জেলার পটিয়া থানাধীন কালারপোল এলাকার চাঞ্চল্যকর পান দোকানকদার হত্যার রহস্য উন্মোচন করে হত্যার মূলহোতা মোঃ শাওন @ সাগর (২৫) কে গেস্খফতার করেছে র্যাব -৭।
আজ সোমবার ( ৪ মে) ভোর সাড়ে ৬ টায় র্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন দত্তপাড়া গ্রামের বান বাড়ি থেকে তাকে গেস্খফতার করে। সে ওই এলাকার আব্দুল মালেক স্বপনের বড় ছেলে।
র্যাব-৭ এর গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক (সহকারী পুলিশ সুপার) মোঃ মাহ্মুদুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন গত ২১ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯ টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানাধীন কোলাগাঁও ইউনিয়নের কালারপোল এলাকায় আজিজিয়া রেস্টুরেন্টের ভিতরে পানির ড্রামের মধ্যে ওই এলাকার আবদুল মোনাফের ছেলে আব্দুুল কাদের প্রঃ @টুইল্ল্যা (২৬) এর গলায় রশি পেঁচানো এবং মুখ থ্যাতলানো লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
উক্ত হোটেলের সামনে মৃত আব্দুল কাদেরের পানের দোকান ছিল। ঘটনায় কারো জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ না থাকায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় হত্যামামলা দায়ের হয় ।
এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন, আসামীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র্যাব-৭ ছায়াতদন্ত শুরু করে। র্যাব-৭ ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এবং হত্যার মুলহোতা মোঃ শাওন @ সাগরকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
সে আজিজিয়া রেস্টুরেন্টের কর্মচারী ছিল।
গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সে জানায়, মৃত আব্দুল কাদেরের স্বচ্ছল জীবনযাপন দেখে সে এবং তার সঙ্গীয় অপর হত্যাকারীর ধারণা হয় তার কাছে কয়েক লক্ষ টাকা জমা আছে।
হত্যাকান্ডের এক সপ্তাহ আগে থেকে কাদেরকে হত্যা করে তার জমানো টাকা পয়সা নিয়ে পালানোর পরিকল্পনা করে। ঘটনার তিনদিন আগেও তারা একবার রশি এবং চাপাতি নিয়ে কাদেরকে হত্যার চেষ্টা করে। কিন্তু সুযোগ না পাওয়ায় ঐদিন তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি।
সর্বশেষ গত ২১ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩ টায় হোটেলের ভিতরে টেবিলের উপরে ঘুমন্ত অবস্থায় কাদেরকে তারা দুইজন রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে।
এক পর্যায়ে কাদেরের ঘুম ভেঙে গেলে সে চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখে এলোপাথাড়ি ঘুষি মারতে থাকে। তাকে ধাক্কা দিয়ে টেবিলের উপর থেকে ফেলে দিলে মুখের এক অংশ থেতলে যায়।
তারপর একজন আব্দুল কাদেরের মাথা চেপে ধরে, অপরজন আব্দুল কাদেরের শরীরের উপরে বসে তার মুখের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে রাখলে সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ড্রামের ভিতরে ঢুকিয়ে ভিকটিমের কাছ থেকে প্রাপ্ত ৩ হাজার ৫’শ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার সাথে জড়িত তার অপর গ্রেফারের চেষ্টা চলছে।
এই হত্যাকান্ডের নেúথ্যে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা জানার জন্য নিয়মিত তদন্তের পাশাপাশি র্যাব-৭ এর ছায়া তদন্তও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।













