৪৩ বিজিবি রামগড় জোনের আন্তরিকতা, মানবিকতা, অক্লান্ত পরিশ্রম, এবং রামগড়ের স্হানীয় সংবাদ কর্মীদের রিপোর্ট, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগীতায় অবশেষে নিজ পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরে যাচ্ছে রামগড়-সাব্রুম সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ড ফেনী নদীর পারে অবস্থানরত সেই মানসিক ভারসাম্যহীন নারী।
গত ২/৪/২০২০ ইং থেকে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ফেনী নদীর মাঝখানে গত একমাস যাবত অবস্থান করা মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীর পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়। তার নাম শাহানাজ পারভিন (৩৫)। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দই খাওয়ারচর গ্রামের হাতেম আলী শেখ ও ওমেলা খাতুনের মেয়ে। ভারসাম্যহীন অবস্থায় প্রায় দুই বছর আগে বাড়ি থেকে তিনি নিখোঁজ হন।
৪৩ বিজিবি, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেডক্রস (আইসিআরসি) ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (বিডিআরসিএস) যৌথ প্রচেষ্ঠায় তাকে স্বজনদের নিকট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আজ ৪/৫/২০২০ ইং তারিখ বিকাল ৪ টায় আনুষ্টানিক ভাবে রেড ক্রিসেন্ট এর জেলা সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরি চৌধুরীর উপস্হতিতে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তরের জন্য ঢাকা থেকে আসা রেডক্রিসেন্ট কর্মীদের বহনকারি গাড়িতে তুলে দেন।
এসময় বিজিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল জি এইচ এম সেলিম পি এস সি।আর ও উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জসিম উদদীন মজুমদার,রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শামসুজ্জামান, ওসি তদন্ত মনির হোসেন। বিশ্বব্যাপি চলমান মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ আশংকায় মহিলাটির করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার রিপোর্ট ৩ এপ্রিল নেগেটিভ হিসাবে শনাক্ত হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২ এপ্রিল সকালে ভারতীয় বিএসএফ মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা রুখে দেয় বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি। এরপর থেকে ওই নারী বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত ফেনী নদীর মাঝখানে তথা নোম্যানস-ল্যান্ডের খোলা আকাশের নিচে থাকেন।
এই নারী নিজ মুখে তার বাড়ি একবার ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাব্রুম থানার দোলবাড়ি এলাকায়, আরেকবার হরিণা এলাকায় বলে জানায়। আবার পরবর্তীতে তিনি তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার দইখারচরে বলে দাবি করে। তার বক্তব্যের ভিত্তিতে বিজিবি-বিএসএফ ঠিকানাগুলো শনাক্ত করার জন্য কাজ শুরু করে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রচার হলে আইসিআরসি ও বিডিআরসিএসের নজরে আসে। বিজিবি-আইসিআরসি ও বিডিআরসিএস যৌথভাবে কাজ করে নারীর নাম পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
শাহানাজ পারভিনের বড় ভাই ওমর আলী জানান, দীর্ঘদিন থেকে নিখোঁজ ছিলেন তার বোন। হঠাৎ করে বিজিবি-আইসিআরসি ও রেড ক্রিসেন্টের লোকজন তাদের সঙ্গে যোগায়োগ করে ছবি-ভিডিও দেখালে আমরা নিশ্চিত হই। বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাসের কারণে খাগড়াছড়ি রামগড় গিয়ে বোনকে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। তবে রেড ক্রিসেন্টের লোকজন বোনকে বাড়িতে দিয়ে যাবে।এজন্য তাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
৪৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন, রামগড় জোন এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. তারিকুল হাকিম বলেন, ‘পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা তাকে নো ম্যানস-ল্যান্ড থেকে সরিয়ে এনে ভালোভাবে রেখেছি। তবে গত দুই বছর ওই নারী দেশে ছিলেন নাকি ভারতে ছিলেন তা তিনি বলতে পারেননি। তবে বিএসএফ ও ভারতীয় লোকজন তাকে বাংলাদেশি বলেই পুশইনের চেষ্টা করেছিল।’
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জসিম উদ্দিন মজুমদার জানান, বিজিবির আন্তরিকতায় গত দুই বছর ধরে নিখোঁজ থাকা একজন নারীকে আমরা আইসিআরসির রেস্টোরিং ফ্যামিলি লিংকস (আরএফএল) এর মাধ্যমে তার পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করছি। এ প্রক্রিয়ায যারা বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছেন বিশেষ করে বিজিবি,রেডক্রিসেন্ট এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান













