করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীণ এবং গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এতে করে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে গৃহবন্দী হয়ে পরা মানুষগুলোর। কিন্তু বন্ধ হয়নি তাদের ব্যয়ের পথ। নিন্ম আয়ের মানুষগুলোর হাতে খাবার এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি তুলে দিচ্ছেন অনেকেই। সরকার এবং বিভিন্ন সংগঠনগুলো নিন্ম আয়ের মানুষদের সহযোগিতায় হাত বাড়িয়েছে।
তবে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর পরিবারগুলোর পাশে কেউ নেই। উচ্চ বিত্তদের টাকার অভাব নেই ফলে তাদের অভাবও নেই এবং তাদের কোন প্রকার টেনশন নেই। আর মধ্যবিত্তদের নেই ব্যাংক ব্যালেন্স বা জমানো অর্থ,সাহয্য-সহোযোগিতার হাত বাড়াচ্ছেনা কেউ। ঘরে খাবার না থাকলে ও মধ্যবিত্তরা লজ্জায় কিছু বলতে পারছেনা।কিন্তু ভালো নেই মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলো। লোকচক্ষুর ভয়ে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে কোথায় ত্রাণ আনতে যেতে পারছেন না। আত্মসম্মানবোধ তাদেরকে বাধা দেয়। ঘরের মধ্যে তারা না খেয়ে থাকলেও বের হচ্ছেন না। এক বুক কষ্ট আর ব্যথা নিয়েই জীবনের বাস্তবতা মোকাবেলা করছেন তারা।
বামৈলের বাসিন্দা ও সমাজসেবক মোঃশাকিল নাজিম বলেন,বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর মিছিল। এ প্রজন্ম একসঙ্গে এতো মানুষের মৃত্যু আগে কখনো দেখেনি। সব সময় তাড়া করে বেড়াচ্ছে মৃত্যু।সব ধরনের জনসমাগম বন্ধ রাখার জন্য গণপরিবহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মজীবী মানুষ এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ঘর থেকে তারা কেউ বের হতে পারছে না। মূলত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বাংলার ১৮ কোটি মানুষ।
জীবন সাথী ইমরান(ছদ্মনাম) বলেন, কিছু টাকা জমানো ছিলো তাও শেষ হবার পথে অপরদিকে একদিন পরেই রমজান মাসের শুরু। অন্যসব মাসের তুলনায় রমজান মাসে সংসারের খরচটা একটু বেশী। এভাবে চলতে থাকলে করোনায় নয় না খেয়েই মরতে হবে আমাদের। কারন লাজ- লজ্জায় আমরা কারো নিকট সাহয্য চাইতে পারছিনা আবার কেউ সাহায্যের হাত ও বাড়িয়ে দিচ্ছেনা।
রোকেয়া অাক্তার নামে এক নারী বেশ আক্ষেপ নিয়ে বলেন,বড়োলোকের টাকা আছে,গরীবরা ত্রাণ পাচ্ছে আর মধ্যবিত্তরা না খেয়ে মুখ লুকিয়ে নীরবে চোখের জল ফেলছে। মধ্যবিত্তরা যেনো এ দেশের নাগরীকদের কাতারে পরে না। মধ্যবিত্তরা যদি সরকারের হিসেবের খাতায় থাকতো তাহলে সরকারী ভাবে তালিকা তেরী করে মধ্যবিত্তদের সহোযোগিতা করতো।
সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী ও ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় কমিউনিটির গ্রুপের এডমিন, ফজলুল করিম অপূর্ব বলেন,মধ্যবিত্তদের পাশে অাজ কেউ। সবাই মনে করছে মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো ভালো অাছে কিন্তু তারা তো কোনো সংস্থা বা দলীয় নেতা কর্মীদের সামান্যতম সাহায্য পান না কারন তারা তো লাইনে দাড়াতে সক্ষম না। এ পরিস্তিতিতে সরকার ও অন্যান্য সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর একটু দৃষ্টি তাদের প্রতি রাখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার মোঃমামুনুর রহমান বলেন,গরিবদের কান্না সবাই শুনে কিন্তু মধ্যবিত্তদের কান্না শুধু চার দেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ।লোকলজ্জার কারনে তারা কারো কাছে হাত পাততে পারে না।অন্যদিকে নি¤œবিত্তদের সাহায্য করার জন্য দেশে মানুষ এবং সংস্থারও অভাব নেই। সমস্যা হল এই মধ্যবিত্তদের নিয়ে। এদের সাহায্য করার জন্য কেউ এগিয়ে আসে না, আবার এরাও রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাহায্য নিবার পাত্র নয়।
ডগাইর ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা অাল অামিন (ছদ্ম নাম) বলেন,এটা কোন জীবন হলো।সংসার চালাতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। চক্ষুলজ্জায় কষ্টগুলো প্রকাশ করা যায় না। ওইযে আমরা নিম্নে মধ্যবিত্ত।আমাদের কোনো কষ্ট নেই। আছে শুধু সুখ ।কিন্তু এর আড়ালে আমরা যে কত কষ্টে জীবন-যাপন সকরি, তা বোঝানে যায়না। কেউ বোঝারও চেষ্টা করে।ভাই মানুষের কাছে কিছু বলাও যায় না কতো যে কষ্ট একমাত্র মধ্যবিওরায় বুঝে।
।
ডেমরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,সিটি কপোরেশন থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে যে পরিমান ত্রান দিচ্ছে তা দিয়ে নিম্ন বিত্তদের চাহিদা মিটাতে পারছে না সেখানে মধ্যবিত্তরা তো অারো অাগেই এ সুবিধা হতে বঞ্চিত হবে।এসময় তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডে ত্রানের সুষম বন্টন নিশ্চিত হয় নি বলে জানান।মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাড়ানোর জন্য বিত্তশালীদের এগিয়ে অাসার অাহবান জানান তিনি।
৭০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব হাজী অাতিকুর রহমান বলেন,৭০ নং ওয়ার্ডে অামি অামার ব্যক্তিগত উদ্যোগে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাড়িয়ে তাদের দুঃখ কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে চেষ্টা করি। সিটি করপোরেশন থেকে যা পেয়েছি তা সুষম ভাবে বন্টন করে দিয়েছি।
ডেমরা থানা সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ও সাবেক সভাপতি সিফাত সাদেকিন চপল বলেন,ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবলীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন ভাইয়ের দিকনির্দেশনায় ডেমরা-যাত্রাবাড়ীর অসহায়, দিনমজুর, শ্রমিক ও মধ্যবিত্তশ্রেনীর মানুষের পাশে সাধ্যমত দাড়াচ্ছি। বিভিন্ন স্থান থেকে ফোন করলে সাথে সাথে পরিচয় গোপন করে খাবার পৌছে দিচ্ছি। কারন মধ্যবিত্তদের মধ্যে এমন অনেকে আছে যারা দিন আনে দিন খায়, অথবা যাদের নিজেদের একটা ব্যবসা আছে অথবা চাকরি করে,করোনার এই সংকটের সময়ে তাদের সকল প্রকার আয় বন্ধ।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ













