বগুড়ার শেরপুরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে অবাধে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব চলছেই। এতে জমি ফসল উৎপাদনের উপযোগিতা হারানোর পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতা থাকায় কেউ মুখ খুলছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শেরপুরের খামারকান্দি ইউনিয়নের ভস্তা গ্রামের সালফা ভস্তা সড়ক সংলগ্ন বিলের কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। রাতের আধারে একটি খননযন্ত্র দিয়ে কাটা মাটিগুলো ছয়টি ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। প্রতি ট্রাকভর্তি মাটি বিক্রিয় হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। সেখানে মাটি কেনাবেচার কারবার করছেন আব্দুল আলীম ও তার লোকজন।
গাড়িদহ ও খামারকান্দি বড়বিলা সহ আশপাশের এলাকায় ওই নেতার মাধ্যমেই বর্তমানে মাটি কেনাবেচা চলছে। মাটি কাটার স্থানে প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত হওয়ার আগেই খননযন্ত্র সরিয়ে নিতে নিজস্ব লোকজন দিয়ে পাহারা বসিয়েছেন তারা। প্রশাসনের নজর এড়াতে নিকটস্থ সড়কে মাটি পরিবহনের গাড়ি চলাচল না করে দূরবর্তী এলাকা হয়ে মাটি গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, মাটিদস্যু ও তাদের সহযোগীরা ফসলি জমির ৫-৬ ফুট গর্ত করে মাটি কেটে নেন। এতে করে পাশ্ববর্তী জমিও ফসল উৎপাদনে উপযোগিতা হারিয়ে ফেলছে। পাশাপাশি ওভার লোডিং এর কারনে গ্রামীণ সড়কগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
খামারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব জানান, দিনে মাটি বিক্রি হয় না। গভীর রাতে চুরি করে কয়েকটি গাড়ি নিয়ে মাটি বিক্রি করা হয় বলে তিনি জেনেছেন।
এদিকে,উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নে, পানিসারা হিন্দুপাড়া গ্রামে শ্যাম ঠাকুর তার পুকুর সংস্কারের নামে ১২ ফিট গভীর থেকে ভিটিবালু উত্তোলন করে রাতের আধারে মাটিদস্যু ইসমাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজেক্টে বিক্রিয় করছে। অনুমোদনবিহীন পুকুর সংস্করণের নামে ভূগর্ভস্থ বালি ও মাটি পরিবহন করায় কোটি টাকা খরচে নবনির্মিত পানিসারা- তেতুলিয়া সড়ক সহ সালফা-ভস্তার পাকাসড়ক দেবে ধ্বংসের মুখে পরছে। মাটিদস্যুরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।
কুসুম্বী ইউনিয়নের একটি সিন্ডিকেট গত কয়েক দিন ধরে ধাওয়াপাড়া ও বোর্ডেরহাট এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কের ধারে পুকুর সংস্কারের নামে ১০/১২ ফিট খনন করে মাটি উত্তোলন করে বিক্রির জন্য অভারলোড করে গন্তব্যে পৌঁছনোর কারনে ওইসব এলাকায় ইতোমধ্যে কয়েকটি পাকা পুল, কালভার্ট ও সড়ক ভেঙে গেছে। পিচঢালা রাস্তাগুলো অত্যধিক চাপে ভেঙে পড়েছে। ধুলাবালু ছড়িয়ে পড়ায় সড়কগুলো পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি ও সর্বসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছারাও খামারকান্দি, গারিদহ, বিশালপুর, কুসুম্বী ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক দেবে খানাখন্দে পরিণত হচ্ছে।
এতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করলে বিগত সময়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেরপুর উপজেলার মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা অমান্য করে মাটি কেটে বিক্রয় বানিজ্য অব্যাহত রেখেছে কথিত এই প্রভাবশালীরা।
ব্যবসায়ী আব্দুল আলীমের বক্তব্যে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবৈধ মাটি খনণে নিজে জরিত নয় বলে দাবী করেন। তবে কয়েক জন প্রভাবশালী বিভিন্ন মহল ম্যানেজ করে এসব পয়েন্টে ব্যবসা পরিচালনা করেন বলে তিনি জানান।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম জানান, স্থানীয় জনগণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অবস্থায় ফসলি জমির মাটি বিক্রি করা যাবে না। যারা এ ধরনের কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ












