জেলার ফটিকছড়ির সুয়াবিলে ২৭ এপ্রিল আলাউদ্দীন নামে একব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুঁপিয়ে হত্যা করে একদল সন্ত্রাসী।
প্রকাশ্য দিবালোকে গঠিত এই হত্যাকান্ডের মুল আসামী এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকায় আতংক বিরাজ করছে এলাকায় এবং শংকিত নিহতের পরিবার। ফলে খুনীদের দ্রুত গেফতার করে শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
গতকাল শুক্রবার বিকালে এলাকাবাসী ও পরিবারের পক্ষ থেকে আলাউদ্দীনের খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী জানায় তারা। এতে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আলাউদ্দীনের চাচী। এসময় মা-ভাইসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার পরে ১৩ জনকে আসামী করে ভুজপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে সেকান্দর ও আনোয়ার নামে দুই আসামীকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক করলেও বাকি আসামীরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।
লিখিত বক্তব্যে জানায় , সুয়াবিল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুলের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটা বাহিনী আলাউদ্দিনকে পিটিয়ে ও কুঁপিয়ে হত্যা করে। পরে ঘটনা ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে কৌশলে দু’গ্রামবাসীর মধ্যে মারামারি বলে চালিয়ে দেয়। বাস্তবে দু’পক্ষে মারামারির কোন ঘটনা ঘটেনি। এটাকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবী করেন তাঁরা।
খুন হওয়া আলাউদ্দীনের পরিবারের অভিযোগ, আসামীরা প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান হওয়ায় মামলা ভিন্নখাতে নিতে উপর মহলে নানা তদ্বির-প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রশাসনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলেও তাদের অভিযোগ।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা বলেন,দীর্ঘদিন ধরে আমার ছেলে আলাউদ্দিন নিজে এবং শ্রমিক দিয়ে বালি তুলত। ঐ সন্ত্রাসীরা নিয়মিত চাঁদাও নিত। সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন সময় আমার পরিবার ও আমার ছেলে আলাউদ্দিনকে মেরে ফেলার হুমকি দিত।
সুয়াবিল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ১৫/২০ জন মিলে ধারালো দা ও বাঁশের লাটি দিয়ে যতক্ষণ মরেনি ততক্ষণ মারছিল,তার শরীরে ডান হাতে, পেটের নিচে কুপ মেরে মাটিতে পড়ে গেলে সর্বশেষ সুজন নামে একব্যক্তি আলাউদ্দিনের নিশ্বাস বন্ধ হওয়া পর্যন্ত গলার উপর দাড়িয়ে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক আজমের বরাত দিয়ে তার মা জানান, হত্যাকান্ডে ১৫/২০ জন অংশ নেয়- তন্মধ্যে যুবলীগ সভাপতি ও একই এলাকার দৌলতের ছেলে নজরুল ইসলাম (৩৫), বজল আহমদের ছেলে সেকান্দর(৩৪),আব্দুল হাদীর ছেলে ইসমাইল ও ইদ্রিস,মৃত জালালের ছেলে আবু তাহের,আসাদুল হকের ছেলে আনোয়ার,খোকনের ছেলে ফরহাদ,সেকান্দরের পুত্র জাফর,বজল আহমদের ছেলে সোলেমান প্রকাশ গুরামনা, মমতাজ উদ্দীনের ছেলে সুজন, ইসহাকের ছেলে কফিল উদ্দীন, মৃত আজমের ছেলে নাজিম, গোলাম রহমানের পুত্র আবু হানিফ,প্রবাসী মো: মিয়ার পুত্র মোহাম্মদ আলীসহ আরো ৭/৮ জন।
গত ৫-৬ বছর আগেও (২০১৪ সালে) একবার আলাউদ্দিনকে মেরে ফেলার জন্য হামলা করেছিল,তখন প্রতিরোধ করতে গিয়ে আজম নামে একব্যক্তি মারা যায়। এই আজম ছিল নজরুলের চাচা।
এ ব্যাপারে উদালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই হাসান জানান,নিহত আলাউদ্দিন একটি হত্যা মামলার আসামি ছিল,আবার সেও খুন হয়েছেন। মামলা হয়েছে, আমরা এই ঘটনা তদন্ত করছি। ২জনকে গ্রেফতার করেছি। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক













