নওগাঁয় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে বিএনপি নেতাকর্মী ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের উপর চড়াও হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গাড়ী ও দোকানপাট ভাংচুর শুরু করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে বিএনপির একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনায় ৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনারপর বিএনপির তিনজন নেতাকর্মীকে আটক করছে পুলিশ। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে সদর ওসি জানান।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নওগাঁ কেডির মোড়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পরে নওগাঁ পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে।
জানা গেছে, সারাদেশে মানুষ হত্যা, খুন-গুমের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নওগাঁ জেলা বিএনপির আয়োজনে দলীয় কর্যালয়ের সামনে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। ওই সময় উপস্থিত কিছু পুলিশ সদস্য তাদের মিছিলে বাঁধা প্রদান করে এবং দলীয় কার্যালয় থেকে চলে যেতে বলেন। এতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এসময় দফায় দফায় পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘটিত হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকানপাট ও গাড়ী ভাংচুর করে বিএনপি নেতাকর্মীরা।
জেলা যুবদলের সভাপতি বায়োজিদ হোসেন পলাশ জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নওগাঁয় দলীয় কর্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাঁধা প্রদান করে ও নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়, এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং অন্তত ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় জড়িত থাকায় ঘটনারপর তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রকিবুল আক্তার জানান, বিএনপির নেতা কর্মীরা কোন রকম উষ্কানি ছাড়াই অতর্কিত ভাবে পুলিশের উপর হামলা চালায় এঘটনায় অন্তত ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এই নাশকতার সাথে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ












