০৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে খাদ্যবান্ধব চাল আত্মসাতের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তিন বছরের অধিক সময় ধরে চারজন অসহায় ও দুস্থদের নামে বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি (১০ টাকা দরে ৩০ কেজি চাল) উত্তোলন হলেও ভুক্তভোগী পাননি তাদের নামে বরাদ্দকৃত চাল। ভুক্তভুগিদের লিখিত এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শুক্রবার তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট্য তদন্তকমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ফলাফল জানানো হবে।
ঘটনাটি ঘটেছে কুমারখালী উপজেলার যদুবয়বা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে । আর চাল আত্মসাৎ এর এমন অভিযোগ উঠেছে চালের ডিলার ও কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আকাশ রেজার বিরুদ্ধে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শরিফুল আলম, সচিব মোঃ হাফিজুর রহমান ও ২নং ওয়ার্ড সদস্য মতিয়ার রহমানের যোগসাজশে এমন অনিয়ম হতে পারে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা হলেন- মানিক সেখ (কার্ড নং-১২০),মন্টু হোসেন (কার্ড নং ১৩৭),সহিদুল ইসলাম(কার্ড নং ১৮১) ও রুস্তম আলী (কার্ড নং ১৮৮)এবিষয়ে গত ৫ মে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৬ সালে যদুবয়বা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য বান্ধব (১০ টাকা দরে ৩০ কেজি চাল) কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়, কিন্তু কোনদিনই তারা উক্ত সুবিধা ভোগ করতে পারেনি। এবিষয়ে ভুক্তভোগী সহিদুল জানান, কার্ড করার জন্য প্রায় ৩ বছর আগে আইডি কার্ড নিয়েছিল মতিয়ার মেম্বর। তিনি আরো জানান, করোনা কাজ না থাকায় সাহায্যের জন্য আবার আইডি কার্ড জমা দিলে মেম্বর বললেন আমার ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড আছে। এই মাসে চাল আসলে তুলে দিবনে। মানিক জানান, আমার নামের কার্ড হয়ছিল। এক খোলা চাল তুলার পর মতিয়ার মেম্বর কলো কার্ড যাচাই বাছাই করতি হবি। তাই বলে মেম্বর কার্ড নিয়ে যায় কিন্তু আর দেয়নি।পরে চাল আনতে গেলে ডিলার আকাশ কলো নাম নাই।এবিষয়ে ২ নং ওয়ার্ড মেম্বর মতিয়ার জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে কার্ড গুলো যাচাইবাছাই করার জন্য সচিবের কাছে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে আকাশ, চেয়ারম্যান আর সচিব মিলে কি করেছে আমি জানিনা।পরিষদের সচিব ও চাল বিতরণের ট্যাগ অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান জানান,সব কার্ড গুলো ২ নং ওয়ার্ড মেম্বর মতিয়ার কে বুঝে দেওয়া হয়েছিল। যদি অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে মেম্বরই করেছে। যদুবয়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শরিফুল আলম জানান, অনেক গুলো কার্ড রয়েছে। ক্ষতিয়ে দেখতে হবে কে পায়নি আর কে পেয়েছে। এবিষয়ে চালের ডিলার ও জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আকাশ রেজা বলেন, আমি সব সময় ট্যাগ অফিসার হাফিজের মাধ্যমে চাল দিই। ফুড অফিসারের সাথে নিয়মিত কথা হয়। যারা চাল পায়নি তারা হয়তো কার্ড হারিয়ে ফেলেছে অথবা তাদের আত্মীয় স্বজন চাল নিয়ে যায়। তিনি আরো জানান,অবশিষ্ট চাল খাদ্য গুদামে ফেরত দিয়েছি এবার। বিগত তিন বছরের চাল কি করলেন? এমন প্রশ্ন করতেই বিষয়টি এড়িয়ে যান আকাশ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান জানান, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত স্বাপক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :

কক্সবাজারে ঝড় ও ভারি বর্ষণে কয়েক হাজার একর লবনের মাঠ ধ্বংস

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে খাদ্যবান্ধব চাল আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত : ০২:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২০

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তিন বছরের অধিক সময় ধরে চারজন অসহায় ও দুস্থদের নামে বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি (১০ টাকা দরে ৩০ কেজি চাল) উত্তোলন হলেও ভুক্তভোগী পাননি তাদের নামে বরাদ্দকৃত চাল। ভুক্তভুগিদের লিখিত এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শুক্রবার তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট্য তদন্তকমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ফলাফল জানানো হবে।
ঘটনাটি ঘটেছে কুমারখালী উপজেলার যদুবয়বা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে । আর চাল আত্মসাৎ এর এমন অভিযোগ উঠেছে চালের ডিলার ও কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আকাশ রেজার বিরুদ্ধে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শরিফুল আলম, সচিব মোঃ হাফিজুর রহমান ও ২নং ওয়ার্ড সদস্য মতিয়ার রহমানের যোগসাজশে এমন অনিয়ম হতে পারে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা হলেন- মানিক সেখ (কার্ড নং-১২০),মন্টু হোসেন (কার্ড নং ১৩৭),সহিদুল ইসলাম(কার্ড নং ১৮১) ও রুস্তম আলী (কার্ড নং ১৮৮)এবিষয়ে গত ৫ মে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৬ সালে যদুবয়বা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য বান্ধব (১০ টাকা দরে ৩০ কেজি চাল) কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়, কিন্তু কোনদিনই তারা উক্ত সুবিধা ভোগ করতে পারেনি। এবিষয়ে ভুক্তভোগী সহিদুল জানান, কার্ড করার জন্য প্রায় ৩ বছর আগে আইডি কার্ড নিয়েছিল মতিয়ার মেম্বর। তিনি আরো জানান, করোনা কাজ না থাকায় সাহায্যের জন্য আবার আইডি কার্ড জমা দিলে মেম্বর বললেন আমার ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড আছে। এই মাসে চাল আসলে তুলে দিবনে। মানিক জানান, আমার নামের কার্ড হয়ছিল। এক খোলা চাল তুলার পর মতিয়ার মেম্বর কলো কার্ড যাচাই বাছাই করতি হবি। তাই বলে মেম্বর কার্ড নিয়ে যায় কিন্তু আর দেয়নি।পরে চাল আনতে গেলে ডিলার আকাশ কলো নাম নাই।এবিষয়ে ২ নং ওয়ার্ড মেম্বর মতিয়ার জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে কার্ড গুলো যাচাইবাছাই করার জন্য সচিবের কাছে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে আকাশ, চেয়ারম্যান আর সচিব মিলে কি করেছে আমি জানিনা।পরিষদের সচিব ও চাল বিতরণের ট্যাগ অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান জানান,সব কার্ড গুলো ২ নং ওয়ার্ড মেম্বর মতিয়ার কে বুঝে দেওয়া হয়েছিল। যদি অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে মেম্বরই করেছে। যদুবয়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শরিফুল আলম জানান, অনেক গুলো কার্ড রয়েছে। ক্ষতিয়ে দেখতে হবে কে পায়নি আর কে পেয়েছে। এবিষয়ে চালের ডিলার ও জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আকাশ রেজা বলেন, আমি সব সময় ট্যাগ অফিসার হাফিজের মাধ্যমে চাল দিই। ফুড অফিসারের সাথে নিয়মিত কথা হয়। যারা চাল পায়নি তারা হয়তো কার্ড হারিয়ে ফেলেছে অথবা তাদের আত্মীয় স্বজন চাল নিয়ে যায়। তিনি আরো জানান,অবশিষ্ট চাল খাদ্য গুদামে ফেরত দিয়েছি এবার। বিগত তিন বছরের চাল কি করলেন? এমন প্রশ্ন করতেই বিষয়টি এড়িয়ে যান আকাশ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান জানান, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত স্বাপক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ