০১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

বিক্রিত নবজাতককে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিল জিএমপি কমিশনার 

হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নিজের সন্তানকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন এক দম্পতি। পরে সন্তান বিক্রির ২৫ হাজার টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন তারা। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে এলে ওই শিশু সন্তানটিকে তার বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে  এনে দেন জিএমপি কমিশনার মোঃ আনোয়ার হোসেন

ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি এলাকায় সেন্ট্রাল হাসপাতালে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) গর্ভবতী অবস্থায় কেয়া খাতুন নামে এক নারী এলাকার কোনাবাড়ী সেন্ট্রাল হাসপাতালে বিকেল ৪ টায় ভর্তি হয়। ওই দিনই সন্ধ্যা ৭টায় সিজারের মাধ্যমে তার একটি পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। তার স্বামী মো. শরীফসহ তারা এনায়েতপুর এলাকায় বসবাস করে আসছিল।

তারা দুজনেই স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। কেয়া খাতুন ওই হাসপাতালে ১১ দিন ভর্তি ছিল। এতে হাসপাতালের বিল আসে ৪২ হাজার টাকা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধ করার জন্য তাদের চাপ প্রয়োগ করলে  এত টাকা পরিশোধ করার মত সামর্থ্য না থাকার কারণে শরীফ-কেয়া খাতুন দম্পতি একপর্যায়ে নবজাতক সন্তান বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে শুক্রবার ২৫ হাজার টাকায় তাদের ১১ দিন বয়সের পুত্র সন্তান এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেন।

সন্তান বিক্রির সেই টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে  ওই দম্পতি বাড়ি ফিরে যান।

পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশের অতিরিক্ত মহা-পরিদর্শক (আইজি-এসবি) শহিদুল ইসলামের নজরে আসে।

পরে তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি অবগত করেন। ঘটনাটি জেনে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন  ২৫ হাজার টাকা ওই নিঃসন্তান দম্পতিকে ফিরিয়ে দিয়ে শিশুটিকে ফেরত নিয়ে আসেন। পরে মো. শরীফ-কেয়া খাতুন দম্পতির কাছে তাদের পুত্র সন্তানকে ফিরিয়ে দেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ওই দম্পতি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

দারিদ্রতার কারণে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারায় তাদের পুত্র সন্তানটিকে বাধ্য হয়ে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।

সেই টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে বাড়ি ফিরে যান। যাদের কাছে সন্তানটিকে বিক্রি করা হয়েছিল তাদের টাকা ফেরত দিয়ে ওই সন্তানকে তার বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

 

বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক

ট্যাগ :

খাল খনন কর্মসূচি চালু করায় কৃষকের মুখে হাসি

বিক্রিত নবজাতককে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিল জিএমপি কমিশনার 

প্রকাশিত : ০৩:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২০

হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নিজের সন্তানকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন এক দম্পতি। পরে সন্তান বিক্রির ২৫ হাজার টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন তারা। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে এলে ওই শিশু সন্তানটিকে তার বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে  এনে দেন জিএমপি কমিশনার মোঃ আনোয়ার হোসেন

ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি এলাকায় সেন্ট্রাল হাসপাতালে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) গর্ভবতী অবস্থায় কেয়া খাতুন নামে এক নারী এলাকার কোনাবাড়ী সেন্ট্রাল হাসপাতালে বিকেল ৪ টায় ভর্তি হয়। ওই দিনই সন্ধ্যা ৭টায় সিজারের মাধ্যমে তার একটি পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। তার স্বামী মো. শরীফসহ তারা এনায়েতপুর এলাকায় বসবাস করে আসছিল।

তারা দুজনেই স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। কেয়া খাতুন ওই হাসপাতালে ১১ দিন ভর্তি ছিল। এতে হাসপাতালের বিল আসে ৪২ হাজার টাকা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধ করার জন্য তাদের চাপ প্রয়োগ করলে  এত টাকা পরিশোধ করার মত সামর্থ্য না থাকার কারণে শরীফ-কেয়া খাতুন দম্পতি একপর্যায়ে নবজাতক সন্তান বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে শুক্রবার ২৫ হাজার টাকায় তাদের ১১ দিন বয়সের পুত্র সন্তান এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেন।

সন্তান বিক্রির সেই টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে  ওই দম্পতি বাড়ি ফিরে যান।

পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশের অতিরিক্ত মহা-পরিদর্শক (আইজি-এসবি) শহিদুল ইসলামের নজরে আসে।

পরে তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি অবগত করেন। ঘটনাটি জেনে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন  ২৫ হাজার টাকা ওই নিঃসন্তান দম্পতিকে ফিরিয়ে দিয়ে শিশুটিকে ফেরত নিয়ে আসেন। পরে মো. শরীফ-কেয়া খাতুন দম্পতির কাছে তাদের পুত্র সন্তানকে ফিরিয়ে দেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ওই দম্পতি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

দারিদ্রতার কারণে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারায় তাদের পুত্র সন্তানটিকে বাধ্য হয়ে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।

সেই টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে বাড়ি ফিরে যান। যাদের কাছে সন্তানটিকে বিক্রি করা হয়েছিল তাদের টাকা ফেরত দিয়ে ওই সন্তানকে তার বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

 

বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক