১০:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

জমি কেনা বেচা নিয়ে বিরোধ মাগুরার শ্রীপুরের লাঙ্গলবাঁধ বাজারে ১৫ টি দোকান ভাঙচুর

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ বাজারে পাশ্ববর্তী ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজলার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের লোকজন একজেোট হয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বাজারের ১৫ টি দাকানঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল আট টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সেখানে শ্রীপুর ও শৈলকূপা উভয় থানার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, শ্রীপুর উপজেলাধীন ছাবিনগর গ্রামের রুবেল ও জিনারুলের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের এক দল লোক শৈলকূপা উপজেলধীন নতুনভূক্ত মালিথিয়া গ্রামের সুজন সরকারের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে অন্তসত্বা মহিলাসহ বাড়ির লোকজনকে বেদম মারধোর করে আহত করার ঘটনায় মামলা করার বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

রুবেল ও জিনারুল শ্রীপুর উপজেলার ১ নং গয়েসপুর ইউনয়নের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল হালিম মোল্ল্যার সমর্থক এবং সুজন সরকার শৈলকূপা উপজেলার ৮ নং ধলহরচন্দ্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বিশ্বাসের সমর্থক বলে জানা গেছে।

জানতে চাওয়া হলে মলিথিয়া গ্রামের সুজন সরকার গতকাল বলেন, তার মামা মনিমোহন সরকার ৭/৮ মাস পূর্বে একই গ্রামের আব্দুর ওহাবের নিকট ৩ শতাংশ জমি বিক্রি করেছিল। পরে রুবেল ও জিনারুল সেখান থেকে আরো ৫ শতাংশ জমি আব্দুল ওহাবের নিকট বিক্রি করার জন্য মনিমোহন সরকারকে চাপ দেয়। কিন্তু মনিমোহন বিশ্বাস তাতে রাজি না হওয়ায় গত সোববার বিকেলে রুবেল ও জিনারুল মনিমোহনকে মারধর করে।খবর পেয়ে সুজন সরকার লোকজন নিয়ে তাদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের নিকট যাবার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় রুবেল ও জিনারুলের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একদল লোক সুজনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সুজনের অন্ত:সত্বা স্ত্রী সাথী সরকার সহ বাড়ির লোকজনকে বেদম মারধর করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা সুজনের মটর সাইকেল ভাংচুর এবং  তার গরু বিক্রি করা ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেছেন। এঘটনায় গত সোমবার রাতেই শৈলকূপা থানায় সুজন বাদি হয়ে একটি মামলা করেন।মূলত: এ মামলা করা নিয়েই বিরোধী পক্ষ ক্ষেপে যায়।

এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শৈলকূপা থানাধীন লাঙ্গলবাঁধ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ(আইসি)এস.আই অমিত কুমার দাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রুবেল ও জিনারুলের নেতৃত্বেই সুজন সরকারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মহিলা সহ বাড়ির লোকজনকে মারধর করা হয়েছে।

এরপর গত মঙ্গলবার সকাল আটটা দিকে ধলহরচন্দ্র ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় ৪/৫ শত লোক  একজোট হয়ে লাঙ্গলবাঁধ বাজারে গয়েসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মোল্ল্যার অফিস ঘর  সহ বাজারের ১৫ টি দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে বলে ভূক্তভোগীরা দাবি করেছেন।ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস দাবি করে বলেন, তার দোকান থেকে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ধলহরচন্দ্র ইউনয়নের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বিশ্বাসের লোকজন এই হামলা ও লুটপাট করেছে।

এই ঘটনায় উভয় চেয়ারম্যান পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।ধলহরচন্দ্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বিশ্বাস মুঠোফোনে এ প্রেতিবেদককে বলেন, হালিম চেয়ারম্যানের ১৫/২০ জনের গুন্ডা বাহিনী গত সোমবার সন্ধ্যায় আমার ইউনিয়নের নতুনভূক্ত মালিথিয়া গ্রামের সুজন সরকারের বাড়িতে হামিলা চালিয়ে মারধর ও লুপপাট করার পরে গত মঙ্গলবার সকালে তারা আবার আমার এলাকায় হামলা চালনোর জন্য আসার খবরে আমার এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের মোকাবিলা  করে। এ সময় কিছু ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে গয়েসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল হালিম মোল্র্যা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে প্রশাসনের নির্দেশে লাঙ্গলবাঁধ বাজারে আমার ছেলেপেলে চেকপোষ্ট বসাতে গেলে এবং বাজার পাশেই নদীর ঘাটে লোক পারাপার বন্ধ করতে গেলে মতিয়ার চেয়ারম্যোনরে লোকজন তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে বিরোধের কারণে গতকাল মঙ্গলবার মতিয়ার চেয়ারম্যানের কয়েকশত লোক একজোট হয়ে বাজারে আমার অফিস সহ প্রায় ১৫ টি দোকোনে হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।

শ্রীপুর থানার ওসি মো: মাহাবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে লাঙ্গলবাঁধ  বাজার উভয় থানা পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। শৈলকূপা থানার ওসি বজলুর রহমান বলেন, পুনরায় যাতে কোন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :

খাল খনন কর্মসূচি চালু করায় কৃষকের মুখে হাসি

জমি কেনা বেচা নিয়ে বিরোধ মাগুরার শ্রীপুরের লাঙ্গলবাঁধ বাজারে ১৫ টি দোকান ভাঙচুর

প্রকাশিত : ১২:২৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২০

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ বাজারে পাশ্ববর্তী ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজলার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের লোকজন একজেোট হয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বাজারের ১৫ টি দাকানঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল আট টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সেখানে শ্রীপুর ও শৈলকূপা উভয় থানার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, শ্রীপুর উপজেলাধীন ছাবিনগর গ্রামের রুবেল ও জিনারুলের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের এক দল লোক শৈলকূপা উপজেলধীন নতুনভূক্ত মালিথিয়া গ্রামের সুজন সরকারের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে অন্তসত্বা মহিলাসহ বাড়ির লোকজনকে বেদম মারধোর করে আহত করার ঘটনায় মামলা করার বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

রুবেল ও জিনারুল শ্রীপুর উপজেলার ১ নং গয়েসপুর ইউনয়নের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল হালিম মোল্ল্যার সমর্থক এবং সুজন সরকার শৈলকূপা উপজেলার ৮ নং ধলহরচন্দ্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বিশ্বাসের সমর্থক বলে জানা গেছে।

জানতে চাওয়া হলে মলিথিয়া গ্রামের সুজন সরকার গতকাল বলেন, তার মামা মনিমোহন সরকার ৭/৮ মাস পূর্বে একই গ্রামের আব্দুর ওহাবের নিকট ৩ শতাংশ জমি বিক্রি করেছিল। পরে রুবেল ও জিনারুল সেখান থেকে আরো ৫ শতাংশ জমি আব্দুল ওহাবের নিকট বিক্রি করার জন্য মনিমোহন সরকারকে চাপ দেয়। কিন্তু মনিমোহন বিশ্বাস তাতে রাজি না হওয়ায় গত সোববার বিকেলে রুবেল ও জিনারুল মনিমোহনকে মারধর করে।খবর পেয়ে সুজন সরকার লোকজন নিয়ে তাদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের নিকট যাবার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় রুবেল ও জিনারুলের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একদল লোক সুজনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সুজনের অন্ত:সত্বা স্ত্রী সাথী সরকার সহ বাড়ির লোকজনকে বেদম মারধর করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা সুজনের মটর সাইকেল ভাংচুর এবং  তার গরু বিক্রি করা ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেছেন। এঘটনায় গত সোমবার রাতেই শৈলকূপা থানায় সুজন বাদি হয়ে একটি মামলা করেন।মূলত: এ মামলা করা নিয়েই বিরোধী পক্ষ ক্ষেপে যায়।

এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শৈলকূপা থানাধীন লাঙ্গলবাঁধ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ(আইসি)এস.আই অমিত কুমার দাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রুবেল ও জিনারুলের নেতৃত্বেই সুজন সরকারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মহিলা সহ বাড়ির লোকজনকে মারধর করা হয়েছে।

এরপর গত মঙ্গলবার সকাল আটটা দিকে ধলহরচন্দ্র ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় ৪/৫ শত লোক  একজোট হয়ে লাঙ্গলবাঁধ বাজারে গয়েসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মোল্ল্যার অফিস ঘর  সহ বাজারের ১৫ টি দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে বলে ভূক্তভোগীরা দাবি করেছেন।ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস দাবি করে বলেন, তার দোকান থেকে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ধলহরচন্দ্র ইউনয়নের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বিশ্বাসের লোকজন এই হামলা ও লুটপাট করেছে।

এই ঘটনায় উভয় চেয়ারম্যান পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।ধলহরচন্দ্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বিশ্বাস মুঠোফোনে এ প্রেতিবেদককে বলেন, হালিম চেয়ারম্যানের ১৫/২০ জনের গুন্ডা বাহিনী গত সোমবার সন্ধ্যায় আমার ইউনিয়নের নতুনভূক্ত মালিথিয়া গ্রামের সুজন সরকারের বাড়িতে হামিলা চালিয়ে মারধর ও লুপপাট করার পরে গত মঙ্গলবার সকালে তারা আবার আমার এলাকায় হামলা চালনোর জন্য আসার খবরে আমার এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের মোকাবিলা  করে। এ সময় কিছু ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে গয়েসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল হালিম মোল্র্যা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে প্রশাসনের নির্দেশে লাঙ্গলবাঁধ বাজারে আমার ছেলেপেলে চেকপোষ্ট বসাতে গেলে এবং বাজার পাশেই নদীর ঘাটে লোক পারাপার বন্ধ করতে গেলে মতিয়ার চেয়ারম্যোনরে লোকজন তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে বিরোধের কারণে গতকাল মঙ্গলবার মতিয়ার চেয়ারম্যানের কয়েকশত লোক একজোট হয়ে বাজারে আমার অফিস সহ প্রায় ১৫ টি দোকোনে হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।

শ্রীপুর থানার ওসি মো: মাহাবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে লাঙ্গলবাঁধ  বাজার উভয় থানা পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। শৈলকূপা থানার ওসি বজলুর রহমান বলেন, পুনরায় যাতে কোন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ