ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ইন-চার্জ রেজিয়া বেগমের অপচিকিৎসায় এক নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু ও জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন প্রসুতি। ঘটনাটি ঘটেছে ১২ আগস্ট ভোরে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেলিভারী ওয়ার্ডে। স্থানীয়দের দাবি আর কত প্রসুতি ও নবজাতকের মৃত্যু হলে নার্স রেজিয়ারা শাস্তির আওতায় আসবে? এভাবে প্রতিদিন কয়েকজন নার্সের অপচিকিৎসায়্ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন কেউ না কেউ। ভুক্তভোগীদের কিউ মুখ খোলার সাহস পায়না, আবার কেউ প্রতিবাদ করলে প্রভাবশালীদের দিয়ে চাপ ও টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পার পেয়ে যায় এসব দুস্কৃতিকারী বিতর্কিত নার্সরা। প্রসুতির স্বজন, এলাকাবাসী, হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও একাধিক নার্স জানান, মনগাজী বাজার সংলগ্ন পশ্চিম সুজাপুর গ্রামের ডাক্তার বাড়ির ছদ্মনাম নাজমা আক্তারের প্রস্রব বেদনা ওঠলে এক দালালের মাধ্যমে নার্স রেজিয়া দরকষাকষির মাধ্যমে ওই প্রসুতির বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে কোন প্রকার পরীক্ষা নিরিক্ষা ছাড়া ওই প্রসুতির ডেলিভারীর চেষ্টা চালান তিনি। কয়েক ঘন্টা পর প্রসুতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রসুতির স্বজনদের দিয়ে প্রসুতিকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেলিভারী ওয়ার্ডে নিয়ে যান। সেখানে কয়েক ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে অপরিকল্পিতভাবে টেনে হিঁছড়ে নবজাতকটির ভুমিষ্ঠ করান। এর মধ্যে নবজাতক ও প্রসুতি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হন। এরপরও হাসপাতালের গাইনি কনসালটেন্ট বা গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কোন প্রকার পরামর্শ নেননি। এক পর্যায়ে প্রসুতি ও নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে উঠলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্রগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে নবজাতকটি মারা যায়। বিষয়টি নিয়ে প্রসুতির পরিবার প্রতিবাদ করলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিলে মোটা অংকের টাকা ও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে হুমকি দিয়ে প্রসুতির পরিবারের জবান বন্ধ করে দেন। প্রথমে নার্স রেজিয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ ও মামলার হুমকি দিলেও চাপে পড়ে ভুক্তভোগি পরিবারটি অজানা আতঙ্কে অনেকটা চুপচাপ হয়ে গেছেন।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে রেজিয়া বলেন, আমি তাদের সেবা করতে গিয়ে বিপদে পড়লাম। আমি আর কখনো কারো বাড়িতে গিয়ে ডেলিভারি করাবনা। মানবতা দেখাতে গিয়ে এখন বদনামের ভাগি হলাম।
প্রসঙ্গত; সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন নার্স রয়েছেন, যারা দালালদের মাধ্যমে প্রসুতিদের সংগ্রহ করেন। কেউ বেসরকারি হাসপাতালে চুক্তির মাধ্যমে সিজার করান। আবার কেউ নিজেদের খেয়াল খুশিমত হাসপাতাল অথবা বাসায় ডেলিভারি করান। আর এভাবে কেউ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করে নিচ্ছেন। বিতর্কিত নার্সদের মধ্যেও আন্তঃকোন্দল চরমে ওঠেছে। একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে চলেছেন। বিতর্কিত নার্সদের চিহ্নিত করে তাদের সম্পদ ও ব্যাংক একাউন্টের হিসাব চাইলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল! তাই হাসপাতালে কর্মরত অনেকেরই দাবি অর্থ সম্পদে ফুলেপেঁপেঁ ওঠা এসব নার্সদের বদলি বা অন্য কোন শাস্তি না দিয়ে আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো উচিৎ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিজনেস বাংলাদেশ/হাবিব












