নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস ও নৃশংস “সুজন ফকির” হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ আব্দুল মজিদ এবং হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী মোঃ মজজেম হোসেনকে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে নাটোরের বাগাতিপাড়া থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ১১।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব ১১ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল তানভীর মাহমুদ পাশা।
(১৬ অক্টোবর) সকালে ফতুল্লা থানাধীন নয়াবাজার এলাকায় হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়। উক্ত ঘটনার খবর পাওয়ার পরই একই তারিখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সজিব ফকির (২২) নামক এক ব্যক্তি গলাকাটা ও রক্তাক্ত লাশটি দেখে লাশটি তার বাবা সুজন ফকির (৪৫) বলে শনাক্ত করেন। উক্ত ঘটনার অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকান্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
(১৮ অক্টোবর) র্যাব-১১ ও র্যাব-৫ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল নাটোরের বাগাতিপাড়ায় যৌথ অভিযান চালিয়ে সুজিন ফকির হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নাটোরের বাগাতিপাড়ার আফাজের ছেলে আব্দুল মজিদ (৩৭) ও হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী মহাকাতের ছেলে মজজেম হোসেন (২৮) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ আব্দুল মজিদের স্ত্রীর সাথে নিহত সুজন ফকিররের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। এর কারণে সমসাময়িককালে মজিদ ও তার স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় গত (৫ অক্টোব) আব্দুল মজিদের স্ত্রী কাউকে কিছু না বলে বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পর স্ত্রীকে না পেয়ে আব্দুল মজিদের মনে সন্দেহ হয় যে, তার স্ত্রী সুজন ফকিরের হেফাজতে রয়েছে। তখন থেকেই সে তার ভাতিজা মোঃ মজজেম হোসেনকে নিয়ে সুজন ফকিরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যাকান্ডের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আব্দুল মজিদ তার ভাতিজা মোঃ মজজেম হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার কথা বলে। মজজেম নাটোর থেকে নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার সময় তার খালাতো ভাই মোঃ হাসান (২২) কে সঙ্গে নিয়ে আসে। হত্যাকান্ডের আগের রাতে মজজেম ও হাসান নারায়গঞ্জে আসে এবং আব্দুল মজিদের পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ঘটনার দিন সকালে সুজন ফকিরের বর্তমান ঠিকানায় যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আব্দুল মজিদ মোবাইল ফোনে ভিকটিম সুজনকে মোঃ মজজেম এর সাথে দেখা করতে বলে। ভিকটিম সুজন ফকির মোঃ মজজেম এর সাথে দেখা করতে আসলে মোঃ মজজেম কথা আছে বলে অটোরিক্সা যোগে অন্যত্র রওনা দেয়।
যাওয়ার পথে সকালে নয়াবাজার এলাকায় চলন্ত অটোরিক্সার পিছনের সীটে বসা মজজেম সামনে বসা সুজন ফকিরের গলায় পিছন থেকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
উক্ত হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণকারী অপর সদস্য মোঃ হাসান (২২) গ্রেফতার এড়ানোর জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। তাকে গ্রেফতার করার জন্য র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানায় র্যাব।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ












