চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ওঠা-নামার কাজে নতুন চারটি ‘কী গ্র্যান্টি ক্রেন’ সংযোজন করা হচ্ছে। এরমধ্যে দুটি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন ইতোমধ্যে আনা হয়েছে, যা খুব অল্প সময়ে অপারেশনে যাবে। এছাড়া আরও দুইটি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন চলতি মাসে আনা হবে, যা অপারেশনে যাবে জুলাইয়ে। এতে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ৫টি জেটি ১৪টি কী গ্যান্ট্রি ক্রেনের মাধ্যমে ২০ শতাংশ বাড়তি কনটেইনার হ্যান্ডেল করতে সক্ষম হবে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ২০০৭ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে। যেখানে ভেড়ানো হয় চট্টগ্রাম বন্দরে আসা সবচেয়ে বড় কনটেইনার জাহাজ। এই টার্মিনালে মোট পাঁচটি জেটি রয়েছে। এরমধ্যে একটি জেটি ঢাকার পানগাঁও ইনল্যান্ড টার্মিনালের পণ্য ওঠা-নামার জন্য বরাদ্দ আছে। এই জেটিগুলো নানা জটিলতা কাটিয়ে প্রায় ১১ বছর পর অর্থাৎ ২০১৮ সালে ১০টি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হয়। এতে গতি বেড়ে ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বন্দর ৩০ লাখের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয় ‘থ্রি মিলিয়নেয়ার পোর্ট ক্লাবে’। যেখানে রয়েছে বিশ্বের সেরা ৬০টি বন্দরের নাম।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর প্রতিবছর ১৩ শতাংশ কনটেইনার ওঠা-নামার প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। নতুন জেটি টার্মিনাল না থাকায় বিদ্যমান সক্ষমতা দিয়ে নতুন কিছু কৌশল প্রয়োগ করেই প্রবৃদ্ধি সামাল দিচ্ছে দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর। তবে আগামীতে বন্দরের সক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। এখন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিটিসি) কাজ শেষের দিকে। কিছুদিনের মধ্যে টার্মিনালটি অপারেশনে যাবে। এছাড়া বে-টার্মিনালের কাজও শুরুর পথে।
বর্তমান কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন চট্টগ্রাম বন্দর আগের তুলনায় দ্রুত কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গত বুধবার-বৃহস্পতিবার) মোট হ্যান্ডেলিং করা হয়েছে ১০ হাজার ২৩২। তবে পিটিসি ও বে-টার্মিনাল ছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডেলিং বৃদ্ধি পাবে। কেননা নতুন দুইটি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন আনা হয়েছে। এ দুইটি অল্প কয়েকদিনের মধ্যে অপারেশনে যাবে। এছাড়াও আরও দুইটি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন এ মাসের শেষ দিকে আনা হবে। সেগুলো জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে অপারেশনে যাবে। নতুন চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে আরও অন্তত ২০ শতাংশ বাড়তি পণ্য ওঠা-নামা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ‘এখন আমরা একটি জাহাজে দুটি ক্রেন দিয়ে পণ্য ওঠা-নামার কাজ করছি। নতুর কী গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো যুক্ত হলে একটি জাহাজেই তিনটি ক্রেন দিয়ে পণ্য ওঠা-নামার কাজ করা যাবে। তখন বেশির ভাগ জাহাজই আমরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য ওঠা-নামার কাজ শেষ করতে পারব। এতে কম সময়ে বেশি জাহাজ থেকে পণ্য ওঠা-নামা সম্ভব হবে।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, মে মাসে আসা দুটি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন এনসিটি টার্মিনালে যুক্ত হচ্ছে। জুন মাসে আরও দুটি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন আসছে। তাই জুলাই থেকে এনসিটির কনটেইনার জেটিগুলো পরিচালিত হবে ১৪টি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ওঠা-নামার কাজে সক্ষমতা অনেক বাড়বে। ফলে বিদ্যমান জেটি দিয়েই আমরা বাড়তি কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করতে পারব।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ











