১০:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রপগঞ্জ দেশীয় ও আগয়াস্ত্রের ঝনঝনানি বাড়ছে!

নারায়ণগঞ্জর রপগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, আবাসনের দোড়াত্য লালিত দখল বাজদের এমনকি তুচ্ছ ঘটনার বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দিনদুপুরে দেখা যায় দেশীয় ও আগয়াস্ত্রের মহড়া। এ মহড়ায় তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্করাও প্রতিপক্ষের বাড়ি ঘরে হামলা করে ভাংচুর, লুটপাট চালায়। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক ছত্রছাঁয়ায় কতিপয় নেতা কর্মী এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীমহলও প্রকাশ্যে এমন অস্ত্রের মহড়া চালায়। এতে জননিরাপত্তাহীনতা বড়েই চলছে । এসব বিষয়ে রপগঞ্জ থানা ও আদালত মামলা হলে অভিযোগ কিংবা এজাহারে দেশীয় ও আগয়াস্ত্রের কথা উল্লেখ থাকে । কি রহস্যজনক কারন ওইসব অস্ত্র উদ্ধারে রপগঞ্জ থানা পুলিশের তৎপরতা কম থাকায় জনেমনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে
সূত্র জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে নারায়ণগঞ্জের রপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস সোবহানকে কুপিয় জখম করে তার প্রতিপক্ষরা। ১৭ এপ্রিল শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বেলদী এলাকায় ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই অভিযোগে লেখা হয়, দেশীয় অস্ত্রসহ প্রতিপক্ষের ৭/৮ জন লোক রাম দা, চাইনিজ কুড়াল নিয়ে হামলা চালায়। বাড়ি ঘর লুট করে। এ বিষয় মামলা রুজু করা হয়। কি কারনে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি।
একইভাবে ১৯ এপ্রিল ভুলতা ইউনিয়নর মাঝিপাড়া গ্রামে আমপাড়া নিয়ে দুই পরিবারের বিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শণ করে একে অপরের বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর চালায়। গ্রামবাসিদের বরাত ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নারী পুরুষ প্রায় সবার হাতে বড় রাম দা, ছুড়ি, বল্লম নিয়ে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে । তাদের হাতে থাকা অস্ত্রর সবগুলাই আইনত অপরাধ।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)‘র অধীন নির্মানাধীন পরিকল্পিত পূর্বাচল নতুন শহর ঘিরে বিগত দুই যোগ ধরে আশপাশের ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় গড়ে ওঠেছে আবাসন কোম্পানী। তারা স্থানীয়দের জমি দখলে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালীদের ব্যবহার করছেন। আর তাদের ক্ষমতার জানান দিত জমি মালিকদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করলেই দল বেধে হামলা করে বাড়ি ঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়।
সূত্র আরা জানায়, প্রভাব টিকিয়ে রাখতে উঠতি বয়সী তরুণদের হাতে দেয়া হচ্ছে ভয়ঙ্কর সব অস্ত্র। এসব অস্ত্র ব্যবহারে তরুণরাই আগ্রহী বেশি। এমন এক ঘটনায় উপজেলার দাউদপুরের খোইসার এলাকায় একটি গার্মেন্স নিয়ন্তণের চেষ্টাকারী স্থানীয় স্কুল পড়ুয়া তরুণরা আগ্রহবেশিতে দেশীয় অস্ত্র হাতে ফেসবুকে পোস্ট করে । এ নিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ কর।
বলাইখার বাসিন্দা কবি ও সাংবাদিক আলম হাসন বলেন, সারা বছর ধরেই রপগঞ্জে অতংকে বিরাজ করে । চুরি, ডাকাতি, খুনখারাবি আর অস্ত্রের ঝনঝনানির ঘটনা শুনে থাকি । হামলা সংঘর্ষের ঘটনাই বেশি। এতে আহত নিহতও বশি। যদিও এজাহারে দেশীয় অস্ত্রর কথা উল্লেখ থাকে, কি ওই অস্ত্র উদ্ধার বা জব্দ করতে দেখা যায় না। ফলে অস্ত্রগুলা ওই সন্ত্রাসীদের কব্জায়ই থাকে । যা জননিরাপত্তায় চরম ঝুঁকিপূর্ন।
এ বিষয়ে রপগঞ্জ থানা (ওসি তদন্ত) ইনচার্জ কর্মকর্তা এইচ এম জসিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগ ও এজাহারে অনেকেই লিখে অস্ত্র নিয়ে হামলা করে । ঘটনা তদন্তের পর দেখা যায় ঘরে থাকা ব্যবহৃত দা বটি, লাঠিসাটাই ই ব্যবহার হয়েছে । তবে বহু ঘটনায়ই বেআইনি অস্ত্রের ব্যবহার হয়। ওইসব অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুলিশ অভিযুক্তের বাড়ি ঘর তল্লাশি করে । তব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে জড়িতদের আইনের আঁওতায় আনা হবে ।
এরআগে ২০১৭ সালের রপগঞ্জ থেকে অস্ত্রের বিশাল মজুত উদ্ধার করে পুলিশ । ২ জুন নারায়ণগঞ্জের রপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহর থেকে মজুত করা বিপুল পরিমান আগয়াস্ত্র ও গালাবারুদ উদ্ধার করে জেলা গায়েন্দা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তালিকায় ছিল আইএসের ব্যবহৃত ৬২ টি চাইনিজ এসএমজি, ৪২ টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২ টি রকেট লাঞ্চার, ৪৯ টি রকেট লাঞ্চারর প্রজেক্ট, ৬০ টি ম্যাগাজিন, ৫ টি পিস্তল ও ২ টি নন ট্র্যাকার ওয়াকিটকিসহ বিপুল পরিমান গুলি।
সম্প্রতি কাঞ্চন পোর আওয়ামীলীগের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা করার ঘটনা সিসি টিভি ক্যামেরায় ধরা পরে । ওই বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় কাঞ্চন পৌরসভার সাধারন লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ।
এ বিষয়ে কাঞ্চন পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ক্ষমতা দাপট দেখাতে সন্ত্রাসী বাহীনি দিনে দুপুর দেশীয় ও আগয়াস্ত্রসহ হামলা করেছে আমার পৌর কার্যালয়ও । এসব সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়লেও যারা অস্ত্র প্রদর্শন করেছে তা দেখানো অস্ত্রগুলা উদ্ধার করেনি পুলিশ।
সূত্র জানায়, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া মার্কেট এলাকায় সবচেয়ে বেশি অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে । এখানে পরিবহণ ও ফুটপাত চাঁদাবাজরা তাদের দৌড়াত্য রক্ষায় ব্যবহার করে দেশীয় অস্ত্র। সামান্য কথা কাটাকাটি হলেও অস্ত্র নিয়ে হামলা করে তারা। এদের মাঝে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ এবং তাদের অস্ত্রগুলা অধরা থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সূত্র জানায়, রপগঞ্জ সরকারদলীয় গ্রুপ, মেয়র গ্রুপ, চেয়ারম্যান গ্রুপ, মেম্বার গ্রুপ, ওমক গ্রুপ, তামক গ্রুপ এমন নানা নাম নানা পরিচয় ৩ ডর্জন গ্রুপর অর্ধসহস্রাধিক সন্ত্রাসী ব্যবহার করছে আগয়াস্ত্র। শত শত ‘বধ অস্ত্রের’ ছড়াছড়ির মধ্যে ‘অবেধ অস্ত্রের’ খোজ নেই পুলিশের। আবার মিল-কারখানায় চাঁদাবাজি করতে যাওয়া, বাড়ি দখল, ছিঁচক সন্ত্রাসীদের আগয়াস্ত্র থেকেও গুলিবর্ষণর খবর পাওয়া যায় প্রায়ই।
আবার উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডটি চনপাড়া বস্তিত রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আত্মগোপনের নিরাপদ আশ্রয় বলে জানা হয়। ফলে বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে সেখানে । বেড়ে গেছে অস্ত্রের ঝনঝনানি।
এসব বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এসএসপি- গ সার্কেল রপগঞ্জ-আড়াইহাজার) আবির হাসান বলেন, এই থানায় আমি নতুন যোগ দিয়েছি। ফলে এখনো সব তথ্য জানা নেই। তবে এজাহারে উল্লেখিত অস্ত্রগুলা উদ্ধারের চেষ্টায় পুলিশ তৎপর থাকে । সন্ত্রাসীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্র সুনির্দিষ্ট তথ্যর অভাবে অনেক সময় জব্দ করা যায় না। অস্ত্র উদ্ধারে আরা তৎপর হয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রপগঞ্জ দেশীয় ও আগয়াস্ত্রের ঝনঝনানি বাড়ছে!

প্রকাশিত : ০৬:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১

নারায়ণগঞ্জর রপগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, আবাসনের দোড়াত্য লালিত দখল বাজদের এমনকি তুচ্ছ ঘটনার বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দিনদুপুরে দেখা যায় দেশীয় ও আগয়াস্ত্রের মহড়া। এ মহড়ায় তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্করাও প্রতিপক্ষের বাড়ি ঘরে হামলা করে ভাংচুর, লুটপাট চালায়। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক ছত্রছাঁয়ায় কতিপয় নেতা কর্মী এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীমহলও প্রকাশ্যে এমন অস্ত্রের মহড়া চালায়। এতে জননিরাপত্তাহীনতা বড়েই চলছে । এসব বিষয়ে রপগঞ্জ থানা ও আদালত মামলা হলে অভিযোগ কিংবা এজাহারে দেশীয় ও আগয়াস্ত্রের কথা উল্লেখ থাকে । কি রহস্যজনক কারন ওইসব অস্ত্র উদ্ধারে রপগঞ্জ থানা পুলিশের তৎপরতা কম থাকায় জনেমনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে
সূত্র জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে নারায়ণগঞ্জের রপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস সোবহানকে কুপিয় জখম করে তার প্রতিপক্ষরা। ১৭ এপ্রিল শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বেলদী এলাকায় ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই অভিযোগে লেখা হয়, দেশীয় অস্ত্রসহ প্রতিপক্ষের ৭/৮ জন লোক রাম দা, চাইনিজ কুড়াল নিয়ে হামলা চালায়। বাড়ি ঘর লুট করে। এ বিষয় মামলা রুজু করা হয়। কি কারনে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি।
একইভাবে ১৯ এপ্রিল ভুলতা ইউনিয়নর মাঝিপাড়া গ্রামে আমপাড়া নিয়ে দুই পরিবারের বিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শণ করে একে অপরের বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর চালায়। গ্রামবাসিদের বরাত ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নারী পুরুষ প্রায় সবার হাতে বড় রাম দা, ছুড়ি, বল্লম নিয়ে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে । তাদের হাতে থাকা অস্ত্রর সবগুলাই আইনত অপরাধ।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)‘র অধীন নির্মানাধীন পরিকল্পিত পূর্বাচল নতুন শহর ঘিরে বিগত দুই যোগ ধরে আশপাশের ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় গড়ে ওঠেছে আবাসন কোম্পানী। তারা স্থানীয়দের জমি দখলে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালীদের ব্যবহার করছেন। আর তাদের ক্ষমতার জানান দিত জমি মালিকদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করলেই দল বেধে হামলা করে বাড়ি ঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়।
সূত্র আরা জানায়, প্রভাব টিকিয়ে রাখতে উঠতি বয়সী তরুণদের হাতে দেয়া হচ্ছে ভয়ঙ্কর সব অস্ত্র। এসব অস্ত্র ব্যবহারে তরুণরাই আগ্রহী বেশি। এমন এক ঘটনায় উপজেলার দাউদপুরের খোইসার এলাকায় একটি গার্মেন্স নিয়ন্তণের চেষ্টাকারী স্থানীয় স্কুল পড়ুয়া তরুণরা আগ্রহবেশিতে দেশীয় অস্ত্র হাতে ফেসবুকে পোস্ট করে । এ নিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ কর।
বলাইখার বাসিন্দা কবি ও সাংবাদিক আলম হাসন বলেন, সারা বছর ধরেই রপগঞ্জে অতংকে বিরাজ করে । চুরি, ডাকাতি, খুনখারাবি আর অস্ত্রের ঝনঝনানির ঘটনা শুনে থাকি । হামলা সংঘর্ষের ঘটনাই বেশি। এতে আহত নিহতও বশি। যদিও এজাহারে দেশীয় অস্ত্রর কথা উল্লেখ থাকে, কি ওই অস্ত্র উদ্ধার বা জব্দ করতে দেখা যায় না। ফলে অস্ত্রগুলা ওই সন্ত্রাসীদের কব্জায়ই থাকে । যা জননিরাপত্তায় চরম ঝুঁকিপূর্ন।
এ বিষয়ে রপগঞ্জ থানা (ওসি তদন্ত) ইনচার্জ কর্মকর্তা এইচ এম জসিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগ ও এজাহারে অনেকেই লিখে অস্ত্র নিয়ে হামলা করে । ঘটনা তদন্তের পর দেখা যায় ঘরে থাকা ব্যবহৃত দা বটি, লাঠিসাটাই ই ব্যবহার হয়েছে । তবে বহু ঘটনায়ই বেআইনি অস্ত্রের ব্যবহার হয়। ওইসব অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুলিশ অভিযুক্তের বাড়ি ঘর তল্লাশি করে । তব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে জড়িতদের আইনের আঁওতায় আনা হবে ।
এরআগে ২০১৭ সালের রপগঞ্জ থেকে অস্ত্রের বিশাল মজুত উদ্ধার করে পুলিশ । ২ জুন নারায়ণগঞ্জের রপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহর থেকে মজুত করা বিপুল পরিমান আগয়াস্ত্র ও গালাবারুদ উদ্ধার করে জেলা গায়েন্দা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তালিকায় ছিল আইএসের ব্যবহৃত ৬২ টি চাইনিজ এসএমজি, ৪২ টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২ টি রকেট লাঞ্চার, ৪৯ টি রকেট লাঞ্চারর প্রজেক্ট, ৬০ টি ম্যাগাজিন, ৫ টি পিস্তল ও ২ টি নন ট্র্যাকার ওয়াকিটকিসহ বিপুল পরিমান গুলি।
সম্প্রতি কাঞ্চন পোর আওয়ামীলীগের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা করার ঘটনা সিসি টিভি ক্যামেরায় ধরা পরে । ওই বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় কাঞ্চন পৌরসভার সাধারন লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ।
এ বিষয়ে কাঞ্চন পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ক্ষমতা দাপট দেখাতে সন্ত্রাসী বাহীনি দিনে দুপুর দেশীয় ও আগয়াস্ত্রসহ হামলা করেছে আমার পৌর কার্যালয়ও । এসব সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়লেও যারা অস্ত্র প্রদর্শন করেছে তা দেখানো অস্ত্রগুলা উদ্ধার করেনি পুলিশ।
সূত্র জানায়, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া মার্কেট এলাকায় সবচেয়ে বেশি অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে । এখানে পরিবহণ ও ফুটপাত চাঁদাবাজরা তাদের দৌড়াত্য রক্ষায় ব্যবহার করে দেশীয় অস্ত্র। সামান্য কথা কাটাকাটি হলেও অস্ত্র নিয়ে হামলা করে তারা। এদের মাঝে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ এবং তাদের অস্ত্রগুলা অধরা থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সূত্র জানায়, রপগঞ্জ সরকারদলীয় গ্রুপ, মেয়র গ্রুপ, চেয়ারম্যান গ্রুপ, মেম্বার গ্রুপ, ওমক গ্রুপ, তামক গ্রুপ এমন নানা নাম নানা পরিচয় ৩ ডর্জন গ্রুপর অর্ধসহস্রাধিক সন্ত্রাসী ব্যবহার করছে আগয়াস্ত্র। শত শত ‘বধ অস্ত্রের’ ছড়াছড়ির মধ্যে ‘অবেধ অস্ত্রের’ খোজ নেই পুলিশের। আবার মিল-কারখানায় চাঁদাবাজি করতে যাওয়া, বাড়ি দখল, ছিঁচক সন্ত্রাসীদের আগয়াস্ত্র থেকেও গুলিবর্ষণর খবর পাওয়া যায় প্রায়ই।
আবার উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডটি চনপাড়া বস্তিত রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আত্মগোপনের নিরাপদ আশ্রয় বলে জানা হয়। ফলে বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে সেখানে । বেড়ে গেছে অস্ত্রের ঝনঝনানি।
এসব বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এসএসপি- গ সার্কেল রপগঞ্জ-আড়াইহাজার) আবির হাসান বলেন, এই থানায় আমি নতুন যোগ দিয়েছি। ফলে এখনো সব তথ্য জানা নেই। তবে এজাহারে উল্লেখিত অস্ত্রগুলা উদ্ধারের চেষ্টায় পুলিশ তৎপর থাকে । সন্ত্রাসীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্র সুনির্দিষ্ট তথ্যর অভাবে অনেক সময় জব্দ করা যায় না। অস্ত্র উদ্ধারে আরা তৎপর হয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ