০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

সিএমপির ৯৭ জন বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী ঈদে পাবেন না উৎসবভাতা

গত কোরবানীর ঈদ থেকে কোন উৎসব ভাতা পাচ্ছেনা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে কর্মরত ৯৭ জন বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী।

তাদের দাবি, এর আগে প্রতিটি ধর্মীয় ও রাষ্ট্্রীয় উৎসবে তারা ভাতা পেয়ে আসছিলেন। এবার ঈদে তারা উৎসব ভাতা পাবেন না। ফলে তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ৯৭ জন বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছে। তারা কোম্পানীর মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। এরমধ্যে পুলিশ কমিশনারের বাসায় ৪জন, সিএমপির বিভিন্ন বিভাগের ডিসিদের বাসায় ২জন করে কর্মরত।

এছাড়া বাকিরা ১১টি পুলিশ মেস, ১০টি ট্্রাফিক মেস ও ৬টি ব্যারেকে কর্মরত। বর্তমানে বাবুর্চি ১৭ হাজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ১৬ হাজার ৬০০ টাকা মাসিক বেতন পাচ্ছেন। এছাড়া তারা কোন উৎসব ভাতা পাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন বাবুর্চি বলেন, ঈদুল আযহা, ঈদুল ফিতর, দূর্গা পূঁজা, বাংলা নববর্ষসহ রাষ্ট্্রীয় ও ধর্মীয় দিবসে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মচারিদের উৎসব ভাতা দিলেও সিএমপির বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এতে উৎসবের সময় পরিবারের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আরেকজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী বলেন, সারা বছর চাকরি করে বেতনটা শুধু পাই। সামনে ঈদ। পরিবারের লোকজনদের ভালমন্দ কিনে দিতে হবে। শুধু বেতনের টাকা দিয়ে উৎসব পালন করা কষ্টকর হয়ে পড়বে।
তিনি জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুভাবের সময়ে অনেক ঝুঁকি নিয়ে তাদের কাজে যেতে হয়। এসময়ে তেমন কোন আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছিনা।
গাউছিয়া ট্্েরডার্স নামে যে কোম্পানীর আওতাধীন বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করছে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ তানভীরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য উৎসব ভাতাটা দীর্ঘদিন ধরে চালু ছিল। কিন্তু গত বছর পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে এক প্রজ্ঞাপণের মাধ্যমে বন্ধ করে দেয়া হয়।
ওই ৯৭ জন কর্মচারিকে কাজ ভাগ করে দেয়ার জন্য সিএমপিতে কুকু চাকমা নামের এক সহকারি-উপ পরিদর্শক কাজ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছর থেকে বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতন বাড়িয়ে দিয়ে পুলিশ হেড কোয়াটার উৎসব ভাতা বন্ধের প্রজ্ঞাপণ জারি করে। যার কারণে তাদের উৎসব ভাতা দেয়া হচ্ছেনা।
বেতন বাড়ানোর সঙ্গে উৎসব ভাতা বন্ধের কি সম্পর্ক রয়েছে এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে উধ্বতন কতৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করছি।

ট্যাগ :

খাল খনন কর্মসূচি চালু করায় কৃষকের মুখে হাসি

সিএমপির ৯৭ জন বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী ঈদে পাবেন না উৎসবভাতা

প্রকাশিত : ১২:৩৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২০

গত কোরবানীর ঈদ থেকে কোন উৎসব ভাতা পাচ্ছেনা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে কর্মরত ৯৭ জন বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী।

তাদের দাবি, এর আগে প্রতিটি ধর্মীয় ও রাষ্ট্্রীয় উৎসবে তারা ভাতা পেয়ে আসছিলেন। এবার ঈদে তারা উৎসব ভাতা পাবেন না। ফলে তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ৯৭ জন বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছে। তারা কোম্পানীর মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। এরমধ্যে পুলিশ কমিশনারের বাসায় ৪জন, সিএমপির বিভিন্ন বিভাগের ডিসিদের বাসায় ২জন করে কর্মরত।

এছাড়া বাকিরা ১১টি পুলিশ মেস, ১০টি ট্্রাফিক মেস ও ৬টি ব্যারেকে কর্মরত। বর্তমানে বাবুর্চি ১৭ হাজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ১৬ হাজার ৬০০ টাকা মাসিক বেতন পাচ্ছেন। এছাড়া তারা কোন উৎসব ভাতা পাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন বাবুর্চি বলেন, ঈদুল আযহা, ঈদুল ফিতর, দূর্গা পূঁজা, বাংলা নববর্ষসহ রাষ্ট্্রীয় ও ধর্মীয় দিবসে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মচারিদের উৎসব ভাতা দিলেও সিএমপির বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এতে উৎসবের সময় পরিবারের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আরেকজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী বলেন, সারা বছর চাকরি করে বেতনটা শুধু পাই। সামনে ঈদ। পরিবারের লোকজনদের ভালমন্দ কিনে দিতে হবে। শুধু বেতনের টাকা দিয়ে উৎসব পালন করা কষ্টকর হয়ে পড়বে।
তিনি জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুভাবের সময়ে অনেক ঝুঁকি নিয়ে তাদের কাজে যেতে হয়। এসময়ে তেমন কোন আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছিনা।
গাউছিয়া ট্্েরডার্স নামে যে কোম্পানীর আওতাধীন বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করছে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ তানভীরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য উৎসব ভাতাটা দীর্ঘদিন ধরে চালু ছিল। কিন্তু গত বছর পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে এক প্রজ্ঞাপণের মাধ্যমে বন্ধ করে দেয়া হয়।
ওই ৯৭ জন কর্মচারিকে কাজ ভাগ করে দেয়ার জন্য সিএমপিতে কুকু চাকমা নামের এক সহকারি-উপ পরিদর্শক কাজ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছর থেকে বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতন বাড়িয়ে দিয়ে পুলিশ হেড কোয়াটার উৎসব ভাতা বন্ধের প্রজ্ঞাপণ জারি করে। যার কারণে তাদের উৎসব ভাতা দেয়া হচ্ছেনা।
বেতন বাড়ানোর সঙ্গে উৎসব ভাতা বন্ধের কি সম্পর্ক রয়েছে এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে উধ্বতন কতৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করছি।