কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টানা ৯ ঘন্টা অভিযান চালিয়েছে । এসময় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে নগদ ৬ লাখ ৪২ হাজার ১’ শ টাকা উদ্ধার করা
হয়েছে। অভিযান চলাকালে শ্যামল বড়ুয়া নামের একজন অফিস সহকারী বাউন্ডারি টপকে পালিয়ে যায় । আটক করা হয় সাব-রেজিস্ট্রার মো: নাহিদুজ্জামান(৩১) ও মোহরার দুর্জয় কান্তি পালকে(৩৮)। আটক ও পলাতক তিনজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে। এই তিনজনের নিয়ন্ত্রণ থেকে ঘুষের টাকাগুলো পাওয়া গেছে বলে
মামলার এজাহারে দাবী করা হয়।
আটক সাব-রেজিস্ট্রার নাহিদুজ্জামান নাটোর জেলার গুরুদাশপুর থানার উত্তর নাড়িবাড়ির , মোহরার দুর্জয় কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ও পলাতক অফিস সহকারী শ্যামল কক্সবাজার পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬ টা থেকে শুক্রবার(২ এপ্রিল) ভোররাত ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার মোঃ তানভীর হোসেনকে সাথে নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের বাসাতেও
তল্লাশী চালানো হয়। তবে বাসাতে আমলে নেয়ার মতো কিছু পাওয়া যায়নি। দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদক কতৃক আদালতে দেয়া আসামী প্রেরণের ফরোয়ার্ডিং পত্রে উল্লেখ করা হয়, সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ ৪২ হাজার ১০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাব রেজিস্ট্রার নাহিদুজ্জামানের ব্যবহৃত স্টিলের লকার থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৫০ টাকা, অফিস মোহরার দুর্জয় কান্তি পালের ড্রয়ার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও শ্যামল বড়ুয়ার ড্রয়ার থেকে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৫০ টাকা জব্দ করা হয়। এসব টাকা বৃহস্পতিবার জমি রেজিস্ট্রির সময় অবৈধ লেনদেন হয়েছে। এসব টাকার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তাঁরা।
অভিযানের সময় কৌশলে পালিয়ে গেছেন অফিস সহকারী শ্যামল বড়ুয়া। অন্য দুজনকে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই তিনটি ড্রয়ার থেকে ঘুষ লেনদেনের হাতের লেখা ৪১টি
স্লিপ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। ওই স্লিপে বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঘুষ লেনদেনের প্রমাণ রয়েছে।
দুদকের অভিযান সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বেশ
কিছুদিন ধরে জমির দলিল সম্পাদনের সময় ঘুষের লেনদেন নিয়ে বেশকিছু অভিযোগ
আসে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয় অভিযানে নামে।
সম্প্রতি রশিদ আহমদ নামের এক ব্যক্তির দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের নাম ব্যবহার করে এক কর্মচারী ঘুষ দাবি করেন। দুদক কর্মকর্তারা ভুক্তভোগী অভিযোগকারী সেবাগ্রহীতাকে সাথে নিয়ে
সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান। পরে দুদক কর্মকর্তারা কার্যালয়টিতে ৯ ঘন্টা অভিযান চালান। এ সময় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী ও অন্যান্য সহকারীর কাছ থেকে দুদকের টিম তিনটি স্থান থেকে ৬ লাখ ৪২ হাজার
টাকা উদ্ধার করেছে।
বলাবলি হচ্ছে দুদকের অভিযান শুরু হওয়ার পর কৌশলে পালিয়ে যাওয়া শ্যামল বিপুল টাকা ও বেশ কিছু কাগজপত্র সাথে নিয়ে গেছেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ












