রবার সকালে হোয়াইক্যংয়ের ঊনচিপ্রাং এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কতৃক অপহৃত যুবক আকতার উল্লাহর পরিত্যক্ত লাশ পাওয়া যায়।নিহত আক্তার উল্লাহর শরীরের বেশকিছু জায়গায় আঘাতের চিহ্নসহ মাথার পিছনের দিকে গুলির চিহ্ন দেখা যায়।
মাথা থেকে প্রচুর পরিমাণ রক্তকরণ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য যে, গত ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার আনুমানিক রাত ৯ টার দিকে সশস্ত্র রোহিঙ্গা ডাকাত দল অপহরণকৃত ৩ কৃষক যুবকসহ ৬ জনকে অপহরণ করে।পরে এক বস্তা চালসহ অন্যান্য জিনিসের বদলে ৩ জনকে ছেড়ে দিলেও অপর ৩ জনকে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাদের কাছে জিম্মি করে রাখে।
বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে গহীন পাহাড়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়। তবে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের থাকার বাঁশের ঝুঁপড়ি,রান্নার হাঁড়ি পাতিল, কিছু শুকনা মাংস সহ বেশকিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশের এই কর্মকর্তা।
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি হারুন সিকদার জানিয়েছেন, আমরা উখিয়া-টেকনাফের বাসিন্দারা সংখ্যালঘু হবার কারণে ভয়ে দিন কাটাচ্ছি। বিশেষ করে পাহাড়ে ঘাঁটি করে অবস্থানরত সশস্ত্র রোহিঙ্গার কারণে আমরা প্রতিনিয়ত শঙ্কিত জীবন অতিবাহিত করছি।
বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক

 

ট্যাগ :

খাল খনন কর্মসূচি চালু করায় কৃষকের মুখে হাসি

টেকনাফে অপহৃত ৩ জনের ১ জন খুন

প্রকাশিত : ০৫:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২০
রোহিঙ্গা ডাকাত কর্তৃক জেলার টেকনাফে হোয়াইক্যংয়ের অপহৃত স্থানীয় ৩ বাসিন্দার একজনকে খুন করেছে সন্ত্রাসীরা আজ ১ মে শুক্রবার (১ লা মে) সকালে হোয়াইক্যংয়ের ঊনচিপ্রাং এলাকার পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তার পরিত্যক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিত্যক্ত লাশের গেঞ্জির ভিতরে বুকের ডান পাশে একটা ইংরেজী বর্ণের রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের লেখা চিঠিও পাওয়া গেছে।
চিঠিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭ টায় কৃষক আকতার উল্লাহকে (২৮) হত্যা করার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় বাসিন্দারা।বাকি অপহৃত ২ কৃষক যুবকের মুক্তিপণের জন্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা দাবি করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। যা পুর্বে ৩ জনের মুক্তিপণ চেয়েছিল ৩ লাখ টাকা।
২ দিন সময়ের ব্যবধানে টাকার অংক বেড়েছে ১৭ লাখ। আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে টেকনাফে উনচিপ্রাং পাহাড়ি এলাকা থেকে নিহত কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, একটি লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে একদল পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন বলেন, আজ শুক্রবার সকালে হোয়াইক্যংয়ের ঊনচিপ্রাং এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কতৃক অপহৃত যুবক আকতার উল্লাহর পরিত্যক্ত লাশ পাওয়া যায়।নিহত আক্তার উল্লাহর শরীরের বেশকিছু জায়গায় আঘাতের চিহ্নসহ মাথার পিছনের দিকে গুলির চিহ্ন দেখা যায়।
মাথা থেকে প্রচুর পরিমাণ রক্তকরণ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য যে, গত ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার আনুমানিক রাত ৯ টার দিকে সশস্ত্র রোহিঙ্গা ডাকাত দল অপহরণকৃত ৩ কৃষক যুবকসহ ৬ জনকে অপহরণ করে।পরে এক বস্তা চালসহ অন্যান্য জিনিসের বদলে ৩ জনকে ছেড়ে দিলেও অপর ৩ জনকে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাদের কাছে জিম্মি করে রাখে।
বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে গহীন পাহাড়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়। তবে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের থাকার বাঁশের ঝুঁপড়ি,রান্নার হাঁড়ি পাতিল, কিছু শুকনা মাংস সহ বেশকিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশের এই কর্মকর্তা।
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি হারুন সিকদার জানিয়েছেন, আমরা উখিয়া-টেকনাফের বাসিন্দারা সংখ্যালঘু হবার কারণে ভয়ে দিন কাটাচ্ছি। বিশেষ করে পাহাড়ে ঘাঁটি করে অবস্থানরত সশস্ত্র রোহিঙ্গার কারণে আমরা প্রতিনিয়ত শঙ্কিত জীবন অতিবাহিত করছি।
বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক