০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

রোজা রেখে প্রচন্ড রোদে কৃষকের জমির পাকা ধান কাটলো নরসিংদী জেলা পুলিশ!

নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, করোনা ভাইরাসের  ভয়াবহ সংক্রমণের বিস্তার রোধের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশ এখন দরিদ্র অসহায় মানুষদের পাশে দাড়িয়েছে। খাদ্য হীনদের খাদ্য, বস্ত্র হীনদের বস্ত্র, করোনা আক্রান্ত রোগী ও লাশের দাফন ও পুলিশই করতেছে।

এমনই মহত কাজের জন্য পুলিশ আজ সর্বত্র প্রশংসনীয়।
০৫ মে, বুধবার সকালে নরসিংদী ভাটপারার অসহায় এক কৃষক কফিলউদ্দিন লকডাউন ও কৃষি শ্রমিক সংকট এবং টাকার অভাবে যখন জমির পাকা ধান কাটা নিয়ে চিন্তিত তখন পাশে দাড়ালো নরসিংদী জেলা পুলিশ। রোজা রেখে প্রচন্ড রোদে ৭৫ শতাং জমির পাকা ধান কেটে  মাড়াই করে বাড়িতে পৌঁছে   দিয়েছে পুলিশ।
নরসিংদী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল শাহেদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও নরসিংদী পুলিশ সুপার জনাব প্রলয় কুমার জোয়ার্দার স্যারের নির্দেশ ক্রমে বাংলাদেশ পুলিশ ও নরসিংদী জেলা পুলিশ লকডাউন এর কারণে যেখানে শ্রমিক সংকট এবং দরিদ্র কৃষক ধান কাটতে পারে না আমরা তাদের ধান কেটে মাড়াই করে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছি আনন্দের সহিত। আমাদের এ কাজ অব্যাহত থাকবে।
মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু তাহের দেওয়ান বলেন,  পাঁচদোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান আমাকে মোবাইলে দরিদ্র কৃষক কফিলউদ্দিন এর বিষয়টি জানালে আমি আমার সঙ্গীয় ফোর্সদের নিয়ে জমিতে ধান কাটি। আমাকে সহযোগিতা করেছেন, আলফা টু স্যার, সদর সার্কেল স্যার এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান ও তার লোক জন। আমরা অসহায় কৃষকদের পাশে থাকবো।
পাঁচদোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ভাটপারার কৃষক কফিলউদ্দিন আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি বিষয়টি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা আনন্দের সাথে তার ধান কেটে দেয়। আমি অভিভূত পুলিশের এমন মানবিক কাজের জন্য। তাদের কে সহযোগিতা করতে আমি নিজে আমার লোকজন নিয়ে ধান কাটায় অংশগ্রহণ করি। এভাবেই সবার উচিত কৃষকদের পাশে দাড়ানো। আমার পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার সহ সকল পুলিশের প্রতি শ্রদ্ধা রইলো। সত্যিই বাংলাদেশ পুলিশ জনতার সেবক।
দরিদ্র কৃষক কফিলউদ্দিন এর স্ত্রী শামসিয়া বলেন, আমরা গরীব মানুষ, হাতে টাকা নাই, ধান পেকে পড়ে যাচ্ছে। চেয়ারম্যান কে জানালে তিনি পুলিশ নিয়ে আমার ধান কেটে মাড়াই করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। আমি খুশি তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এখন আমার চিন্তা দূর হলো অন্তত ছেলে মেয়ে নিয়ে দুমুঠো ভাত খেতে পারবো। যারা আমার জমির ধান কাটলো তাদের জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন তাদের কে নেক হায়াৎ দেন।
স্থানীয় অধিবাসী আক্কেল আলী বলেন, পুলিশ ধান কাটবো শুনে দেখতে আসলাম। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে তারা ধান কাটলো। এমন রোদে রোজা রেখে তারা হাসি মুখে যে ভাবে ধান কাটলো আমি সত্যিই অভিভূত হলাম। দোয়া রইলো এমন পুলিশদের জন্য।
স্থানীয় জনগণ এসময় পুলিশের এমন নিঃস্বার্থ কাজের জন্য প্রশংসা করছিলো।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :

খাল খনন কর্মসূচি চালু করায় কৃষকের মুখে হাসি

রোজা রেখে প্রচন্ড রোদে কৃষকের জমির পাকা ধান কাটলো নরসিংদী জেলা পুলিশ!

প্রকাশিত : ০৪:২৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২০

নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, করোনা ভাইরাসের  ভয়াবহ সংক্রমণের বিস্তার রোধের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশ এখন দরিদ্র অসহায় মানুষদের পাশে দাড়িয়েছে। খাদ্য হীনদের খাদ্য, বস্ত্র হীনদের বস্ত্র, করোনা আক্রান্ত রোগী ও লাশের দাফন ও পুলিশই করতেছে।

এমনই মহত কাজের জন্য পুলিশ আজ সর্বত্র প্রশংসনীয়।
০৫ মে, বুধবার সকালে নরসিংদী ভাটপারার অসহায় এক কৃষক কফিলউদ্দিন লকডাউন ও কৃষি শ্রমিক সংকট এবং টাকার অভাবে যখন জমির পাকা ধান কাটা নিয়ে চিন্তিত তখন পাশে দাড়ালো নরসিংদী জেলা পুলিশ। রোজা রেখে প্রচন্ড রোদে ৭৫ শতাং জমির পাকা ধান কেটে  মাড়াই করে বাড়িতে পৌঁছে   দিয়েছে পুলিশ।
নরসিংদী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল শাহেদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও নরসিংদী পুলিশ সুপার জনাব প্রলয় কুমার জোয়ার্দার স্যারের নির্দেশ ক্রমে বাংলাদেশ পুলিশ ও নরসিংদী জেলা পুলিশ লকডাউন এর কারণে যেখানে শ্রমিক সংকট এবং দরিদ্র কৃষক ধান কাটতে পারে না আমরা তাদের ধান কেটে মাড়াই করে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছি আনন্দের সহিত। আমাদের এ কাজ অব্যাহত থাকবে।
মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু তাহের দেওয়ান বলেন,  পাঁচদোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান আমাকে মোবাইলে দরিদ্র কৃষক কফিলউদ্দিন এর বিষয়টি জানালে আমি আমার সঙ্গীয় ফোর্সদের নিয়ে জমিতে ধান কাটি। আমাকে সহযোগিতা করেছেন, আলফা টু স্যার, সদর সার্কেল স্যার এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান ও তার লোক জন। আমরা অসহায় কৃষকদের পাশে থাকবো।
পাঁচদোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ভাটপারার কৃষক কফিলউদ্দিন আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি বিষয়টি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা আনন্দের সাথে তার ধান কেটে দেয়। আমি অভিভূত পুলিশের এমন মানবিক কাজের জন্য। তাদের কে সহযোগিতা করতে আমি নিজে আমার লোকজন নিয়ে ধান কাটায় অংশগ্রহণ করি। এভাবেই সবার উচিত কৃষকদের পাশে দাড়ানো। আমার পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার সহ সকল পুলিশের প্রতি শ্রদ্ধা রইলো। সত্যিই বাংলাদেশ পুলিশ জনতার সেবক।
দরিদ্র কৃষক কফিলউদ্দিন এর স্ত্রী শামসিয়া বলেন, আমরা গরীব মানুষ, হাতে টাকা নাই, ধান পেকে পড়ে যাচ্ছে। চেয়ারম্যান কে জানালে তিনি পুলিশ নিয়ে আমার ধান কেটে মাড়াই করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। আমি খুশি তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এখন আমার চিন্তা দূর হলো অন্তত ছেলে মেয়ে নিয়ে দুমুঠো ভাত খেতে পারবো। যারা আমার জমির ধান কাটলো তাদের জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন তাদের কে নেক হায়াৎ দেন।
স্থানীয় অধিবাসী আক্কেল আলী বলেন, পুলিশ ধান কাটবো শুনে দেখতে আসলাম। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে তারা ধান কাটলো। এমন রোদে রোজা রেখে তারা হাসি মুখে যে ভাবে ধান কাটলো আমি সত্যিই অভিভূত হলাম। দোয়া রইলো এমন পুলিশদের জন্য।
স্থানীয় জনগণ এসময় পুলিশের এমন নিঃস্বার্থ কাজের জন্য প্রশংসা করছিলো।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ