১২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

গাংনীর তেরাইল গ্রামের প্রতিটি বাড়ির পতিত জমিতেই রঙিন সব্জী আর ফলের বাগান

কলেজ ছাত্রী মিম বা পিংকি নয়, গৃহবধু মিনুয়ারা, শিউলি খাতুন বা সাবিনা ইয়াসমীন নয় এখন গ্রামের প্রায় ১৮০ জন নারী বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা জমিতে গড়ে তুলেছেন নানা ধরনের রঙিন সব্জী ও ভিটামীনযুক্ত ফলের বাগান।

তেরাইল কুঠিপাড়া এলাকার প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে এখন গড়ে উঠেছে সব্জী ও ভিটামিন সি যুক্ত ফলের বাগান।
প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়েই গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের তেরাইল কুঠিপাড়া এলাকার নারীরা এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
কলেজ ছাত্রী মিম, পিংকি ও শিলা খাতুন জানান, আমাদের গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কিছু পতিত জমি থাকে। টিউবওয়েলের পাশে বা বাড়ির ওঠানেই পড়ে থাকে সেসব জমি। জমিগুলো সব সময় অকেজো হয়েই পড়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি ঘোষণা দেন এক ইঞ্চি জমিও যেনো পড়ে না থাকে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সে ঘোষণা আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমরা এলাকার কয়েকজন ছাত্রী ও সচেতন গৃহবধু মিলে স্থানীয় কৃষি অফিসের সহায়তায় নারী কৃষি ক্লাব গড়ে তুলি। আর এই কৃষি ক্লাবের মাধ্যমে এলাকার প্রায় ১৮০ জন নারীকে উদ্¦ুদ্ধ করি। তারা সবাই আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা জমিগুলোতে জৈবিক দমন পদ্ধতিতে বিষমুক্ত নানা ধরনের রঙিন সব্জী যেমন লাউ, করলা, শসা, লাল শাক, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, ভিটামিন সি যুক্ত, বাতাবি লেবু, কমলাসহ নানা ধরনের ফলের বাগান গড়ে তুলেছি।
গাংনী উপাজেলা কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেছেন, এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে এলাকার ১৮০ জন নারী প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে সব্জী এবং ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। আমাদের এই ৪০ হেক্টর জমি বরাবরই পড়ে থাকতো। নারীরা তাদের বসত বাড়ির আঙিনায় সব্জী ও ফলের বাগান তৈরীর ফলে জমিগুলো যেমন ব্যবহারের আওতায় এসেছে, তেমনি এসব পরিবারগুলো বিষমুক্ত সব্জী ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ভিটামিন সি যুক্ত ফল পাচ্ছেন। এই প্রকল্পের কাজ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে এক ইঞ্চি জমিও আর পতিত থাকবেনা বলে আশা করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১২ টার সময় তেরাইল কুঠিপাড়া এলাকার নারী চাষীদের নিয়ে এক করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতি ইঞ্চি মাটির ব্যবহার শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর-২ ( গাংনী) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি পতœী ও এলাকার একজন নারী কৃষক লাইলা আরজুমান শিলা, আওয়ামীলীগের বিশিষ্ট নেতা মনিরুজ্জামান আতু। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, নারী কৃষক সাবিনা ইয়াসিন, পিংকি খাতুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেছেন, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটির সদ্য ব্যবহার করতে। প্রধান মন্ত্রীর সেই ঘোষণায় আজ আমাদের নারী সমাজ এগিয়ে এসেছেন। এতেই প্রমানিত হয় দেশ আজ জেগেছে। এগিয়ে যাবে দূর্বার গতিতে। তিনি বলেন, বিশ্বে আজ করোনা ভাইরার্সে মহামারী আকারে ধারণ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এই মহামারীতে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। প্রদান মন্ত্রী ও সরকার এসব মানুষের পাশে এশে দাড়িয়েছে। বর্তমান সরকার শুধু আওয়ামীলীগের সরকার নয়। এটি জনগনের সরকার। তাই জনগনের উন্নয়ের সব ধরনের ব্যবস্থা জননেত্রী শেখ হাসিনা গ্রহণ করেছেন। দলীয় চিন্তা চেতনায় নয়, সকল দল মতের উর্দ্ধে থেকে আসহায় মানুষের কল্যাণে বর্তমান সরকার কাজ করছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :

গাংনীর তেরাইল গ্রামের প্রতিটি বাড়ির পতিত জমিতেই রঙিন সব্জী আর ফলের বাগান

প্রকাশিত : ০৩:৫২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২০

কলেজ ছাত্রী মিম বা পিংকি নয়, গৃহবধু মিনুয়ারা, শিউলি খাতুন বা সাবিনা ইয়াসমীন নয় এখন গ্রামের প্রায় ১৮০ জন নারী বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা জমিতে গড়ে তুলেছেন নানা ধরনের রঙিন সব্জী ও ভিটামীনযুক্ত ফলের বাগান।

তেরাইল কুঠিপাড়া এলাকার প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে এখন গড়ে উঠেছে সব্জী ও ভিটামিন সি যুক্ত ফলের বাগান।
প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়েই গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের তেরাইল কুঠিপাড়া এলাকার নারীরা এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
কলেজ ছাত্রী মিম, পিংকি ও শিলা খাতুন জানান, আমাদের গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কিছু পতিত জমি থাকে। টিউবওয়েলের পাশে বা বাড়ির ওঠানেই পড়ে থাকে সেসব জমি। জমিগুলো সব সময় অকেজো হয়েই পড়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি ঘোষণা দেন এক ইঞ্চি জমিও যেনো পড়ে না থাকে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সে ঘোষণা আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমরা এলাকার কয়েকজন ছাত্রী ও সচেতন গৃহবধু মিলে স্থানীয় কৃষি অফিসের সহায়তায় নারী কৃষি ক্লাব গড়ে তুলি। আর এই কৃষি ক্লাবের মাধ্যমে এলাকার প্রায় ১৮০ জন নারীকে উদ্¦ুদ্ধ করি। তারা সবাই আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা জমিগুলোতে জৈবিক দমন পদ্ধতিতে বিষমুক্ত নানা ধরনের রঙিন সব্জী যেমন লাউ, করলা, শসা, লাল শাক, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, ভিটামিন সি যুক্ত, বাতাবি লেবু, কমলাসহ নানা ধরনের ফলের বাগান গড়ে তুলেছি।
গাংনী উপাজেলা কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেছেন, এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে এলাকার ১৮০ জন নারী প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে সব্জী এবং ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। আমাদের এই ৪০ হেক্টর জমি বরাবরই পড়ে থাকতো। নারীরা তাদের বসত বাড়ির আঙিনায় সব্জী ও ফলের বাগান তৈরীর ফলে জমিগুলো যেমন ব্যবহারের আওতায় এসেছে, তেমনি এসব পরিবারগুলো বিষমুক্ত সব্জী ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ভিটামিন সি যুক্ত ফল পাচ্ছেন। এই প্রকল্পের কাজ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে এক ইঞ্চি জমিও আর পতিত থাকবেনা বলে আশা করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১২ টার সময় তেরাইল কুঠিপাড়া এলাকার নারী চাষীদের নিয়ে এক করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতি ইঞ্চি মাটির ব্যবহার শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর-২ ( গাংনী) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি পতœী ও এলাকার একজন নারী কৃষক লাইলা আরজুমান শিলা, আওয়ামীলীগের বিশিষ্ট নেতা মনিরুজ্জামান আতু। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, নারী কৃষক সাবিনা ইয়াসিন, পিংকি খাতুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেছেন, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটির সদ্য ব্যবহার করতে। প্রধান মন্ত্রীর সেই ঘোষণায় আজ আমাদের নারী সমাজ এগিয়ে এসেছেন। এতেই প্রমানিত হয় দেশ আজ জেগেছে। এগিয়ে যাবে দূর্বার গতিতে। তিনি বলেন, বিশ্বে আজ করোনা ভাইরার্সে মহামারী আকারে ধারণ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এই মহামারীতে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। প্রদান মন্ত্রী ও সরকার এসব মানুষের পাশে এশে দাড়িয়েছে। বর্তমান সরকার শুধু আওয়ামীলীগের সরকার নয়। এটি জনগনের সরকার। তাই জনগনের উন্নয়ের সব ধরনের ব্যবস্থা জননেত্রী শেখ হাসিনা গ্রহণ করেছেন। দলীয় চিন্তা চেতনায় নয়, সকল দল মতের উর্দ্ধে থেকে আসহায় মানুষের কল্যাণে বর্তমান সরকার কাজ করছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ