মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের বৈরাগীর বাজার পেরি ফেরি করার নামে দোকানদার নিকট থেকে একটি চক্র লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে । দোকানীরা জানায় রাজৈর এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ মহিউদ্দিন এবং ইউনিয়ন উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা / তহসিলদার এস এম মনিরুজ্জামানের নির্দেশে বাজার কমিটির সভাপতি কবির আলম এই টাকা উত্তোলন করছে।
সরেজমিন বৈরাগীর বাজার ঘুরে দোকানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে শতাধিক দোকান রয়েছে। অর্ধ শতাংশ জায়গার উপর নির্মত প্রতিটি দোকানের জন্য দিতে বাধ্য করা হচ্ছে ২ হাজার ৫শত টাকা। ১ শতাংশের উপর নির্মিত দোকানের জন্য দিতে হচ্ছে ৫ হাজার টাকা। এটা জুলুম ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য তহসিলদারের নিকট গেলে তিনি সার্ভেয়ার ও কর্তৃপক্ষের অযুহাত দিয়ে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপরই সভাপতির সাথে কথা হল। সভাপতির সাথে কথা শেষ করে বাইরে বের হয়েই দেখা গেল তহসিলদার অফিস ছেড়ে বাইরে বেড়িয়ে নির্জনে মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে দোকানীদের থেকে উত্তোলনকৃত টাকা হাতে নিয়ে সভাপতি সেখানে গিয়ে হাজির হলেন। দুজনের মধ্যে কথোপথনের পর দেখা গেল সভাপতি টাকা নিয়ে ফিরে এলেন।
বৈরাগী বাজারের দোকানী আশরাফ হাওলাদার জানান, বাজার কমিটির সভাপতি আমার নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে। আমাদের আরেকটি দোকান আছে ষেখান থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে। মাহাবুব মাতুব্বর জানান, আমি ভাড়া ঘরে থাকি। আমার টাকা দিতে হবে না। তবে সভাপতি সব দোকানে বলে গেছে ২ হাজার ৫ শত করে টাকা দেওয়ার জন্য। এই টাকাটা তহসিল অফিসে জমা দিতে হবে। তারা মিয়া শেখ জানান, সভাপতি কবির ডাক্তার, তহসিলদার এবং উপরের ১ জন আমাদের দোকানে গিয়ে ২ হাজার ৫ শত টাকা দিতে বলেছে। আমি এখনও দেয় নি। টুটুল বিশ্বাস জানান, আমার ১ শতাংশ জায়গার উপর ১টি ঘর আছে (ঘরটিতে ৩ রুম করা)। এইজন্য আমাকে ৭ হাজার ৫ শত টাকা দিতে বলেছে।
বাজার কমিটির সভাপতি কবির আলম জানান,তহসিলদারের নির্দেশে আমি দোকানীদের নিকট থেকে এই টাকা গুলি উত্তোলন করছি। আমার কোন লাভ নেই। আমি টাকাগুলি উত্তোলন করে তহসিলদারের নিকট জমা দিয়ে দেব। এই টাকা উপরের কর্মকর্তারা ভাগ করে নিয়ে আমাদের পেরি ফেরি করে দেবে।
তহসিলদার এস এম মনিরুজ্জামান জানান, সার্ভেয়ার সাহেব এসে পেরি ফেরির নকশা করে গেছেন এবং হয়ত নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। ঐ নির্দেশনা মোতাবেক সভাপতি কি করে আমি জানিনা। এটি সম্পূর্ণ কর্তৃপক্ষের ব্যাপার।
সার্ভেয়ার মহিউদ্দিন জানান, টাকার উঠানোর ব্যপারে আমি কিছু জানিনা। দোকানে দোকানে গিয়ে নির্দেশনার দেওয়ার ব্যাপারে তিনি জানান, আমি যখন বাজারে গিয়েছিলাম অধিকাংশ দোকানদার তখন ছিলনা।
রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনিসুজ্জামান জানান, বাজার পেরি ফেরি করতে কোন টাকা লাগে না। কারা টাকা উঠাচ্ছে এটা আমার জানা নেই। তবে এ ব্যাপারে কেউ টাকা উঠালে , টাকা ফেরৎ দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ












