ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম, আত্মসাত এবং দুর্নীতির অভিযোগে এবার কুষ্টিয়ায় এক পৌর মেয়র, পৌরসভার ৭ কাউন্সিলর, এক ইউপি চেয়ারম্যান এবং অপর এক মহিলা ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার(০৫ মে) কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুন স্বপ্রণোদিত হয়ে পৃথক এ দুটি নির্দেশ প্রদান করেন। অভিযুক্তরা হচ্ছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার মেয়র সামসুজ্জামান অরুন, একই পৌরসভার ৭ কাউন্সিলর, দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ-আলমগীর এবং মরিচা ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য শারমিন সুলতানা।
ক্রিমিনাল মিস কেস নং-০২/২০২০। ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা-১৯০(১) (সি) এখতিয়ার বলে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয় গত ৩ এপ্রিল পত্রিকায় ”এবার ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ কুমারখালী পৌরসভার মেয়রসহ ৭ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে।” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়। প্রতিবেদন হতে জানা যায় যে, কুমারখালী পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে বরাদ্দকৃত ১৩৫০ প্যাকেট ত্রাণ সংশ্লিষ্ট মেয়রের নিকট হতে কাউন্সিলরগণ অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে গ্রহণের জন্যে বিতরণের জন্য গ্রহণের পর বিতরণ করেন। কিন্তু উক্ত ত্রাণ বিতরণের পর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জেলা বিশেষ শাখার গোপন অনুসন্ধানে জানা যায় উল্লেখিত ওয়ার্ডগুলোতে তালিকায় নাম থাকা গরীব, অসহায় ও অসহায় হতদরিদ্র ব্যক্তির ত্রাণ সামগ্রী পাননি এবং মাষ্টাররোলে টিপসহি বা স্বাক্ষর দেননি। কিন্তু তাদের নামের পাশে স্বাক্ষর এবং টিপসই দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ আছে যে, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জেলা বিশেষ শাখার গোপন অনুসন্ধান হতে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ধরা পড়া ওয়ার্ডগুলো হলো- ১,২, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ৯। ইহা একটি ফৌজদারী অপরাধ। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আগামী ২৩ জুন ২০২০ ইং তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কুমারখালী থানাকে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, আদেশের বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছি। তবে লিখিত কোন অর্ডার এখনো পায়নি। আদেশ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আদেশের বিষয়ে কুমারখালী পৌরসভার একাধিকবার নির্বাচিত মেয়র সামসুজ্জামান ওরুন জানান, ১৩৫০ জনকে ত্রাণ দেওয়ার সময় দেখা যায় ৩০০ কেজি চাল সেখানে কম রয়েছে। আমি নিজে পকেটের টাকা দিয়ে ওই ৩০০ কেজি চাল কিনে দিয়ে বিতরণ করেছি। তাই ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোন প্রশ্নই ওঠে না। ত্রাণ বিতরণ শতভাগ সঠিক হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন এ ব্যাপারে সঠিক তদন্ত হলেই এর সত্যতা বের হবে। অপর ক্রিমিনাল মিস কেস নং-০৩/২০২০। ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা-১৯০(১) (সি) এখতিয়ার বলে প্রদত্ত আদেশে বলা হয় গত ২ এপ্রিল গণমাধ্যমে প্রকাশিত কুষ্টিয়ার ইউপি সদস্যের হোল ফ্যামিলির নামে ভিজিডি কার্ড” এবং চেয়ারম্যানের প্রশ্রয়ে দুস্থদের চাল নিচ্ছে মেম্বার, ইউএনও জানেন না কিছুই” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন দুটি আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রতিবেদন হতে জানা যায় যে, দৌলতপুর থানাধীন ৪ নং মরিচা ইউনিয়নের সদস্যরা তার নিজের এবং পরিবারের অন্যদের নামে ভিজিডি এবং ওএমএস’র কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে গত ১৫ মাস অন্য দুস্থদের চাল আত্মসাত করে আসছেন। প্রতিবেদন হতে জানা যায় যে, চার নং মরিচা ইউনিয়নের ১,২, ৩ নং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শারমিন সুলতানা নিজ নামে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে ইস্যুকৃত ভিজিডি কার্ডের অনুকূলে চাল তুলেছেন মর্মে প্রতিবেদকের নিকট স্বীকার করেছেন। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্য তার নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ভিজিডি ও ওএমএস’র কার্ড করে সরকারি চাল নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন মর্মে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। প্রতিবেদন হতে আরো জানা যায় যে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউপি সদস্যরা জানিয়েছেন যে, নিয়ম অনিয়ম যা কিছু হোক না কেন তা ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজশেই হয়ে থাকে। ইহা একটি ফৌজদারী অপরাধ। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আগামী ২৪ জুন ২০২০ ইং তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, দৌলতপুর থানাকে নির্দেশ দেওয়া হলো।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ













